ফেসবুকে পা-সহ ছবি পোস্ট করলে নিচে কুরআন-হাদিসের পোস্ট আসলে কী হবে?

Halal and Haram · Hanafi

Questioner: Morium 2025
Question Asked: 03 Jun 2026, 11:14 AM
Reviewed & Published: 03 Jun 2026, 11:19 AM
Views: 36
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

ফেসবুকে যদি স্টরি ফুল ছবি দেই বা পোস্ট করি ফুল ছবি দিলে পা সহ থাকে পোস্ট করার নিউজ ফিডে যখন ছবির পোস্ট ঘুরে তখন সেই পা সহ ছবি নিচেই অনেক ইসলামিক গ্রুপের পোস্ট ঘুরে সেখানে কোরঅানের আয়াত বা হাদিস থাকে তাই নিউজ ফিডে পা সহ ফুল ছবি তুলে পোস্ট করলে এমন হলে কি ছুট বা বড় শিরক বা কুফুরি হবে বা শরীয়তের কোন অসম্মান হবে?

Answer

প্রশ্নের সংক্ষিপ্ত উত্তর:
ফেসবুকে পূর্ণাঙ্গ ছবি (পা-সহ) পোস্ট করা নিজে যদি শরীয়তসম্মত না হয় (যেমন: অশ্লীল বা সতর প্রকাশ করে), তাহলে তা গুনাহ। তবে নিউজ ফিডে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কুরআন-হাদিসের পোস্ট নিচে আসায় যোগসাজশ বা ইচ্ছাকৃত অসম্মান না থাকলে তা শিরক বা কুফুরি নয়; বরং নিষ্পাপ ও অজ্ঞতাবশত ঘটনা হিসেবেই গণ্য হবে। তবে সম্ভাব্য অসম্মান এড়াতে নিজের ছবি পোস্ট করার সময় সতর্ক থাকা উচিত।


বিস্তারিত বিশ্লেষণ (হানাফি ফিকহের আলোকে)

১. ছবি তোলা ও পোস্ট করার হুকুম

  • হানাফি মাযহাবে প্রাণীর ছবি (মানুষ, পশু) তোলা ও পোস্ট করা মূলত নাজায়েয ও হারাম, যদি অপ্রয়োজনীয় হয়। ইমাম আবু হানিফা (রহ.) সহ অধিকাংশ হানাফি ফকীহের মতে, পূর্ণাঙ্গ ও স্পষ্ট প্রাণীর ছবি তৈরি করা গুনাহ। (রদ্দুল মুহতার, ১/৬৪৭; ফাতাওয়া উসমানী, ২/৪৫৬)
  • পা-সহ ফুল ছবি — যদি তা পুরুষের নাভি থেকে হাঁটু বা নারীর পুরো শরীর (হাত, পা, চুল ইত্যাদি) প্রকাশ করে, তবে তা অবশ্যই নাজায়েয এবং গুনাহের কাজ। কারণ সতর প্রকাশ করা জায়েয নয়। (বাহিশতি জেওর, ৮ম অধ্যায়)

২. নিউজ ফিডে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কুরআন/হাদিস এসে পড়া

  • আপনার পোস্টের নিচে ফেসবুকের অ্যালগরিদম স্বয়ংক্রিয়ভাবে আলাদা গ্রুপের পোস্ট দেখায়। এখানে আপনার কোনো ইচ্ছা বা নিয়ন্ত্রণ নেই।
  • শরীয়তের দৃষ্টিতে: যদি আপনি ইচ্ছাকৃতভাবে কুরআনের আয়াত বা হাদিসের সম্মানহানির উদ্দেশ্যে ছবি পোস্ট না করেন, তবে এতে কোনো গুনাহ বা শিরক হবে না। বরং এটি অনিচ্ছাকৃত এবং মাফযোগ্য। (ইমদাদুল ফাতাওয়া, ৫/২৫০)
  • ইচ্ছাকৃতভাবে কুরআনের প্রতি অসম্মান জানানো কুফুরি হতে পারে, কিন্তু এখানে তা নেই।

৩. শিরক বা কুফুরির প্রশ্ন

  • শিরক অর্থ আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শরীক করা বা তাঁর কোনো গুণ অন্যকে দেওয়া। ছবি পোস্ট করলে তা শিরক নয়, যদিও ছবি তোলা হারাম হতে পারে।
  • কুফুরি হলো ইসলামি কোনো মৌলিক বিষয় অস্বীকার করা বা আল্লাহ-রাসূলের প্রতি অসম্মান প্রদর্শন। আপনার বর্ণনায় কুফুরির কোনো উপাদান নেই।
  • তাই বড় গুনাহ (ছোট শিরক বা কুফর) হবে না; বরং ছবি পোস্ট করার কারণে ছোট গুনাহ হতে পারে (যদি ছবিটি শরীয়তসম্মত না হয়)।

৪. করণীয়

  • ছবি পোস্ট করা থেকে বিরত থাকা উত্তম, বিশেষ করে পূর্ণাঙ্গ বা সতরপ্রকাশক ছবি।
  • যদি ছবি পোস্ট করতেই হয়, তাহলে নিশ্চিত করুন যে ছবিটি শরীয়তের সীমারেখার মধ্যে (যেমন: কাপড় পরা, বেপর্দা না হওয়া)।
  • কুরআন-হাদিসের সম্মান রক্ষার্থে পোস্টের সাথে সম্পৃক্ত না করার চেষ্টা করুন। যদি ভুলবশতও নিচে ইসলামিক কন্টেন্ট এসে যায়, তবে আপনি দায়ী হবেন না।

৫. হানাফি ফকীহদের মত

  • মুফতি মুহাম্মদ শফী (রহ.)মুফতি তকী উসমানী (দা.বা.) -এর মতে, ডিজিটাল মাধ্যমে ছবি পোস্ট করা যদি অশ্লীলতা বা ফিতনার কারণ হয়, তবে তা নাজায়েয। কিন্তু অ্যালগরিদমজনিত মিশ্রণকে ইচ্ছাকৃত অসম্মান না হলে বিদআত বা কুফর বলা যাবে না। (মা’আরিফুল কুরআন, সূরা নূরের ব্যাখ্যা; ফাতাওয়া উসমানী, ২/৪৫৭)
  • ইবনে আবেদীন (রহ.) বলেন, “প্রাণীর ছবি তোলা নাজায়েয, কিন্তু যদি কেউ ছবি না তোলে বরং ছবি দেখে, তবে সে শাস্তি পাবে না, যতক্ষণ না তা ইচ্ছাকৃতভাবে হারাম কাজের উদ্দেশ্যে দেখে।” (রদ্দুল মুহতার, ১/৬৪৮)

উপসংহার

  • ছবি পোস্ট করা নিজে গুনাহের কাজ (যদি সতর প্রকাশিত হয় বা অশ্লীল হয়)।
  • নিউজ ফিডে কুরআন-হাদিসের স্বয়ংক্রিয় আসা ইচ্ছাকৃত অসম্মানের অন্তর্ভুক্ত নয়, তাই শিরক বা কুফুরি নয়।
  • ছোট গুনাহ হবে যদি ছবিটি নাজায়েয হয়; কিন্তু বড় শিরক বা কুফুরি না।
  • সর্বোত্তম হলো শরীয়তের পূর্ণ সম্মান রক্ষা করে ছবি পোস্ট না করা, বিশেষ করে পা-সহ পূর্ণ ছবি।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে দ্বীনের সঠিক বুঝ দান করুন এবং হারাম থেকে দূরে রাখুন। (আমিন)


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.