সালাত

Salah-Prayer · Hanafi

Question No: 102
Questioner: Champa0395
Question Asked: 14 May 2026, 10:25 PM
Reviewed & Published: 16 May 2026, 04:54 PM
Views: 17
Tokens: 3,302
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

কোনো মেয়ে হানাফি ফিকহ অনুসরণ করে যদি রাসুল সা. এর মত সেজদা দেয়, কিন্তু সেম ওই ভাবে আঁটোসাটো হয়ে, তাহলে নামাজ হবে কি?

Answer

প্রশ্নের উত্তর

আপনার প্রশ্নের সারমর্ম: একজন মহিলা হানাফি মাজহাব অনুসরণ করে যদি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সেজদার পদ্ধতি অনুসরণ করে (যা পুরুষদের জন্য সুন্নত) অর্থাৎ হাত ও পা ফাঁকা করে সেজদা দেয়, কিন্তু একই সাথে সে যদি গুটিয়ে (মহিলাদের জন্য নির্ধারিত পদ্ধতি) সেজদা দেয়, তাহলে তার নামাজ হবে কি না?—এখানে দুটি ভিন্ন পদ্ধতি একসাথে করা সম্ভব নয়, তাই প্রশ্নটি বোধগম্য নয়। তবে আপনার মূল জিজ্ঞাসা হতে পারে: মহিলা যদি পুরুষের মতো সেজদা দেয় (হাত-পা ফাঁকা করে), তাহলে কি তার নামাজ শুদ্ধ হবে? নিচে হানাফি ফিকহের আলোকে বিস্তারিত উত্তর দেওয়া হলো।

উত্তর:

হানাফি মাজহাব অনুযায়ী, মহিলাদের জন্য সেজদায় গুটিয়ে বসা (পেট উরুর সাথে লাগিয়ে, হাত ও পা সংকুচিত করে রাখা) মুস্তাহাব (পছন্দনীয়) এবং অধিক পর্দা রক্ষাকারী। অন্যদিকে, পুরুষদের জন্য সেজদায় পেটকে উরু থেকে পৃথক রাখা, হাতের কনুই মাটি থেকে উঁচু রাখা এবং পায়ের আঙুল সোজা কিবলামুখী করে ফাঁকা করে রাখা সুন্নত।

যদি কোনো মহিলা ইচ্ছাকৃতভাবে পুরুষের পদ্ধতিতে সেজদা দেয় (যেমন হাত ও পা ফাঁকা করে, কনুই মাটি থেকে উপরে রাখে), তাহলে তার নামাজ আদায় হয়ে যাবে (সহিহ হবে)। তবে এটি মাকরুহ তানজিহি (অপছন্দনীয়) হিসেবে গণ্য হবে, কারণ সে সুন্নতের বিপরীত কাজ করল। কিন্তু নামাজের মৌলিক রুকন (সেজদায় সাত অঙ্গ রাখা ইত্যাদি) আদায় হওয়ায় নামাজ নষ্ট হবে না।

বরং যদি সে মহিলাদের জন্য নির্ধারিত পদ্ধতি (গুটিয়ে বসা) ছেড়ে পুরুষের পদ্ধতি গ্রহণ করে, তবে তা সুন্নতের খিলাফ হলেও নামাজ শুদ্ধ হবে। হানাফি ফিকহের কিতাবসমূহে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, মহিলাদের জন্য সেজদায় গুটিয়ে বসা আদব (আদাব) বা মুস্তাহাব, ওয়াজিব নয়। তাই এটি না করলে নামাজ বাতিল হয় না।

গুরুত্বপূর্ণ দিক:

  • হানাফি মাজহাবের মূলনীতি: ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মতে, মহিলা ও পুরুষের নামাজের পদ্ধতিতে পার্থক্য শুধু আদব ও সুন্নত পর্যায়ের, রুকন বা ওয়াজিব নয়। তাই মহিলা যদি পুরুষের মতো সেজদা দেয়, তবুও তার নামাজ সহিহ।
  • মাসলা: "للمرأة أن تضم أعضاءها في السجود وتلتصق بالأرض" (মহিলার জন্য সেজদায় অঙ্গগুলো সংকুচিত করা এবং মাটির সাথে লেগে থাকা মুস্তাহাব)। যদি না করে, তবুও নামাজ সহিহ। (রদ্দুল মুহতার, ২/২৩২; ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ১/৭৩)
  • উপসংহার: আপনার প্রশ্নে "গুটুসুটু হয়ে" (মহিলাদের পদ্ধতি) এবং "রাসুল সা.-এর সেজদা" (পুরুষদের পদ্ধতি) একত্রে উল্লেখ করায় দ্বিধা সৃষ্টি হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে, মহিলা যদি পুরুষের পদ্ধতিতেই সেজদা দেয়, তবে নামাজ হবে। আর যদি সে মহিলাদের পদ্ধতি (গুটিয়ে) অনুসরণ করে, তবে তা উত্তম এবং পূর্ণ সুন্নতের অনুসরণ হবে।

রেফারেন্স (হানাফি কিতাব):

  • আল-হিদায়া (১/২২৮) - সেজদার পার্থক্য না মানলে নামাজ নষ্ট হয় না।
  • বাহিশ্তি জেওর (মহিলাদের নামাজ অধ্যায়) - "মহিলারা সেজদায় মাটিতে লেপ্টে থাকবে, কিন্তু তা না করলেও নামাজ ভাঙবে না।"
  • ফাতাওয়া উসমানি (২/৫৩) - "মহিলাদের জন্য বিশেষ আদব, ওয়াজিব নয়।"

This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.