বকেয়া বেতনের টাকা আদায় করার জন্য যদি মহিলাটি খুঁজে না পাওয়া যায়, তাহলে সদকা করে দেওয়ার অনুমতি আছে?

Miscellaneous Fiqh · Hanafi

Question No: 1666
Questioner: UJ
Question Asked: 16 Jun 2026, 06:06 AM
Reviewed & Published: 16 Jun 2026, 06:47 AM
Views: 57
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

২০২০ সালে আমার বাসায় এক বুয়া কাজ করতো। তিনি আমাদেরকে বলে গিয়েছিল যে তিনি গ্রামে চলে যাচ্ছেন এই কথা বলে সে কাজ ছেড়ে চলে গিয়েছিল। পরে সে আমার কাছে হাতেনাতে ধরা পড়ে যে সে আমাদেরই বাসার উপরের ফ্ল্যাটে কাজ করে, আমি তখন তাকে বলি যে, যে মাসে তিনি চলে গেছেন তার যে বাকি টাকা আছে সেটা নিয়ে যেতে। সেটা এসে তিনি নিয়ে যায়নি খালি দারোয়ানকে দিয়ে পাঠাতো যে তার টাকা দারোয়ান এর হাতে দিয়ে দিতে। আমি দাড়োয়ানের হাতে দিতে চাইনি আমি বলেছি যে, সে এসে যেন নিয়ে যায়। কিন্তু ওই মহিলা আর আসেনি। এরপরে আর যোগাযোগ হয়নি, তার নাম্বারে আমি ফোন দিছিলাম তাকে আর খুঁজে পাইনি। এখন তার এই পাওনা টাকা কিভাবে আমি শোধ করব?

Answer

প্রশ্ন:
২০২০ সালে আমার বাসায় এক বুয়া কাজ করত। তিনি গ্রামে চলে যাওয়ার কথা বলে কাজ ছেড়ে দেন। পরে দেখি তিনি আমাদেরই বাসার উপরের ফ্ল্যাটে কাজ করেন। আমি তখন তার বকেয়া টাকা নিয়ে আসতে বলি। তিনি দারোয়ানের মাধ্যমে টাকা নিতে চান, কিন্তু আমি সরাসরি দিতে চাই। তিনি আর এলেন না, ফোনেও পাওয়া যায় না। এখন তার পাওনা টাকা কীভাবে আদায় করব?

উত্তর:
بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله، والصلاة والسلام على رسول الله، أما بعد:

আপনার উপর মহিলার বকেয়া বেতন আদায় করাও ফরজ। কিন্তু যখন ঋণদাতাকে পাওয়া যাচ্ছে না এবং তার সাথে যোগাযোগের কোনো উপায় নেই, তখন শরিয়তের নির্দেশনা হলো:

১. তার টাকা (বকেয়া বেতনের পরিমাণ) আলাদা করে রেখে দিন এবং যতদূর সম্ভব তাকে খোঁজার চেষ্টা চালিয়ে যান। যদি আশা করা যায় যে একদিন পাওয়া যাবে, তবে টাকা সংরক্ষিত রাখা উচিত।

২. যদি সম্পূর্ণ নিরাশ হয়ে যান যে তাকে আর পাওয়া যাবে না, তাহলে তার অনুমতি ছাড়া ঐ টাকা তাঁর পক্ষ থেকে সদকা করে দেওয়া জায়েজ আছে। তবে শর্ত হলো—নিয়ত করবেন যে, এই সদকার সওয়াব ওই মহিলাকে পৌঁছাবে। আর যদি পরে ওই মহিলা হাজির হন, তাহলে আপনাকে আবার তাকে টাকা দিতে হবে। কারণ আপনার সদকা আপনার নিজের পক্ষ থেকে গণ্য হবে, ঋণ পরিশোধ হবে না। (সূত্র: রদ্দুল মুহতার, ৫/২৭৬; ফাতাওয়া উসমানী, ২/৫৪৩; ইমদাদুল ফাতাওয়া, ৪/৪৯০)

সারকথা:
আপনি চেষ্টা করবেন তাকে খুঁজে বের করার। যদি সম্ভব না হয়, তাহলে তার অনুমতি ছাড়া টাকা নিজে ব্যবহার করবেন না। বরং সেটি সদকা করে দিন, কিন্তু জেনে রাখুন—এতে ঋণ আদায় হবে না। পরবর্তীতে যদি তিনি আসেন, তাকে পুনরায় টাকা দিতে হবে।

والله أعلم بالصواب


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.