নিফাসের ৪০ দিন পর আবার রক্ত/বাদামি স্রাব দেখা দিলে নামাজের বিধান কী?

Miscellaneous Fiqh · Ahle Hadith / Salafi

Question No: 1446
Questioner: Fatema Bintay Karim
Question Asked: 10 Jun 2026, 01:46 PM
Reviewed & Published: 10 Jun 2026, 01:52 PM
Views: 47
This answer is according to the 'Ahle Hadith / Salafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম।
আমার বেবি হয়েছে ৪০দিন হলো। এতোদিন বন্ধ হয়ে হয়ে ব্লিডিং হচ্ছিলো। আজকে ৪১তম দিন। আমি আজকে সকাল থেকে একটু একটু ব্লিডিং হতে দেখছি, আবার বাদামি বর্ণের স্রাবও যেতে দেখেছি। আমি কি নামাজ পড়তে পারবো? পড়তে পারলে কিভাবে পড়বো?

Answer

উত্তর:
ওয়া আলাইকুম আসসালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।

প্রথমেই জেনে রাখা জরুরি যে, নিফাস (প্রসবোত্তর রক্তস্রাব) সম্পর্কে সালাফি/আহলে হাদীস ফিকহের মূলনীতি হলো:

১. নিফাসের সর্বোচ্চ সময়কাল:

অধিকাংশ সাহাবী ও তাবেয়ী এবং ইমাম আহমাদ ইবন হাম্বল, ইমাম শাফেয়ী (রহিমাহুমুল্লাহ) সহ সালাফে সালেহীনের মত হলো—নিফাসের সর্বোচ্চ সময় ৪০ দিন। তবে কোনো কোনো সালাফ (যেমন ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেছেন, নিফাসের কোনো নির্দিষ্ট সর্বোচ্চ সীমা নেই; বরং রক্ত বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত নিফাস চলতে পারে। কিন্তু অধিকাংশ সালাফ ও আধুনিক scholars-এর মত হলো ৪০ দিন।

শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ) বলেন:

"নিফাসের সর্বোচ্চ সীমা ৪০ দিন, এর বেশি হলে তা ইস্তিহাজা (অবিরাম রক্ত) হিসেবে গণ্য হবে।" (মাজমু ফাতাওয়া, ২২/২৩৫)

শাইখ ইবন বায (রহিমাহুল্লাহ) বলেন:

"নিফাসের সময় সাধারণত ৪০ দিন পর্যন্ত হয়। এর বেশি হলে নারী ইস্তিহাজায় আক্রান্ত বলে গণ্য হবে এবং সে নামাজ পড়বে, রোজা রাখবে এবং স্বাভাবিকভাবে ইবাদত করবে।" (মাজমু ফাতাওয়া, ১০/২২৩)

শাইখ সালিহ আল-ফাওযান (হাফিজাহুল্লাহ) বলেন:

"নিফাসের সর্বোচ্চ সময়কাল ৪০ দিন। এর বেশি রক্ত গেলে তা ইস্তিহাজা। তবে রক্ত যদি ৪০ দিনের কমেই বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে গোসল করে নামাজ ও ইবাদত শুরু করবে।" (আল-মুনতাকা, ১/১৮৯)

২. আপনার অবস্থার ফয়সালা:

আপনি বলেন, ৪০ দিন পর আবার রক্ত ও বাদামি স্রাব দেখছেন। শরীয়তে বাদামি (হালকা বাদামি/পানির মতো) স্রাব যদি মাসিক বা নিফাসের রক্তের শেষাংশ হয়, তাহলে তা নিফাসের অন্তর্ভুক্ত। কিন্তু যেহেতু ৪০ দিন পূর্ণ হয়ে গেছে, তাই এখন দেখা রক্ত নিফাস নয়, বরং ইস্তিহাজা হিসেবে গণ্য হবে।

শাইখ ইবন উসাইমীন (রহিমাহুল্লাহ) বলেন:

"যদি নারীর রক্ত ৪০ দিনের বেশি চলে, তাহলে তা ইস্তিহাজা। আর ইস্তিহাজায় নারী নামাজ, রোজা ও যাবতীয় ইবাদত করবে।" (আশ-শারহুল মুমতি, ১/৪৩৫)

তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়: আপনি যদি ৪০ দিনের মধ্যেই রক্ত পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর আবার রক্ত দেখে থাকেন, তাহলে তা নিশ্চিতভাবে ইস্তিহাজা। আর যদি ৪০ দিনের মধ্যে রক্ত কখনো পুরোপুরি বন্ধ না হয় (অর্থাৎ কিছু না কিছু চলতে থাকে), তাহলে ৪০ দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো নিফাস চলছে বলে ধরা হবে না; বরং ৪০ দিন পূর্ণ হবার পর থেকে তা ইস্তিহাজা।

৩. আপনার করণীয়:

  • বর্তমানে আপনি নামাজ পড়তে পারবেন, ইনশাআল্লাহ। কারণ ৪০ দিন পূর্ণ হয়ে গেছে।
  • প্রতি ওয়াক্তের জন্য অজু করে নামাজ পড়ুন (ইস্তিহাজার বিধান অনুযায়ী)।
  • বাদামি স্রাব বা একটু একটু রক্ত ইবাদতে কোনো বাধা নয়। এগুলো ইস্তিহাজার অন্তর্ভুক্ত।
  • গোসল করার প্রয়োজন নেই, শুধু অজু করলেই যথেষ্ট।

দলিল:
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইস্তিহাজায় আক্রান্ত মহিলাকে বলেছেন:

"তুমি অজু করো এবং নামাজ পড়ো।" (সহীহ মুসলিম, হাদীস: ৩৩৪)

৪. একটি বিশেষ সতর্কতা:

যদি কেউ বলেন, "আমার রক্ত ৪০ দিনের কমেই বন্ধ হয়েছিল, তারপর আবার শুরু হয়েছে", তাহলে প্রথম বন্ধ হওয়ার সময় সে গোসল করে নামাজ পড়বে। পুনরায় রক্ত আসলে তা ইস্তিহাজা এবং নামাজ অব্যাহত রাখবে।

৫. সংক্ষিপ্ত সিদ্ধান্ত:

  • আপনি এখন নামাজ পড়তে পারবেন।
  • প্রতি ওয়াক্তের জন্য অজু করুন।
  • বাদামি স্রাব বা হালকা রক্ত ইবাদতে বাধা নয়।
  • নিফাসের শেষ ৪০ দিনের বেশি হলে তা ইস্তিহাজা।

আল্লাহই সর্বজ্ঞ।



This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.