মন কে কিভাবে বুঝাবো যে আমি আল্লাহ কে নিয়ে বাজে কথা বলি নাই?
Faith and Belief · Hanafi
Questioner:
Rajia Suntana
Question Asked:
29 May 2026, 04:48 PM
Reviewed & Published:
29 May 2026, 05:04 PM
Views:
27
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by
.
Question
আসসালামু আলাইকুম।
মনে মনে সারাক্ষন ইসলাম নিয়ে, আল্লাহ কে নিয়ে অনেক বাজে কথা চলে আসে। যেগুলো মনে মনে বললেও আমার ভয় লাগে।
১) যেমন আমি খাচ্ছি এমন সময় মনে মনে কিছু একটা বলে ফেললাম। আর মুখ খোলা ছিল আমি খাচ্ছিলাম। খাওয়ার সাউন্ড হচ্ছিল।
পরে আমার মনে হয় মনে বলা কথা গুলা মুখে বলে ফেললাম কিনা?
২) সারাদিনই মনে মনে এসব বলতেই থাকি। বলতে বলতে এক সময় মনে হয় আমি সত্যি সত্যিই গুলা মুখ দিয়ে বলে ফেলতেছি। আমি আসলে আজ পর্যন্ত একদিনও কোন পুরা বাক্য মুখ দিয়ে বলি নাই। কিন্তু এটা আমি আমার মনকে বুঝাইতে পারি না। আমাকে মনের মধ্যে কেউ বলে যে তুমি এগুলা সত্যি সত্যি করতেছো, তুমি এই কথাটা বলে ফেলছো, সেই কথাটা বলে ফেলছো, মুখ দিয়ে বলে ফেলছো, অমুক বাজে কথা টা কথাটা বলে ফেলছো। সব সময় টেনশনে থাকি মনে মনে বললাম নাকি মুখেই বলে ফেললাম উচ্চারণ করে।
৩) সারাদিন মনে মনে এসব বলতে থাকি। যখন মনে হয় হয়তো মুখে উচ্চারণ করে ফেলেছি তখন আবার চেক করতে থাকি। মুখ হা করে, জিব্বা নাড়িয়ে, মুখের ভিতর কলম দিয়ে, ফু দিয়ে। আর সারাদিন তো মুখ অফ রাখা যায় না। মানুষ তো নিশাস নেয়ার জন্যও মুখ খুলে। দেখা যায় আমি জোরে জোরে শ্বাস নিলে, কিছু একটা বলে ফেলি আমার মনে হয় আমি মুখে উচ্চারণ করে বলে ফেলতেছি।
৪)আমার নতুন বিয়ে হয়েছে। আমাকে কেউ সব সময় বলে তুমি তো এটা বলে ফেলছো, তুমি তো অমুক বাজে কথা বলে ফেলছো। এখন তোমার ঈমান আর বিবাহিত জীবন কি হবে। এসব ভাবায় আমাকে কেউ। আর আমি ভাবতে থাকি। টেনশন এ পড়ে যাই।
৫) আমাকে যদি কেউ জিজ্ঞেস করে যে তুমি কি কোনো কথা মুখে উচ্চারণ করেছো? তখন আমি বলি যে না, আমি শুধু চেক করার জন্য হা করে, জিব্বা নাড়িয়ে সাউন্ড ছাড়া, মনে মনে বলেছি শুধু চেক করতে। যেমন "আমি খারাপ"। আমি শব্দ টা আমি মনে মনে বলেছি আর "খারাপ" শব্দ টা মুখে উচ্চারণ করেছি। এখন এই " খারাপ "শব্দটা মুখে উচ্চারণ করার জন্য কি "আমি খারাপ" এই পুরা বাক্যটা ধরা হবে? "আমি" শব্দটা তো মনে মনে বলেছিলাম।
মনে মনে সারাক্ষন ইসলাম নিয়ে, আল্লাহ কে নিয়ে অনেক বাজে কথা চলে আসে। যেগুলো মনে মনে বললেও আমার ভয় লাগে।
১) যেমন আমি খাচ্ছি এমন সময় মনে মনে কিছু একটা বলে ফেললাম। আর মুখ খোলা ছিল আমি খাচ্ছিলাম। খাওয়ার সাউন্ড হচ্ছিল।
পরে আমার মনে হয় মনে বলা কথা গুলা মুখে বলে ফেললাম কিনা?
