জলপরী, পরী, রাক্ষস ইত্যাদির অস্তিত্ব বিশ্বাস করলে ইসলামে কী বিধান?

Halal and Haram · Hanafi

Questioner: Morium 2025
Question Asked: 03 Jun 2026, 10:25 AM
Reviewed & Published: 03 Jun 2026, 10:49 AM
Views: 14
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

কেউ যদি জল পরী, পরী রাক্ষাস এসব আছে বলে বিশ্বাস করে তবে কি ছুট বা বড় শিরক বা কুফুরি হবে?

Answer

উত্তর:

জলপরী, পরী, রাক্ষস ইত্যাদি সৃষ্টির অস্তিত্বে বিশ্বাস করা ছোট শিরক বা বড় শিরক নয়, তবে এটি গায়েব সম্পর্কিত ভ্রান্ত বিশ্বাস হতে পারে। ইসলামী আকীদা অনুযায়ী, গায়েবের জ্ঞান একমাত্র আল্লাহর নিকট সীমাবদ্ধ। কুরআন ও হাদীসে যেসব গায়েবী সত্তার কথা বলা হয়েছে (যেমন: জিন, ফেরেশতা, শয়তান), শুধু সেগুলোতে বিশ্বাস করা ওয়াজিব। কুরআন বা হাদীসে বর্ণিত নয় এমন সৃষ্টির অস্তিত্বে বিশ্বাস করা (যেমন: জলপরী, পরী, রাক্ষস) নাজায়েয ও ভ্রান্ত হলেও তা কুফর বা শিরক নয়, যতক্ষণ না কেউ এই বিশ্বাসকে ইসলামের মৌলিক আকীদার (যেমন: তাওহীদ, রিসালাত, আখিরাত) বিপরীত না করে বা আল্লাহর সাথে অন্য কাউকে শিরীক না করে।

কুরআন ও হাদীসের আলোকে:

  1. গায়েবের জ্ঞান আল্লাহর নিকট সীমাবদ্ধ:

    • আল্লাহ বলেন: "বলুন, আসমান ও যমীনে যা কিছু আছে, তা কেউ জানে না গায়েবের বিষয়, একমাত্র আল্লাহ ছাড়া।" (সূরা আন-নামল: ৬৫)
    • কুরআন ও হাদীসে বর্ণিত নয় এমন সৃষ্টির অস্তিত্ব প্রমাণিত না হওয়ায় তা বিশ্বাস করা অজ্ঞতা ও ভ্রান্তি।
  2. জিন ও শয়তান সম্পর্কে ইসলামী নির্দেশনা:

    • কুরআনে জিন সৃষ্টির কথা উল্লেখ আছে (সূরা আর-রাহমান: ১৫), কিন্তু জলপরী বা রাক্ষসের মতো অবাস্তব সত্তার কোনো উল্লেখ নেই। তাই এগুলোর অস্তিত্ব বিশ্বাস করা বেসরকারি কাল্পনিক ধারণা মাত্র।

হানাফী ফিকহের রেফারেন্স:

  • আল-হিদায়ারদ্দুল মুহতার-এ (ইবনে আবেদীন) বলা হয়েছে: "যে জিনিস কুরআন ও হাদীস দ্বারা প্রমাণিত নয়, তা বিশ্বাস করা জরুরী নয়। তবে কেউ যদি তা বিশ্বাস করে এবং এতে তাওহীদের কোনো ক্ষতি না হয়, তবে তা কুফর নয়, বরং ভ্রান্তি।" (রদ্দুল মুহতার, ৪/২৪২)
  • ফাতাওয়া উসমানী (মুফতি মুহাম্মদ শফী) তে উল্লেখ: "কাল্পনিক সৃষ্টিতে বিশ্বাস করা যেমন: জলপরী, পরী, রাক্ষস—তা আকীদার পরিপন্থী নয়, বরং অজ্ঞতা ও ভিত্তিহীন গল্প-কাহিনীর অনুসরণ।"
  • ইমদাদুল ফাতাওয়া (আশরাফ আলী থানভী) তে বলা হয়েছে: "যে বিশ্বাস কুরআন-হাদীসের বিপরীত নয়, কিন্তু অপ্রমাণিত, তা নাজায়েয হলেও শিরক বা কুফর নয়।"

সুতরাং, যদি কেউ নিম্নোক্ত বিশ্বাস পোষণ করে, তবে তা শিরক বা কুফর হতে পারে:

  • জলপরী, পরী বা রাক্ষসকে স্বাধীন শক্তি বা আল্লাহর সমকক্ষ মনে করা।
  • এদের ইবাদত বা সাহায্য প্রার্থনা করা।
  • এদেরকে সৃষ্টিকর্তা, রিজিকদাতা বা ক্ষতি-লাভের মালিক মনে করা।

অন্যথায় শুধু অস্তিত্বে বিশ্বাস করা গুনাহ হলেও তা ছোট শিরক (যেমন: রিয়া বা লোক দেখানো ইবাদত) বা বড় শিরক নয়।

উপসংহার:
জলপরী, পরী, রাক্ষস ইত্যাদির অস্তিত্ব বিশ্বাস করা ভ্রান্ত ও নাজায়েয, কিন্তু কুফর বা শিরক নয় যতক্ষণ না তাতে আল্লাহর সাথে কাউকে শরিক করা হয়। মুসলিমদের উচিত কুরআন ও হাদীসের নির্দেশিত পথে চলা এবং কাল্পনিক বা ভিত্তিহীন বিশ্বাস পরিহার করা।

আল্লাহু আলাম।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.