কুরআন খতমের নিয়ত ভঙ্গ, মাসিক অবস্থায় করণীয় ও গুনাহের বিধান।
Halal and Haram · Hanafi
Question
আমি নিয়ত করে ছিলাম ১০ দিনে কুরআন খতমের
গাফিলতি + অসুস্থতার জন্য পড়া হয় নি
৪ পাড়া বাকি আছে
মনে হচ্ছে আজকে পিরিয়ড হবে
কি করবো
গুনাহ হবে?
Answer
উত্তর
আপনি কুরআন খতমের জন্য ১০ দিনের একটি নিয়ত করেছিলেন। কিন্তু গাফিলতি ও অসুস্থতার কারণে তা সম্পন্ন করতে পারেননি। এখন আপনার পিরিয়ড শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। নিচে হানাফি ফিকহের আলোকে বিস্তারিত উত্তর দেওয়া হলো।
১. নিয়ত ভঙ্গের বিধান
আপনার ১০ দিনে কুরআন খতমের নিয়তটি ছিল একটি ব্যক্তিগত ইচ্ছা বা মানসিক সংকল্প, এটি কোনো মান্নত (নযর) বা ওয়াজিব কাজ ছিল না। তাই এটি ভঙ্গ করা গুনাহ নয়, তবে ইচ্ছাকৃতভাবে অবহেলা করা অনুচিত। হানাফি ফিকহে বলা হয়েছে:
"إذا نوى شيئا من الخير ثم لم يفعله، فإن كان تركه لعذر فلا إثم عليه، وإن كان بلا عذر فالأولى أن يفعل، وتركه مكروه تنزيها."
অর্থ: "যদি কেউ কোনো নেক কাজের ইচ্ছা করে পরে তা না করে, তবে যদি ওজর (অজুহাত) থাকে তাহলে তার ওপর কোনো গুনাহ নেই। আর যদি কোনো ওজর ছাড়া ছেড়ে দেয়, তাহলে উত্তম হলো তা করা, আর তা ছেড়ে দেওয়া মাকরুহে তানজিহি।" (রদ্দুল মুহতার, ১/১২৪; ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ৫/৩৫৭)
আপনার ক্ষেত্রে অসুস্থতা একটি বৈধ ওজর, তাই এ কারণে পড়া না হওয়ায় গুনাহ হবে না। তবে গাফিলতি (অবহেলা) কারণে যদি কিছুদিন পড়া বাদ পড়ে থাকে, তাহলে সেটার জন্য তওবা করা উচিত এবং পরে তা পূরণ করে নেওয়া উচিত।
২. পিরিয়ড অবস্থায় করণীয়
- হায়েয (মাসিক) অবস্থায় কুরআন মাজিদ স্পর্শ করা বা তিলাওয়াত করা জায়েজ নয়। (সূরা ওয়াকিয়া: ৭৯; বাহিশ্তি জেওয়ার, ২/২২)
- আপনি কুরআনের অর্থ ও তাফসির পড়তে পারেন, অথবা মুখস্থ থেকে দোয়া ও আয়াত (যা সাধারণ দোয়া হিসেবে পড়া হয়) পড়তে পারেন, কিন্তু তিলাওয়াতের নিয়তে পড়বেন না।
- কুরআনের আয়াত শোনা বা মোবাইল/ডিজিটাল ডিভাইসে তিলাওয়াত শোনা জায়েজ আছে, তবে স্পর্শ না করাই উত্তম।
৩. বাকি ৪ পারা কীভাবে পড়বেন?
পিরিয়ড শেষে পবিত্র হয়ে (গোসল করে) আপনি যেকোনো সময় বাকি ৪ পারা তিলাওয়াত করে নেবেন। ১০ দিনের বাঁধন আর নেই, আপনি ধীরে ধীরে সম্পন্ন করুন। মনে রাখবেন, কুরআন খতম করা ফরজ নয়, তবে এটি খুবই ফজিলতপূর্ণ কাজ। আপনার নিয়ত ছিল সওয়াবের জন্য, তাই তা পূর্ণ করার চেষ্টা রাখা ভালো।
৪. গুনাহ হবে কি?
- না, আপনার ওপর গুনাহ হবে না, কারণ আপনার ওজর (অসুস্থতা ও হায়েয) আছে।
- তবে গাফিলতির কারণে যদি ইচ্ছাকৃতভাবে পড়া বাদ দিয়ে থাকেন, তাহলে আল্লাহর কাছে তওবা করুন এবং ভবিষ্যতে সময়মতো পড়ার চেষ্টা করুন। আল্লাহ তাআলা ক্ষমাশীল।
৫. পরামর্শ
- পিরিয়ড শেষে দ্রুত বাকি ৪ পারা সম্পন্ন করুন।
- কুরআন তিলাওয়াতের জন্য কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে না দিয়ে প্রতিদিন পরিমিত পরিমাণ পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন।
- অসুস্থতা বা অন্য ওজরে পড়া না হলে পরে কাযা করে নিন, এতে কোনো সমস্যা নেই।
সারসংক্ষেপ: আপনার নিয়ত ভঙ্গের জন্য গুনাহ হবে না, তবে অবহেলার জন্য তওবা করুন। পিরিয়ড শেষে বাকি পারা পড়ে নিন। আল্লাহ তওবা কবুল করেন।