২) সারাদিনই মনে মনে এসব বলতেই থাকি। বলতে বলতে এক সময় মনে হয় আমি সত্যি সত্যিই গুলা মুখ দিয়ে বলে ফেলতেছি। আমি আসলে আজ পর্যন্ত একদিনও কোন পুরা বাক্য মুখ দিয়ে বলি নাই। কিন্তু এটা আমি আমার মনকে বুঝাইতে পারি না। আমাকে মনের মধ্যে কেউ বলে যে তুমি এগুলা সত্যি সত্যি করতেছো, তুমি এই কথাটা বলে ফেলছো, সেই কথাটা বলে ফেলছো, মুখ দিয়ে বলে ফেলছো, অমুক বাজে কথা টা কথাটা বলে ফেলছো। সব সময় টেনশনে থাকি মনে মনে বললাম নাকি মুখেই বলে ফেললাম উচ্চারণ করে।
৩) সারাদিন মনে মনে এসব বলতে থাকি। যখন মনে হয় হয়তো মুখে উচ্চারণ করে ফেলেছি তখন আবার চেক করতে থাকি। মুখ হা করে, জিব্বা নাড়িয়ে, মুখের ভিতর কলম দিয়ে, ফু দিয়ে। আর সারাদিন তো মুখ অফ রাখা যায় না। মানুষ তো নিশাস নেয়ার জন্যও মুখ খুলে। দেখা যায় আমি জোরে জোরে শ্বাস নিলে, কিছু একটা বলে ফেলি আমার মনে হয় আমি মুখে উচ্চারণ করে বলে ফেলতেছি।
৪)আমার নতুন বিয়ে হয়েছে। আমাকে কেউ সব সময় বলে তুমি তো এটা বলে ফেলছো, তুমি তো অমুক বাজে কথা বলে ফেলছো। এখন তোমার ঈমান আর বিবাহিত জীবন কি হবে। এসব ভাবায় আমাকে কেউ। আর আমি ভাবতে থাকি। টেনশন এ পড়ে যাই।
৫) আমাকে যদি কেউ জিজ্ঞেস করে যে তুমি কি কোনো কথা মুখে উচ্চারণ করেছো? তখন আমি বলি যে না, আমি শুধু চেক করার জন্য হা করে, জিব্বা নাড়িয়ে সাউন্ড ছাড়া, মনে মনে বলেছি শুধু চেক করতে। যেমন "আমি খারাপ"। আমি শব্দ টা আমি মনে মনে বলেছি আর "খারাপ" শব্দ টা মুখে উচ্চারণ করেছি। এখন এই " খারাপ "শব্দটা মুখে উচ্চারণ করার জন্য কি "আমি খারাপ" এই পুরা বাক্যটা ধরা হবে? "আমি" শব্দটা তো মনে মনে বলেছিলাম।
Answer
উত্তর:
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
প্রিয় প্রশ্নকারী, আপনার সমস্যা সম্পূর্ণভাবে ‘ওয়াসওয়াসা’ (মানসিক কুমন্ত্রণা)-এর অন্তর্ভুক্ত। এটি শয়তানের একটি ফাঁদ, যাতে সে মুমিনকে অযথা চিন্তা ও উদ্বেগে ডুবিয়ে রাখে। ইসলামী শরিয়তে এমন সন্দেহ বা ধারণাকে কোনো গুরুত্ব দেওয়া হয় না, যতক্ষণ না তা নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হয়।
১) মনে মনে খারাপ কথা বলা ও উচ্চারণের সন্দেহ:
- শরীয়তের নিয়ম: কেবল মনে মনে কোনো কথা বললে বা উচ্চারণ না করলে তা গোনাহ নয় এবং ঈমানের কোনো ক্ষতি করে না। আল্লাহ বলেন: “আল্লাহ কাউকে তার সামর্থ্যের বাইরে বোঝা চাপান না; সে যা উপার্জন করে তা তার পক্ষে এবং যা সে করে তা তার বিপক্ষে।” (সূরা বাকারা ২:২৮৬)
- হাদিসে এসেছে: “আমার উম্মতের মনের ওয়াসওয়াসা (কুমন্ত্রণা) ক্ষমা করা হয়েছে, যতক্ষণ না তা মুখে বলে বা কাজে পরিণত করে।” ( বুখারী, মুসলিম)
- আপনার অবস্থা: আপনি নিশ্চিত নন যে মুখ দিয়ে উচ্চারণ করেছেন কি না। সুতরাং, সন্দেহের ভিত্তিতে কিছু বিধান আরোপ করবেন না। যতক্ষণ না আপনি নিশ্চিত হন যে আপনার জিহবা নড়েছে এবং শব্দ নির্গত হয়েছে, ততক্ষণ তা মনে মনে বলা গণ্য হবে।
২) সারাদিনের ওয়াসওয়াসা ও নিজেকে বোঝাতে না পারা:
