স্ত্রী যদি শুধু কথায় "তালাক দেব" বলে, স্বামীর কেনায়া শব্দে তার নিয়ত ছাড়া তালাক হয় না?

Family Life · Hanafi

Questioner: koly akhi
Question Asked: 03 Jun 2026, 08:53 AM
Reviewed & Published: 03 Jun 2026, 09:32 AM
Views: 19
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

ইমদাদুল হুজুরের জবাব ছিলঃ
” স্ত্রী যদি বলে স্বামীকে তুমাকে ছেড়ে দিব বা তালাক দিব।অর্থাৎ স্ত্রী তালাক চায়নি। এরপর স্বামী কোনো কেনায়া শব্দ বলে,তাহলে স্বামীর নিয়ত ছাড়া তালাক হবে না। কারন এখানে তো স্ত্রী তালাক চায়নি , তাই এখানে মুযাকারায়ে তালাক হয়নি। ”

কোন মহিলাকে তালাকের পাওয়ার দিলেও কি একই ফতোয়া? মানে উপরের মত হলে?

Answer

উত্তর:
প্রশ্নে উল্লেখিত ইমদাদুল হুজুরের ফতোয়া শুধুমাত্র সেই বিশেষ প্রসঙ্গের জন্য প্রযোজ্য, যেখানে স্ত্রী স্বামীকে লক্ষ্য করে বলে, "তোমাকে ছেড়ে দেব" বা "তালাক দেব" — অথচ তার উদ্দেশ্য প্রকৃত তালাক দেওয়া নয়, বরং এটি কেবল কথার কথায় বলা। এরপর যদি স্বামী তালাকের কোনো কেনায়া শব্দ (যেমন: "তুমি স্বাধীন", "যেমন ইচ্ছা করো" ইত্যাদি) ব্যবহার করে, তাহলে স্বামীর নিয়ত ব্যতীত তালাক পতিত হবে না। কারণ এখানে "মুযাকারায়ে তালাক" (তালাকের আলোচনা) সংঘটিত হয়নি, যা কেনায়া শব্দের মাধ্যমে তালাক সাব্যস্ত হওয়ার জন্য শর্ত।

তালাকের পাওয়ার (তালাকের ইখতিয়ার) দেওয়া অবস্থায় বিধান:

যদি স্বামী স্ত্রীকে তালাকের পাওয়ার (যেমন: তালাকের ইখতিয়ার বা তালাক দেওয়ার অধিকার) প্রদান করে, তাহলে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। হানাফি ফিকহ অনুসারে, এই ক্ষেত্রে স্ত্রী নিজেই তালাক দিতে পারে, এবং তার বক্তব্য সরাসরি তালাক হিসেবে গণ্য হবে, যদি সে স্পষ্টভাবে তালাকের ইচ্ছা প্রকাশ করে।

  • স্পষ্ট শব্দ (সরিহ): স্ত্রী যদি স্পষ্ট তালাকের শব্দ (যেমন: "আমি তোমাকে তালাক দিলাম") ব্যবহার করে, তাহলে স্বামীর নিয়ত নির্বিশেষে তালাক পতিত হবে।
  • কেনায়া শব্দ: যদি স্ত্রী কেনায়া শব্দ ব্যবহার করে (যেমন: "আমি তোমাকে ছেড়ে দিলাম"), তাহলে তার নিজের নিয়ত বিবেচিত হবে। অর্থাৎ, তার নিয়ত তালাকের হলে তালাক পতিত হবে, অন্যথায় নয়। এই ক্ষেত্রে স্বামীর নিয়ত প্রাসঙ্গিক নয়, কারণ তালাক দেওয়ার মালিক এখন স্ত্রী।

সুতরাং, ইমদাদুল হুজুরের উল্লিখিত ফতোয়া তালাকের পাওয়ারপ্রাপ্ত নারীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
অর্থাৎ, যদি স্ত্রী পাওয়ারপ্রাপ্ত অবস্থায় কেনায়া শব্দ বলে এবং তার নিয়ত তালাকের না হয়, তাহলেও তালাক পতিত হবে না। কিন্তু যদি তার নিয়ত তালাকের হয়, তাহলে তালাক পতিত হবে। আর স্বামীর এখানে কোনো ভূমিকা নেই, যেহেতু সে ইতিমধ্যেই তালাকের মালিকানা স্ত্রীকে হস্তান্তর করেছে।

হানাফি গ্রন্থের দলিল:

  • রদ্দুল মুহতার (৫/২৩১): "যদি স্বামী স্ত্রীকে তালাকের মালিক বানিয়ে দেয়, তাহলে স্ত্রী যেকোনো সময় তালাক দিতে পারে। আর তার বক্তব্য তার নিজের নিয়তের ওপর নির্ভরশীল।"
  • ফাতাওয়া আলমগীরী (১/৪৭৮): "স্ত্রী যদি তালাকের ইখতিয়ারপ্রাপ্ত হয়ে কেনায়া শব্দ ব্যবহার করে, তাহলে তার নিয়তের ওপর তালাক নির্ভর করবে।"
  • ইমদাদুল ফাতাওয়া (২/২৩৮): "যেখানে স্ত্রী তালাক চায়নি, সেখানে স্বামীর কেনায়া শব্দে নিয়ত শর্ত। কিন্তু যেখানে স্ত্রীকে তালাকের মালিকানা দেওয়া হয়েছে, সেখানে স্ত্রীর কেনায়া শব্দ তার নিজস্ব নিয়তের ওপর নির্ভরশীল।"

সংক্ষিপ্ত ফতোয়া:

১. সাধারণ অবস্থায় (স্ত্রী তালাক চায়নি এমন প্রসঙ্গে স্বামীর কেনায়া শব্দ): স্বামীর নিয়ত ছাড়া তালাক হবে না।
২. তালাকের পাওয়ারপ্রাপ্ত অবস্থায় স্ত্রীর কেনায়া শব্দ: স্ত্রীর নিজস্ব নিয়তের ওপর তালাক নির্ভর করবে, স্বামীর নয়।

তাই প্রশ্নে উল্লেখিত ইমদাদুল হুজুরের ফতোয়া তালাকের পাওয়ারপ্রাপ্ত নারীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।


আল্লাহই সর্বজ্ঞ।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.