কাবাঘরের ব্লক খেলনা তৈরি করা কি জায়েজ?
Miscellaneous Fiqh · Hanafi
Question
এই ধরনের খেলনা গুলোতে কী কোনো সমস্যা হয়? যদি ব্লক গুলো পায়ের নিচে না পড়ে, গুছিয়ে রেখে সুন্দর করে ব্লক গুলো জুড়ে জুড়ে যদি কাবাঘরের মডেল তৈরি করা হয় তাহলে কী কাবাঘরের অমর্যাদা করা হবে? বাচ্চাকে নিয়ে যদি বড়দের তত্ত্বাবধানে এই খেলা টা খেলা হয় যেন ব্লক গুলো পায়ের নিচে না পড়ে? বা কোনোভাবে পায়ে লাগলে কী অসম্মান হবে? ব্লক গুলো দিয়ে বারবার এভাবে ভাঙা,জোড়া এমন করার কারণে কী কাবাঘরের অমর্যাদা করা হবে?
Answer
কাবাঘরের ব্লক খেলনা সম্পর্কে ফিকহী বিধান
উত্তর
কাবা শরীফের মডেল বা প্রতিরূপ তৈরি করে খেলা একটি সূক্ষ্ম বিষয়, যা নিয়ে ফিকহে কিছু বিধান রয়েছে। নিম্নে এর বিভিন্ন দিক বিশ্লেষণ করা হলো:
কাবাঘরের প্রতিরূপ তৈরি ও খেলার বিধান
হানাফী ফিকহের মূলনীতি অনুযায়ী, কাবা শরীফ ও মসজিদুল হারামের প্রতিরূপ বা মডেল তৈরি করা নিজে জায়েজ আছে, যদি তা সম্মান ও শিষ্টাচারের সাথে করা হয় এবং কোনো প্রকার অসম্মানের শিকার না হয়। তবে এ ব্যাপারে কিছু শর্ত ও সতর্কতা রয়েছে:
১. খেলনা হিসেবে ব্যবহারের হুকুম
- ইমাম আবু হানীফা (রহ) ও ইমাম আবু ইউসুফ (রহ) এর মতে, কাবা শরীফের প্রতিরূপ তৈরি করা জায়েজ, তবে তা যেন সম্মানিত অবস্থায় থাকে।
- ফাতাওয়া হিন্দিয়ায় বলা হয়েছে: কাবা শরীফের আকৃতি তৈরী করা মাকরূহ নয়, যদি তা সম্মানের সাথে রাখা হয়।
- রদ্দুল মুহতারেও অনুরূপ উল্লেখ আছে।
২. ব্লক ভাঙা-জোড়া করার ব্যাপারে
ব্লকগুলো বারবার ভাঙা ও জোড়া করার কারণে যদি কাবাঘরের প্রতি অসম্মান প্রকাশ পায়, তবে তা নাজায়েজ হতে পারে। কারণ হাদীসে এসেছে যে, মুমিনের হাড় ভাঙার চেয়েও বড় গুনাহ হলো কাবাঘরের হাড় (অর্থাৎ অংশ) ভাঙা (সুনানে ইবনে মাজাহ)।
ব্লক পায়ের নিচে পড়া প্রসঙ্গে
যদি ব্লকগুলো পায়ের নিচে পড়ে যায় বা মাটিতে লুটায়, তবে সেটি কাবাঘরের প্রতি অসম্মান হবে। কারণ পবিত্র স্থান বা তার প্রতীককে পায়ে দেয়া অসম্মানের শামিল। তবে যদি উদ্দেশ্য না থাকে এবং সতর্কতা অবলম্বন করা হয়, তবুও এটি ঝুঁকিপূর্ণ।
হানাফী ফকীহগণের মতামত
- মুফতী মুহাম্মদ শফী (রহ) বলেছেন: কোনো পবিত্র স্থানের প্রতিরূপ তৈরী করা জায়েজ আছে, তবে সেটির সম্মান রক্ষা করা আবশ্যক। যদি তা খেলনার মাধ্যমে অসম্মানিত হয়, তবে তা নাজায়েজ।
- মুফতী তাকী উসমানী (দামাত বারাকাতুহুম) এর মতে: এ ধরনের খেলনা শিশুদের জন্য তৈরি করাতে সমস্যা নেই, কিন্তু শর্ত হলো বড়দের তত্ত্বাবধানে এবং সম্মানের সাথে ব্যবহার করতে হবে।
- ফাতাওয়া উসমানীতে উল্লেখ আছে: কাবার মডেল বা ছবি তৈরি করে খেলার জন্য দেয়া মাকরূহ, কারণ তাতে অসম্মানের আশঙ্কা থাকে।
সমাধান ও সুপারিশ
১. ব্লকগুলো সর্বদা সম্মানজনক স্থানে রাখা। ২. খেলা শেষে গুছিয়ে রাখা। ৩. বড়দের তত্ত্বাবধানে খেলা নিশ্চিত করা। ৪. পায়ের নিচে পড়া বা মাটিতে লুটিয়ে পড়া থেকে বিরত থাকা। ৫. যদি ব্লকগুলো পায়ের নিচে পড়ে যায়, তবে অবিলম্বে তুলে নিয়ে সম্মানের সাথে রাখা এবং তওবা ইস্তিগফার করা।
সারসংক্ষেপ
কাবাঘরের ব্লক খেলনা তৈরি করা নিজে জায়েজ, তবে ব্যবহারের পদ্ধতি অনুযায়ী হুকুম পরিবর্তন হয়। যদি সম্মানের সাথে ব্যবহার করা হয় এবং পায়ের নিচে না পড়ে, তাহলে জায়েজ আছে। কিন্তু যদি অসম্মানের আশঙ্কা থাকে বা অসম্মানিত হয়, তাহলে তা নাজায়েজ হবে। তাই সতর্কতা অবলম্বন করাই উত্তম।
উত্তম পন্থা: বাচ্চাদের জন্য এ ধরনের খেলনা না দিয়ে অন্য কোনো ইসলামিক খেলনা দেওয়া, যাতে কাবাঘরের অমর্যাদার আশঙ্কা না থাকে।
والله أعلم بالصواب