নাপাক কাপড় বালতিতে ভিজিয়ে পানি উপচে ফেলে ধৌত করলে কি পবিত্র হবে?

Taharah Purity · Hanafi

Question No: 1299
Questioner: Rashid
Question Asked: 06 Jun 2026, 03:50 PM
Reviewed & Published: 06 Jun 2026, 03:52 PM
Views: 31
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

নাপাক কাপড় আগের দিন রাতে বালতিতে সাবান দিয়ে ভিজিয়ে রাখা হয়। পরদিন সকালে ওই বালতিতেই কল ছেড়ে রাখা হয় যাতে সাবানযুক্ত পানি বালতি উপচে বের হতে থাকে। এভাবে ৫-১০ মিনিট বালতি থেকে পানি উপচে যেতে দেয়া হয়। এরপর কাপড় কাচা হয় এবং বালতিতে যে পানি অবশিষ্ট থাকে তাতে কাপড় ধোয়া হয়।

Answer

উত্তর (Answer)

প্রশ্নে বর্ণিত পদ্ধতিতে নাপাক কাপড় পবিত্র হবে না। কারণ হানাফি ফিকহ অনুযায়ী, নাপাক কাপড় পবিত্র করার জন্য প্রবাহমান পানি অথবা পৃথক পৃথক তিনবার ধোয়া ও নিংড়ানো জরুরি। নিচে বিশদ ব্যাখ্যা ও দলিল দেওয়া হলো।


১. হানাফি ফিকহের মূলনীতি

ক. পানির পরিমাণ ও নাপাকির প্রভাব
বালতির পানি সাধারণত দু’কুল্লা ( 200 লিটার) -এর চেয়ে কম হয়। সুতরাং নাপাক কাপড় এতে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই পানি নাপাক (মুতানাজ্জিস) হয়ে যায়।
(রদ্দুল মুহতার, ১/১৮৩; ফতোয়ায়ে আলমগিরী, ১/২১)

খ. পবিত্রতার শর্ত
নাপাক কাপড় পবিত্র করতে হবে পবিত্র প্রবাহমান পানিতে অথবা পৃথক পৃথক তিনবার পানি দিয়ে ধুয়ে প্রতিবার নিংড়িয়ে (বা চেপে) পুরাতন পানি ফেলে দিতে হবে। শেষবারের পানি নাপাক না থাকলে কাপড় পবিত্র হবে।
(হিদায়া, ১/২৩; বাদায়েউস সানায়ে, ১/৪৫; ফতোয়ায়ে উসমানী, ১/২৮৪)


২. প্রশ্নে বর্ণিত পদ্ধতির বিশ্লেষণ

  • রাতে সাবান দিয়ে ভিজিয়ে রাখা – সাবান নাপাক দূর করে না, এটি শুধু ময়লা সরায়। নাপাকির অস্তিত্ব থাকলে পবিত্রতা অর্জিত হয় না।
  • পরদিন বালতি উপচে পানি ফেলা – এটি চলমান বা প্রবাহমান পানি নয়, বরং স্থির পাত্রের পানি যা উপচে পড়ছে। কাপড়টি তখনও বালতির ভেতরেই থাকে।
  • উপচে ফেলার পর অবশিষ্ট পানি দিয়ে কাপড় ধোয়া – এই অবশিষ্ট পানি নাপাক (কারণ প্রথম ভিজানোর সময়ই পানি নাপাক হয়েছিল) এবং উপচে ফেলার মাধ্যমে পুরো পানি পবিত্র হয়নি। সুতরাং এই পানি দিয়ে ধোয়া কাপড়কে পবিত্র করবে না।
    (রদ্দুল মুহতার, ১/১৯৫; ইমদাদুল ফতোয়া, ১/৪৮)

উদাহরণ: যদি একটি নাপাক কাপড় এক বালতি পানিতে ফেলা হয়, তাহলে পুরো বালতির পানিই নাপাক হয়। পরে অনেক পানি উপচে ফেললেও যদি কিছু পানি থেকে যায়, তবে তা নাপাকই বহাল থাকে। (ফতোয়ায়ে উসমানী, ১/২৯২)


৩. সঠিক পদ্ধতি

পদ্ধতি ১: কাপড়টি প্রবাহমান পানি (যেমন কলের নিচে) ধরে ভালোভাবে ধুতে হবে, যাতে পানি প্রবাহিত হতে থাকে এবং নাপাকি বেরিয়ে যায়। কাপড়টি ঘষে ঘষে ধুতে হবে এবং শেষে নিংড়িয়ে দেখতে হবে পানি নির্মল হচ্ছে কিনা।
(বেহেশতী জেওর, ১/৭৮; ফতোয়ায়ে দারুল উলুম, ২/২২)

পদ্ধতি ২: একটি পাত্রে পানি নিয়ে কাপড়টি তিনবার পৃথকভাবে ধুতে হবে। প্রত্যেকবার ধোয়ার পর কাপড়টি ভালোভাবে নিংড়িয়ে বা চেপে পুরাতন পানি ফেলে দিতে হবে। তৃতীয়বারের পর নিংড়ানো পানি যদি নাপাকির (রং, গন্ধ, স্বাদ) চিহ্নমুক্ত হয়, তবে কাপড় পবিত্র হবে।
(আল-হিদায়া, ১/২৪; শারহু মাআনিল আসার, ১/১০২)


৪. গুরুত্বপূর্ণ নোট

  • সাবান শরিয়তের দৃষ্টিতে পবিত্রকারী নয়, এটি শুধু অপদ্রব্য দূর করতে সাহায্য করে। নাপাকি দূর করতে পানির প্রবাহ বা তিনবার ধোয়া জরুরি।
  • দু’কুল্লা পানি থাকলে (২০০ লিটার বা তার বেশি) তা নাপাকি পড়লেও নিজে পবিত্র থাকে, কিন্তু বালতি সাধারণত তা হয় না।
  • যদি নাপাকি দৃষ্টিগোচর হয় (যেমন রক্ত, পেশাব), তবে তা দূর হওয়া আবশ্যক। আর যদি অদৃশ্য হয় (যেমন পেশাব শুকিয়ে গেছে), তবে তিনবার ধোয়াই যথেষ্ট।
    (বাদায়েউস সানায়ে, ১/৫২; ফতোয়ায়ে আলমগিরী, ১/২৭)

৫. ফতোয়া

প্রশ্নে বর্ণিত পদ্ধতি (রাতে ভিজিয়ে রেখে, পরদিন উপচে ফেলে, অবশিষ্ট পানি দিয়ে ধোয়া) শরিয়তসম্মত নয়। এতে কাপড় নাপাকই থাকবে। সুতরাং কাপড় পবিত্র করতে উপরোক্ত সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করা আবশ্যক।

আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।



This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.