পূর্বের হায়েযের ১১ তম দিনে রক্তস্রাব হলে করণীয় কি? রোযা কি বিশুদ্ধ হয়েছে?
Taharah Purity · Ahle Hadith / Salafi
Question
শাইখ, আমার একটি মাসায়েল জানার ছিল।
আমার এই মাস এ সাধারণ পিরিয়ড শেষ হওয়ার পর ১১ দিন পরে আবার পিরিয়ড শুরু হয় । তারপর ঐটা শেষ হওয়ার পরে আবার রক্ত দেখা দেয় পরে । তাও আবার এই পিরিয়ড শেষ হওয়ার ৩ দিন পর আবার হালকা রক্ত দেখছি।
আমার স্বাভাবিক পিরিয়ড সাধারণত ১০ দিন থাকে।
এখন আমার প্রশ্ন হলো:
১. এই মাঝখানের রক্তগুলোকে কি হায়েয ধরব নাকি ইস্তিহাদা?
২. আজকে আমি যিলহজ্জ মাসের নফল রোজা রেখেছি। এই অবস্থায় আমার রোজা কি সহিহ হবে, নাকি রোজা ভেঙে ফেলতে হবে?
আপনি দয়া করে আমাকে সঠিক মাসায়েল জানিয়ে উপকৃত করবেন।
জাযাকাল্লাহু খাইরান।
Answer
উত্তর:
ওয়া আলাইকুম আসসালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।
প্রথমেই জেনে রাখা জরুরি যে, নারীর হায়েয (মাসিক) ও ইস্তিহাযা (অসুস্থতাজনিত রক্ত) নির্ধারণের জন্য কুরআন ও সহিহ হাদিসের পাশাপাশি সালাফি উলামাদের (শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যাহ, ইবনুল কাইয়িম, শাইখ ইবন বায, শাইখ আলবানী, শাইখ উসাইমীন, শাইখ সালিহ আল-ফাওযান) ফতোয়া অনুসরণ করাই আমাদের উদ্দেশ্য।
১. মাঝখানের রক্তগুলো কি হায়েয না ইস্তিহাযা?
আপনার স্বাভাবিক হায়েযের সময়সীমা ১০ দিন। প্রথম পিরিয়ড শেষ হওয়ার পর ১১ দিন পূর্ণ পবিত্রতা ছিল। তারপর আবার রক্ত দেখা দেয়। এরপর তা বন্ধ হওয়ার ৩ দিন পর আবার হালকা রক্ত আসে।
সালাফি উলামাদের নিকট মূলনীতি:
- হায়েযের সর্বনিম্ন ব্যবধান (পবিত্রতার সময়) হলো ১৫ দিন (ইমাম আহমাদ ও অধিকাংশ হাম্বলি scholars-এর মত) [দেখুন: শাইখ ইবন উসাইমীন, "আশ-শারহুল মুমতি", ১/৫০০]।
- যদি দুই রক্তপাতের মধ্যে পবিত্রতার সময় ১৫ দিনের কম হয়, তাহলে দ্বিতীয় রক্তটি ইস্তিহাযা গণ্য হবে, হায়েয নয়। বরং এটাকে প্রথম হায়েযের ধারাবাহিকতা মনে করা যাবে না, কারণ ১১ দিন পবিত্রতা থাকার পর নতুন রক্ত এসেছে।
- আর যদি রক্ত হালকা, হলুদ বা পিচ্ছিল হয় এবং হায়েযের স্বাভাবিক লক্ষণ (কালো, গাঢ়, দুর্গন্ধ) না থাকে, তাহলে সেটাও ইস্তিহাযা।
আপনার ক্ষেত্রে প্রয়োগ:
- প্রথম পিরিয়ড (১০ দিন) শেষে আপনি পবিত্র হয়েছেন।
- ১১ দিন পর পুনরায় রক্ত আসা – এটি ১৫ দিনের কম ব্যবধান, তাই এটি ইস্তিহাযা (অসুস্থতাজনিত রক্ত)।
