হানাফী ফিকহ অনুযায়ী গান শুনলে ঈমান চলে যায় কিনা?

Miscellaneous Fiqh · Hanafi

Question No: 1317
Questioner: Mohammad Saiful Islam
Question Asked: 06 Jun 2026, 10:28 PM
Reviewed & Published: 06 Jun 2026, 10:32 PM
Views: 41
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

১।শরীয়তের বিধান কে উপহাশ করতে নয়, ঠাট্টা বিদ্রুপ করতে নয় এটাকে হালাল মনে না করলে এমনিতেই বিনোদনের জন্য বা দুঃখের গান শুনলে জানি গোনাহ এবং শাস্তি হতে পারে তাহলে ইমান চলে যাবে ?

Answer

উত্তর:
আপনার প্রশ্নের সারমর্ম: কেউ যদি শরীয়তের বিধানকে উপহাস বা ঠাট্টা না করে, এবং গানকে হালাল মনে না করে, তবে শুধু বিনোদন বা দুঃখের জন্য গান শোনে এবং জানে যে এটি গুনাহ ও শাস্তির কারণ, তাহলে কি তার ঈমান চলে যাবে?

উত্তর: না, ঈমান চলে যাবে না। তবে এটি একটি গুরুতর গুনাহ, যা থেকে তওবা করা আবশ্যক।

বিস্তারিত ব্যাখ্যা

১. গান-বাজনার হুকুম (হানাফি মতে):

  • হানাফি ফিকহ অনুসারে, বাদ্যযন্ত্রসহ গান শোনা হারাম। কেবল দফ (এক প্রকার খঞ্জরী) ব্যবহার করে বিবাহ ইত্যাদি বৈধ occasions-এ গান গাওয়া জায়েয আছে। (রদ্দুল মুহতার, ৬/৩৪৭; আল-হিদায়া)
  • তবে সাধারণ বিনোদন বা দুঃখ প্রকাশের জন্য গান শোনা (যদিও তাতে বাদ্যযন্ত্র থাকে) গুনাহ।

২. গুনাহ করলে ঈমান যাওয়ার শর্ত:

  • ইসলামী আকীদা অনুযায়ী, কোনো গুনাহ করলেই ঈমান চলে যায় না। ঈমান যাওয়ার জন্য নিম্নলিখিত যেকোনো একটি শর্ত প্রয়োজন:
    • ইস্তিহলাল (হালাল মনে করা): কোনো হারাম কাজকে যদি কেউ হালাল বিশ্বাস করে, তবে সে কাফির হয়ে যায়। (রদ্দুল মুহতার, ৪/২২৭)
    • শরীয়তের বিধানকে উপহাস বা ঠাট্টা করা: শরীয়তের কোনো বিধানকে নিয়ে মশকরা করলে ঈমান নষ্ট হয়। (ফাতাওয়া উসমানী, ১/৩৩৬)
  • আপনার প্রশ্নে উল্লেখ করেছেন যে, গানকে হালাল মনে করা হয়নি এবং শরীয়তের বিধানকে ঠাট্টা করা হয়নি। তাই শুধু গান শোনার গুনাহের কারণে ঈমান যাবে না।

৩. প্রমাণ ও উক্তি:

  • হাদীস: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: “ব্যভিচারী ব্যভিচারের সময় মুমিন থাকে না, চোর চুরির সময় মুমিন থাকে না…” (বুখারী, ২৪৭৫)। অর্থাৎ গুনাহ করলে ঈমানের পূর্ণতা যায়, কিন্তু ঈমানের মূল (আসল) চলে যায় না যতক্ষণ না তাকে হালাল মনে করা হয় বা কুফরী করা হয়।
  • ফাতাওয়া উসমানী: “কোনো গুনাহ করলে ঈমান চলে যায় না, যতক্ষণ না সে উক্ত গুনাহকে হালাল মনে করে বা শরীয়তকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে।” (ফাতাওয়া উসমানী, ১/৩৩৫)
  • ইমদাদুল ফাতাওয়া: “গান-বাজনা হারাম, কিন্তু তা হালাল না মনে করলে গুনাহগার হবে, কাফির হবে না।” (ইমদাদুল ফাতাওয়া, ৪/২৮৩)
  • মাআরিফুল কুরআন: “গুনাহ করলে ঈমান নষ্ট হয় না; কিন্তু ইস্তিহলাল বা উপহাস করলে ঈমান চলে যায়।” (মাআরিফুল কুরআন, ২/৪৫৩)

গুরুত্বপূর্ণ নোট

  • গান শোনা কবীরা গুনাহ। তাই শুধু ‘ঈমান যাবে না’ ভেবে উদাসীন হওয়া উচিত নয়। অবশ্যই তওবা করতে হবে এবং ভবিষ্যতে গান শোনা থেকে বিরত থাকতে হবে।
  • দুঃখের সময় কুরআন তিলাওয়াত, জিকির বা ইসলামী নাশিদ (বাদ্যযন্ত্র ছাড়া) শোনা উত্তম।

সারসংক্ষেপ

  • ঈমান যাবে কি? না, যাবে না।
  • গুনাহ হবে কি? হ্যাঁ, গুনাহ হবে এবং শাস্তির যোগ্য।
  • করণীয়: তওবা করুন, আল্লাহর কাছে ক্ষমা চান এবং গান শোনা ছেড়ে দিন।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে গুনাহ থেকে বাঁচিয়ে সঠিক পথে চলার তাওফীক দান করুন। (আমীন)


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.