- এটি সম্পূর্ণ শয়তানী ওয়াসওয়াসা। আপনি নিজেই বলেছেন যে আপনি একটিও পুরো বাক্য মুখে উচ্চারণ করেননি। তবে শয়তান আপনাকে ভ্রান্তির মধ্যে ফেলে দিচ্ছে যে ‘তুমি সত্যিই বলে ফেলেছো’।
- সমাধান: এই ওয়াসওয়াসাকে কান দেবেন না। যখনই মনে হবে যে ‘হয়তো মুখে বলে ফেলেছি’, তখন নিজেকে বলুন: “আমি নিশ্চিত নই, তাই আমি এটাকে আমলে আনছি না।” বার বার চেক করা (মুখ হা করা, জিহবা নাড়ানো ইত্যাদি) ওয়াসওয়াসা বৃদ্ধি করে। তাই এগুলো করা বন্ধ করুন।
৩) চেক করার প্রবণতা:
- বারবার মুখ খুলে, জিহবা নাড়িয়ে, ফুঁ দিয়ে বা কলম দিয়ে চেক করা ওয়াসওয়াসার চিকিৎসার বিপরীত। এতে আপনার সন্দেহ আরও বেড়ে যাবে।
- হানাফি ফকিহগণ বলেন: ওয়াসওয়াসায় আক্রান্ত ব্যক্তির জন্য সবল না হওয়া পর্যন্ত নির্দিষ্ট কিছু ধরে নেওয়া জায়েয নয়। (রদ্দুল মুহতার, ১/১২৮)
- আপনার করণীয়: আপনি যখনই শ্বাস নিচ্ছেন বা মুখ খুলছেন, তখন ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো শব্দ উচ্চারণ করছেন না, তাই এগুলোকে গোনাহ মনে করবেন না। শুধু স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাস বা আহারের সময় মুখের নড়াচড়া উচ্চারণ নয়।
৪) নতুন বিয়ে ও ঈমান নিয়ে উদ্বেগ:
- ওয়াসওয়াসা বিয়ে বা ঈমান নষ্ট করে না। এটি একটি মানসিক রোগ, যা চিকিৎসা ও ধৈর্যের মাধ্যমে দূর হয়।
- শরীয়তের নীতি: “ইসলাম ধর্ম সহজ; কেউ নিজেকে কষ্ট দিলে তাকে পরাস্ত করা হবে।” (বুখারী)
- আপনার বিবাহিত জীবন এই ওয়াসওয়াসার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হবে না, যদি আপনি শয়তানের কুমন্ত্রণাকে গুরুত্ব না দেন। আপনার স্ত্রীকে বিষয়টি জানিয়ে তার সহায়তা নিন।
৫) আংশিক উচ্চারণের হিসাব:
- আপনি যদি “আমি” মনে মনে বলেন এবং “খারাপ” মুখে উচ্চারণ করেন, তবে সম্পূর্ণ বাক্যটি উচ্চারিত হয়নি। কারণ “আমি খারাপ” একটি পূর্ণাঙ্গ বাক্য হিসেবে পরিগণিত হবে না যতক্ষণ না উভয় অংশ মুখে উচ্চারিত হয়।
- ফিকহের নীতি: “যে ব্যক্তি কোনো বাক্যের কিছু অংশ মনে মনে বলে এবং কিছু অংশ মুখে উচ্চারণ করে, তা সেই বাক্যের মুখে উচ্চারণ হিসেবে গণ্য হবে না।” (ফাতাওয়া উসমানী, ১/২৯২)
- সুতরাং, এতে কোনো গোনাহ বা ঈমানের ক্ষতি নেই।
চিকিৎসা ও করণীয়:
- ওয়াসওয়াসাকে উপেক্ষা করুন: যখনই খারাপ চিন্তা আসবে, আস্তাগফিরুল্লাহ পড়ুন এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা চান।
- নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা বন্ধ করুন: মুখ দিয়ে উচ্চারণ হয়েছে কিনা তা নিয়ে বারবার চিন্তা করবেন না।
- আলিম বা মনোবিদের পরামর্শ নিন: ওয়াসওয়াসা গুরুতর হলে অভিজ্ঞ আলিমের শরণাপন্ন হোন বা মনোবিদের সাহায্য নিন।
- মনের ওয়াসওয়াসাকে মূল্যহীন করুন: শয়তান আপনাকে ঈমানহারা করার চেষ্টা করছে; এটাকে চিহ্নিত করুন এবং বলুন: “আমি আল্লাহর ওপর ভরসা করছি, তোমার ওয়াসওয়াসা আমার কোনো ক্ষতি করবে না।”
আল্লাহর রহমত ও মাগফিরাতের আশা করুন। ওয়াসওয়াসা থেকে মুক্তির জন্য এই দোয়া পড়ুন:
“رَبِّ أَعُوذُ بِكَ مِنْ هَمَزَاتِ الشَّيَاطِينِ وَأَعُوذُ بِكَ رَبِّ أَنْ يَحْضُرُونِ”
(সূরা মুমিনুন ২৩:৯৭-৯৮)
والله أعلم بالصواب