- তারপর আবার ৩ দিন পর হালকা রক্ত – এটিও ইস্তিহাদা, কারণ পূর্ববর্তী রক্তের সাথে ব্যবধান ১৫ দিনের কম এবং এটি হায়েযের লক্ষণপূর্ণ নয়।
সুতরাং, এই সমস্ত রক্তকে ইস্তিহাযা গণ্য করতে হবে।
তবে আপনি যদি নিশ্চিত হতে চান যে এটি হায়েযের নিয়ম অনুযায়ী আসছে কিনা, তাহলে আপনার স্বাভাবিক হায়েযের মেয়াদ (১০ দিন) ও চক্রের দিকে লক্ষ রাখুন। যেহেতু এটি স্বাভাবিক চক্রের বাইরে, তাই ইস্তিহাদা।
দলিল:
- রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ফাতিমা বিনতে আবি হুবাইশকে বলেছিলেন: "হায়েযের রক্ত হলো কালো ও চেনা যায় (গাঢ় ও দুর্গন্ধযুক্ত)। আর যখন এটি ভিন্ন হয়, তখন তা ইস্তিহাযা।" (মুসলিম, হা/৩৩৩; নাসাঈ, হা/২১৬; সহিহ)
- শাইখ ইবন বায (রহ.) বলেন: "যদি কোনো নারীর হায়েযের একটি নির্দিষ্ট সময় থাকে, তারপর তা পরিবর্তিত হয় এবং রক্ত আসতে থাকে ১৫ দিনের বেশি, তাহলে তা ইস্তিহাযা। তবে যদি ১৫ দিনের মধ্যে আসে এবং হায়েযের লক্ষণ থাকে, তাহলে তা হায়েয।" (মাজমু ফতোয়া ইবন বায, ১০/২০৫)
- শাইখ ইবন উসাইমীন (রহ.) বলেন: "যদি পবিত্রতার ব্যবধান ১৫ দিনের কম হয়, তাহলে দ্বিতীয় রক্ত হায়েয নয়, বরং ইস্তিহাযা।" (আশ-শারহুল মুমতি, ১/৫১০)
২. যিলহজ্জের নফল রোজা কি সহিহ হবে?
যেহেতু আপনি ইস্তিহাদায় আক্রান্ত (অর্থাৎ রক্ত হায়েয নয়), তাই আপনার রোজা সহিহ। ইস্তিহাযার রক্ত রোজা ভঙ্গ করে না। আপনি নামাজ, রোজা সবই করতে পারবেন, তবে প্রত্যেক নামাজের জন্য নতুন ওযু করতে হবে এবং কাপড় ও শরীর থেকে রক্ত পরিষ্কার করে নিতে হবে।
দলিল:
- রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইস্তিহাযায় আক্রান্ত নারীদের নামাজ ও রোজা রাখার অনুমতি দিয়েছেন। (বুখারি, হা/৩২৮; মুসলিম, হা/৩৩৪)
- শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যাহ (রহ.) বলেন: "ইস্তিহাযার রক্ত হায়েযের মতো নয়; এটি নামাজ ও রোজার জন্য বাধা সৃষ্টি করে না।" (মাজমু ফতোয়া, ২১/৬২৭)
সুতরাং, আপনার রোজা সহিহ। আপনি যিলহজ্জের ৮, ৯ ও ১০ তারিখের নফল রোজা রাখতে পারেন (আরাফার দিন ও তার আগে), তবে ১০ যিলহজ্জ কুরবানির দিন রোজা নিষিদ্ধ।
সংক্ষিপ্ত ফতোয়া:
- প্রথম পিরিয়ড শেষে ১১ দিন পর ও ৩ দিন পর আসা রক্ত ইস্তিহাযা। এগুলো হায়েয নয়।
- আপনার নফল রোজা সহিহ। রোজা ভাঙবেন না। ইস্তিহাযার কারণে রোজা ভঙ্গ হয় না।
আল্লাহ আপনাকে ধৈর্য ও সঠিক বুঝ দান করুন।
জাযাকাল্লাহু খাইরান।