যদি কোনো যোগ্য পাত্র না আসে তাহলে বিয়ের জন্য কিভাবে ইস্তিখারা করব কতদিন করব?

Salah-Prayer · Hanafi

Questioner: Md shorif Uddin
Question Asked: 29 May 2026, 01:37 PM
Reviewed & Published: 29 May 2026, 01:50 PM
Views: 49
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

যদি কোনো যোগ্য পাত্র না আসে
তাহলে বিয়ের জন্য কিভাবে ইস্তিখারা করব
কতদিন করব

Answer

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

প্রশ্ন: যদি কোনো যোগ্য পাত্র না আসে তাহলে বিয়ের জন্য কিভাবে ইস্তিখারা করব? আর কতদিন করব?

উত্তর: ইস্তিখারা শুধু কোনো নির্দিষ্ট পাত্র বা পাত্রী নির্বাচনের জন্যই নয়, বরং যেকোনো বৈধ বিষয়ে আল্লাহর নিকট কল্যাণ প্রার্থনার একটি সুন্নত আমল। যখন কোনো যোগ্য পাত্র (পাত্রী) আসছে না, তখন আপনি বিয়ের সাধারণ সিদ্ধান্ত বা ভালো পাত্র পাওয়ার জন্য ইস্তিখারা করতে পারেন। এটি কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির জন্য ইস্তিখারা নয়, বরং বিষয়টির কল্যাণ কামনা করা।

ইস্তিখারা করার পদ্ধতি (যখন কোনো নির্দিষ্ট পাত্র না থাকে)

১. নিয়ত: মনে মনে এই নিয়ত করুন যে, "হে আল্লাহ! আমি বিয়ের জন্য ইস্তিখারা করছি, আপনি আমার জন্য কল্যাণকর পাত্র নির্ধারণ করুন এবং যাতে আমার দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ হয়।"

২. ইস্তিখারার নামাজ ও দোয়া: সাধারণ ইস্তিখারার নিয়ম অনুযায়ী ২ রাকাত নফল নামাজ পড়ুন (সূরা ফাতিহার পর প্রথম রাকাতে সূরা কাফিরুন, দ্বিতীয় রাকাতে সূরা ইখলাস পড়া মুস্তাহাব)। নামাজের পর নিম্নোক্ত দোয়াটি পড়ুন:

اَللّٰهُمَّ إِنِّيْ أَسْتَخِيْرُكَ بِعِلْمِكَ، وَأَسْتَقْدِرُكَ بِقُدْرَتِكَ، وَأَسْأَلُكَ مِنْ فَضْلِكَ الْعَظِيْمِ، فَإِنَّكَ تَقْدِرُ وَلَا أَقْدِرُ، وَتَعْلَمُ وَلَا أَعْلَمُ، وَأَنْتَ عَلَّامُ الْغُيُوْبِ. اَللّٰهُمَّ إِنْ كُنْتَ تَعْلَمُ أَنَّ هٰذَا الْأَمْرَ (এখানে আপনার প্রয়োজন বা বিষয়টি উল্লেখ করুন) خَيْرٌ لِيْ فِيْ دِيْنِيْ وَمَعَاشِيْ وَعَاقِبَةِ أَمْرِيْ، فَاقْدُرْهُ لِيْ وَيَسِّرْهُ لِيْ، ثُمَّ بَارِكْ لِيْ فِيْهِ. وَإِنْ كُنْتَ تَعْلَمُ أَنَّ هٰذَا الْأَمْرَ شَرٌّ لِيْ فِيْ دِيْنِيْ وَمَعَاشِيْ وَعَاقِبَةِ أَمْرِيْ، فَاصْرِفْهُ عَنِّيْ وَاصْرِفْنِيْ عَنْهُ، وَاقْدُرْ لِيَ الْخَيْرَ حَيْثُ كَانَ، ثُمَّ أَرْضِنِيْ بِهِ.

বাংলা উচ্চারণ: "আল্লাহুম্মা ইন্নী আস্তাখীরুকা বি'ইলমিকা, ওয়া আস্তাক্বদিরুকা বি ক্বুদরাতিকা, ওয়া আসআলুকা মিন ফাদ্বলিকাল 'আযীমি। ফাইন্নাকা তাক্বদিরু ওয়া লা আক্বদিরু, ওয়া তা'লামু ওয়া লা আ'লামু, ওয়া আনতা 'আল্লামুল গুইয়ুব। আল্লাহুম্মা ইন কুনতা তা'লামু আন্না হাযাল আমরা (এখানে আপনার প্রয়োজন বা বিষয়টি উল্লেখ করুন) খাইরুন লী ফী দীনী ওয়া মাআশী ওয়া 'আক্বিবাতি আমরী, ফাক্বদুরহু লী ওয়া ইয়াসসিরহু লী, সুম্মা বারিক লী ফীহ। ওয়া ইন কুনতা তা'লামু আন্না হাযাল আমরা শাররুন লী ফী দীনী ওয়া মাআশী ওয়া 'আক্বিবাতি আমরী, ফাস্রিফহু 'আন্নী ওয়াস্রিফনী 'আনহু, ওয়াক্বদুর লিয়াল খাইরা হাইসু কানা, সুম্মা আরদ্বিনী বিহী।"

