স্ত্রী তালাকের অধিকার ফিরিয়ে দিলে কি হয়?

Family Life · Hanafi

Questioner: koly akhi
Question Asked: 03 Jun 2026, 08:37 AM
Reviewed & Published: 03 Jun 2026, 08:40 AM
Views: 49
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

ইমদাদুল হুজুরের জবাব ছিলঃ
” স্ত্রী যদি বলে স্বামীকে তুমাকে ছেড়ে দিব বা তালাক দিব।অর্থাৎ স্ত্রী তালাক চায়নি। এরপর স্বামী কোনো কেনায়া শব্দ বলে,তাহলে স্বামীর নিয়ত ছাড়া তালাক হবে না। কারন এখানে তো স্ত্রী তালাক চায়নি , তাই এখানে মুযাকারায়ে তালাক হয়নি। ”

এখন প্রশ্ন হচ্ছে কোন মহিলাকে স্বামী তালাকের পাওয়ার দিলে মহিলা নিজেকে না দিয়ে স্বামীকে দিলে কি তালাক হয়? আর এরপর স্বামী নিয়ত ছাড়া যদি বলে সব সম্পর্ক শেষ,তুমি আর আমি আলাদা হয়ে গেছি এভাবে নিয়ত ছাড়া বললে বা স্ত্রীকে ভয় দেখানোর জন্য দুষ্টামি করে বললে কি তালাক হয়?নিয়ত ছাড়া?

Answer

বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম
উত্তর:

প্রশ্নটিতে দুটি অংশ রয়েছে:
১. স্বামী স্ত্রীকে তালাকের পাওয়ার (তালাক-ই-তাফউইজ) দিলে, স্ত্রী নিজেকে তালাক না দিয়ে সেই পাওয়ার স্বামীকেই ফিরিয়ে দিলে কি তালাক হয়?
২. এরপর স্বামী যদি নিয়ত ছাড়া কিংবা দুষ্টামি বা ভয় দেখানোর জন্য কেনায়া শব্দ (যেমন: সব সম্পর্ক শেষ, তুমি আর আমি আলাদা হয়ে গেছি) বলে, তাহলে কি তালাক পতিত হবে?

প্রথম অংশের উত্তর:

স্বামী স্ত্রীকে তালাকের অধিকার দিলে (তাফউইজে তালাক), স্ত্রী চাইলে নিজেকে তালাক দিতে পারে। কিন্তু যদি সে সেই অধিকার ব্যবহার না করে বরং তা স্বামীর কাছে ফিরিয়ে দেয়, তাহলে কোনো তালাক পতিত হয় না। কারণ তালাকের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া তালাকের সিগাহ (ঘোষণা) নয়; এটি কেবল অধিকার পরিত্যাগ। এতে স্ত্রী-স্বামীর বিবাহ বহাল থাকে।

হানাফি কিতাবের উল্লেখ:

  • রদ্দুল মুহতার (৩/২৪৮):

    "إذا فوّض الزوج الطلاق إلى امرأته فلم تطلق نفسها بل ردّت الأمر إليه، لا يقع الطلاق."
    (যদি স্বামী স্ত্রীকে তালাকের অধিকার দেয়, কিন্তু স্ত্রী নিজেকে তালাক না দিয়ে বরং তা স্বামীর কাছে ফিরিয়ে দেয়, তাহলে তালাক পতিত হয় না।)

  • ফাতাওয়া শামি (৩/২৪৯):
    "ولو ردت الأمر إليه، لا يقع شيء."

দ্বিতীয় অংশের উত্তর:

স্বামী যদি কেনায়া শব্দ (যেমন: সব সম্পর্ক শেষ, তুমি আর আমি আলাদা, আমরা আর স্বামী-স্ত্রী নই ইত্যাদি) উচ্চারণ করে, তাহলে তালাক পতিত হওয়ার জন্য নিয়ত অপরিহার্য। নিয়ত না থাকলে বা দুষ্টামি/ভয় দেখানোর উদ্দেশ্যে বললে তালাক হবে না। কারণ কেনায়া শব্দ তালাকের জন্য স্পষ্ট নয়; এটি তালাকের অর্থ বহন করতে পারে বা অন্য উদ্দেশ্যেও হতে পারে। তাই নিয়ত ছাড়া তা তালাক গণ্য হবে না।

হানাফি কিতাবের উল্লেখ:

  • রদ্দুল মুহতার (৩/২৮২):

    "الكناية لا يقع بها الطلاق إلا بالنية."
    (কেনায়া শব্দে নিয়ত ব্যতীত তালাক পতিত হয় না।)

  • ফাতাওয়া উসমানি (৩/৫২):
    "কেনায়া শব্দে তালাকের জন্য নিয়ত জরুরি। নিয়ত না থাকলে তালাক হয় না।"
  • ইমদাদুল ফাতাওয়া (২/৩১৫):
    "স্ত্রী যদি তালাক চায়নি, বরং স্বামী নিজে থেকে কেনায়া শব্দ বলে, তাহলে নিয়ত ছাড়া তালাক হবে না।"

বিশেষ নোট:

  • যদি স্বামী স্পষ্ট (সরীহ) শব্দ যেমন "তালাক" বলে, তাহলে নিয়ত ছাড়াই তালাক পতিত হবে। কিন্তু প্রশ্নে উল্লেখিত শব্দগুলো (সব সম্পর্ক শেষ, আলাদা হয়ে গেছি) কেনায়া পর্যায়ের। তাই নিয়ত আবশ্যক।
  • স্ত্রীকে ভয় দেখানোর জন্য বা দুষ্টামি করে বললেও তালাক হবে না, যতক্ষণ না স্বামীর অন্তরে তালাকের নিয়ত থাকে।

সারসংক্ষেপ:

১. স্ত্রী তালাকের পাওয়ার ফিরিয়ে দিলে কোনো তালাক হয় না।
২. এরপর স্বামী কেনায়া শব্দ নিয়ত ছাড়া বললে তালাক পতিত হবে না।

والله أعلم بالصواب



This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.