প্রোগ্রামিং রিলেটেড কন্টেস্ট এ উপস্থিত হওয়া যাবে কি যেখানে ছেলে মেয়ে উভয়ই অংশ নিতে পারে?

Miscellaneous Fiqh · Hanafi

Questioner: Rabeya Khatun
Question Asked: 03 Jun 2026, 03:24 PM
Reviewed & Published: 03 Jun 2026, 03:28 PM
Views: 58
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম। আমি একজন মেয়ে। একটা পাবলিক varsity তে পড়ি। আমাদের university তে একটা হ্যাকাথন আয়োজোন করা হয়েছিল যেখানে ছেলে মেয়ে সবাই ই অংশ নিয়েছিল। আমার টিমমেট ছিল ৩ টা মেয়ে। আমরা ক্লাসের এক পাশে বসে নিজেদের ল্যাপ্টপে কাজ করছিলাম।
এটায় অংশ নিয়েছিলাম এই কারণে যে এর মাধ্যমে আমি ভালো করে ওয়েবসাইট বানানো শিখব ইনশাআল্লাহ। আর কোনো কিছু ভালো ভাবে শেখা তো আল্লাহ তায়ালা পছন্দ করেন যেটা উপকারী অনেকটা এমন ভেবে।

এই কন্টেস্টে জাজ হিসাবে সিনিয়র ভাই-আপু, শিক্ষকরা ছিল। এই কনটেস্ট এর জন্য কনটেস্ট এর সময় কয়েকবার কথা বলতে হয়েছে অল্প সময় যদিও আর সবার সামনেই। যেমন আমাদের বেঞ্চের কাছে এসে আস্ক করেছিল যে কতটুকু কাজ হয়েছে এমন। আর লাস্ট এ দেখানো লাগছে ওয়েবসাইট।

আর একবার একটা চার্জার চেয়েছিলাম যখন আমাদের খাবার দিতে এসেছিল। এ ধরনের কন্টেস্ট এ উপস্থিত হওয়া যাবে কি? যদি সামনে হয় আবার? এটা আমদের ডেপ্ট থেকেই হয়েছিল।

Answer

উত্তর:
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

আপনার প্রশ্নের জন্য ধন্যবাদ। ইসলামে নারী-পুরুষের মেলামেশা (মিশ্র পরিবেশ) সম্পর্কে কঠোর সতর্কতা রয়েছে। আপনার বর্ণিত হ্যাকাথনটি এমন একটি মিশ্র পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে পুরুষ ও নারী অংশগ্রহণকারী, জাজ, শিক্ষক ও অন্যান্য কর্মীরা একত্রিত ছিলেন। নিচে ইসলামী বিধান ও হানাফি ফিকহের দৃষ্টিতে বিশ্লেষণ করা হলো:


১. মিশ্র পরিবেশে অংশগ্রহণের বিধান

ইসলাম নারী-পুরুষের পর্দা ও শালীনতার নির্দেশ দিয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন:
"তোমরা (মুমিন নারীরা) সাবেক জাহেলিয়াতের যুগের মতো সাজসজ্জা নিয়ে বেরিও না।" (সূরা আহযাব: ৩৩)
এছাড়াও, হাদিসে এসেছে:
"যখন কোনো পুরুষ কোনো নারীর সাথে একান্তে দেখা করে, তৃতীয় জন থাকে শয়তান।" (তিরমিযী: ২১৬৫)

মিশ্র সমাবেশে অংশগ্রহণ শুধুমাত্র জরুরি প্রয়োজনে এবং পর্দার সম্পূর্ণ শর্ত বজায় রেখে জায়েজ হতে পারে। কিন্তু আপনি উল্লেখ করেছেন যে, প্রতিযোগিতায় ছেলে-মেয়ে সবাই ছিল, জাজ ও শিক্ষক উভয় লিঙ্গের ছিলেন। এমন অবস্থায় পর্দার পূর্ণ বিধান রাখা অত্যন্ত কঠিন।

হানাফি ফকীহদের মতানুযায়ী:

  • ইমাম আবু হানিফা (রহ.) নারীদের জন্য পুরুষের সাথে অপ্রয়োজনীয় মেলামেশাকে মাকরূহ তাহরীমী (নিকটবর্তী নিষিদ্ধ) বলেছেন। (ফাতাওয়া শামী: ১/৪০১)
  • মুফতি মুহাম্মদ শফি (রহ.) বলেন: "নারীদের জন্য শিক্ষা বা কর্মক্ষেত্রে যদি পর্দা ও শালীনতা বজায় রাখা সম্ভব না হয়, তবে সেখানে যাওয়া জায়েজ নয়।" (মাআরিফুল কুরআন: ৮/৩৪৩)
  • মুফতি তাকি উসমানি (দামাত বারাকাতুহুম) এর ফতোয়ায় এসেছে: "মিশ্র পরিবেশে নারীদের অংশগ্রহণ শুধুমাত্র তখনই জায়েজ, যদি একমাত্র নারীদের জন্য আলাদা সেশন হয় অথবা প্রয়োজনীয় শর্ত (পোশাক, দৃষ্টি, শব্দ নিয়ন্ত্রণ) পূর্ণ থাকে।"