অর্থ: "হে আল্লাহ! আমি আপনার ইলমের মাধ্যমে কল্যাণ প্রার্থনা করছি, আপনার কুদরতের মাধ্যমে ক্ষমতা প্রার্থনা করছি এবং আপনার মহা অনুগ্রহ প্রার্থনা করছি। নিশ্চয়ই আপনি ক্ষমতাবান, আমি ক্ষমতাবান নই; আপনি জানেন, আমি জানি না; আর আপনি অদৃশ্যের জ্ঞানী। হে আল্লাহ! যদি আপনি জানেন যে এই কাজ (বিয়ে করা / ভালো পাত্র পাওয়া) আমার দীন, আমার জীবন ও আমার পরিণতির জন্য কল্যাণকর, তবে তা আমার জন্য নির্ধারণ করুন, সহজ করে দিন এবং তাতে বারাকাহ দিন। আর যদি আপনি জানেন যে এই কাজ আমার জন্য অকল্যাণকর, তবে তা থেকে আমাকে বিরত রাখুন এবং আমাকে তা থেকে বিরত রাখুন, এবং যেখানেই কল্যাণ থাকে তা আমার জন্য নির্ধারণ করুন, অতঃপর আমাকে তাতে সন্তুষ্ট করে দিন।"

(দ্রষ্টব্য: দোয়ার বাক্যে "হাযাল আমরা" (এই কাজ) বলার সময় আপনার বিয়ের সিদ্ধান্ত বা ভালো পাত্র পাওয়ার বিষয়টি অন্তরে নিয়ত করুন বা মুখে বলতে পারেন: "বিয়ে করা" বা "ভালো পাত্র পাওয়া"।

কতদিন ইস্তিখারা করবেন?

  • ন্যূনতম: ইমাম নববী (রহ.) ও অন্যান্য হানাফি ফুকাহায়ে কেরামের মতে, অন্তত ৭ দিন পর্যন্ত ইস্তিখারা করা মুস্তাহাব। (কিতাবুল আযকার, ফাতাওয়া শামী)
  • বেশি সময়: প্রয়োজনে ৪০ দিন পর্যন্তও করা যায়। (ফাতাওয়া হিন্দিয়া, রদ্দুল মুহতার)
  • নিয়ম: প্রতিদিন ২ রাকাত নামাজ পড়া সম্ভব না হলে, যেকোনো সুবিধাজনক সময়ে পড়বেন। তবে প্রতিদিন নিয়মিত করার চেষ্টা করুন।

ইস্তিখারার ফলাফল বুঝবেন কীভাবে?

ইস্তিখারা করার পর স্বপ্ন দেখা জরুরি নয়। মূল ফলাফল হলো:

  1. মনে শান্তি ও স্বস্তি আসা – বিষয়টি নিয়ে দ্বিধা দূর হওয়া।
  2. প্রতিকূল পরিবর্তন – কোনো বাধা বা অসুবিধা দেখা দিলে বিষয়টি থেকে বিরত থাকা।
  3. রাস্তা সহজ হওয়া – পাত্র বা ব্যবস্থা আসা।

হানাফি কিতাবের রেফারেন্স

  • রদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদীন): ইস্তিখারা ৭ দিন পর্যন্ত করার কথা উল্লেখ আছে। (২/৪৫)
  • ফাতাওয়া হিন্দিয়া: "ইস্তিখারা তিন থেকে সাত দিন পর্যন্ত করা উচিত।" (৫/৩৫৮)
  • ইমদাদুল ফাতাওয়া (মুফতি মুহাম্মদ শফি): ইস্তিখারার নিয়ম ও সময়সীমা বিস্তারিত বর্ণনা করেছেন।
  • বাহিশতি জেওর (মাওলানা আশরাফ আলী থানভি): ইস্তিখারার সহজ পদ্ধতি দিয়েছেন।

শেষ কথা

যোগ্য পাত্র না পাওয়া মানে আল্লাহ হয়তো এখনই আপনার জন্য বিয়ের সময় মনে করেননি। তাই ইস্তিখারা করে ধৈর্য ধারণ করুন এবং আল্লাহর উপর ভরসা রাখুন। পাশাপাশি সমাজের নিকট আত্মীয়স্বজন, মসজিদের ইমাম বা বিশ্বস্ত লোকেদের মাধ্যমে খোঁজ চালিয়ে যান। আল্লাহ উত্তম পাত্র পাঠাবেন, ইনশাআল্লাহ।

আল্লাহু আলাম। (আল্লাহই সবচেয়ে ভাল জানেন।)


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.