২. আপনার বর্ণিত পরিস্থিতি বিশ্লেষণ

  • টিমের সদস্য: আপনি শুধুমাত্র মেয়েদের নিয়ে গঠিত টিমে ছিলেন এবং একপাশে বসেছিলেন। এটি কিছুটা ভালো।
  • কথোপকথন: জাজ বা শিক্ষকদের সাথে কাজের অগ্রগতি জানানো, প্রেজেন্টেশন দেওয়া, চার্জার চাওয়া—এগুলো প্রয়োজনীয় কাজের জন্য ছিল। তবে, পুরুষের সাথে একান্তে বা অপ্রয়োজনীয় কথা না বলাই উত্তম।
  • পরিবেশ: মিশ্র প্রতিযোগিতায় উপস্থিত থাকা ফিতনার সম্ভাবনা তৈরি করে। তাই বারবার অংশগ্রহণ করা শ্রেয় নয়।

৩. ভবিষ্যতে একই ধরনের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ

আপনার জ্ঞান অর্জনের ইচ্ছা প্রশংসনীয়, কিন্তু মাধ্যমটি শরিয়তসম্মত হতে হবে। নিচের শর্তগুলো যদি পূরণ করা যায়, তবে অংশগ্রহণ জায়েজ হতে পারে:
১. পাত্র: শুধু নারীদের জন্য আলাদা সেশনের ব্যবস্থা করতে হবে।
২. পর্দা: সম্পূর্ণ হিজাব (বোরকা/নিকাব সহ) এবং লম্বা পোশাক। দৃষ্টি অবনত রাখা।
৩. কথাবার্তা: শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় কাজের জন্য, উচ্চস্বরে নয়, সরলভাবে।
৪. অবস্থান: পুরুষদের কাছ থেকে দূরে আলাদা স্থানে বসা।
৫. প্রয়োজনীয়তা: যদি এই শর্তগুলো বাস্তবায়ন কঠিন হয়, তবে অংশগ্রহণ না করাই উত্তম।

কুরআন-হাদিসের নির্দেশনা:

  • "এবং তোমরা (মুমিনগণ) নিজেদেরকে ফিতনায় নিক্ষেপ করো না।" (সূরা বাকারা: ১৯৫)
  • "যে ব্যক্তি (পর্দার) হিফাজত করবে, আল্লাহ তার সম্মান বৃদ্ধি করবেন।" (সহীহ মুসলিম: ৪৬৯৬)

৪. হানাফি ফিকহের কিতাব থেকে উদ্ধৃতি

  • বেহেশতি জেওয়ার: আশরাফ আলী থানবী (রহ.) নারীদের জন্য মিশ্র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, প্রতিযোগিতা ও চাকরি থেকে বিরত থাকতে বলেছেন। অত্যন্ত জরুরি অবস্থায় পর্দার সম্পূর্ণ ব্যবস্থা রাখতে হবে। (বেহেশতি জেওয়ার: ৬/২২)
  • ফাতাওয়া আলমগীরী: নারীদের জন্য পুরুষের সাথে মেলামেশা মাকরূহ তাহরীমী। শুধুমাত্র চিকিৎসা ও জরুরি প্রয়োজনে ছাড় আছে। (ফাতাওয়া আলমগীরী: ৫/৩৫৯)
  • রদ্দুল মুহতার: নারীর পর্দা ফরজ; অপ্রয়োজনে পুরুষের সামনে দাঁড়ানো বা কথা বলা নিষিদ্ধ। (রদ্দুল মুহতার: ১/৪০৬)
  • ইমদাদুল ফাতাওয়া: মুফতি শফি (রহ.) নারীদের জন্য ওয়েব ডিজাইন, প্রোগ্রামিং ইত্যাদি শেখার অনুমতি দেন, তবে শর্ত হলো তা সম্পূর্ণ পর্দা ও মাহরামের তত্ত্বাবধানে হতে হবে। (ইমদাদুল ফাতাওয়া: ৪/২৪৬)

শেষ সিদ্ধান্ত:

১. আপনার বর্ণিত হ্যাকাথনটি মিশ্র পরিবেশে হওয়ায় এবং পর্দার পূর্ণ ব্যবস্থা থাকার সম্ভাবনা কম থাকায় এতে অংশগ্রহণ মাকরূহ তাহরীমী হিসেবে গণ্য হবে।
২. ভবিষ্যতে একই ধরনের ব্যবস্থা হলে শুধুমাত্র নারীদের জন্য আলাদা আয়োজন থাকলেই অংশগ্রহণ করা জায়েজ। অন্যথায় অংশগ্রহণ জায়েজ হবেনা। ৩. জ্ঞান অর্জনের জন্য অনলাইন কোর্স, নারীদের জন্য আয়োজিত ওয়ার্কশপ, বা একান্তে মাহরামের সাহায্যে শেখার ব্যবস্থা করুন।

আল্লাহ আপনাকে উত্তম পথ প্রদর্শন করুন এবং আপনার ইলমি আগ্রহকে বরকতময় করুন। আমিন।

উত্তর প্রদানে ব্যবহৃত কিতাবাদি:

  • ফাতাওয়া শামী (রদ্দুল মুহতার)
  • বেহেশতি জেওয়ার (আশরাফ আলী থানবী)
  • ফাতাওয়া আলমগীরী (হানাফি ফিকহ)
  • ইমদাদুল ফাতাওয়া (মুফতি মুহাম্মদ শফি)
  • মাআরিফুল কুরআন (মুফতি মুহাম্মদ শফি)
  • ফাতাওয়া উসমানি (মুফতি তাকি উসমানি)

This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.