স্বপ্নে কেয়ামত, বিল্ডিং ভেঙে যাওয়া ও কুরআনের লেখা মুছে যাওয়া দেখার ইসলামী ব্যাখ্যা কি?

Miscellaneous Fiqh · Hanafi

Question No: 7860
Questioner: Tanjia rahman
Question Asked: 03 Nov 2026, 01:28 PM
Reviewed & Published: 03 Nov 2026, 01:49 PM
Views: 9
Tokens: 2,836
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

বহুত দিন আগে স্বপ্নে দেখি সব বিল্ডিং ভেঙে যাচ্ছে, কুরআন এর পাতা থেকে লেখা মুছে যাচ্ছে, অর্থাৎ কেয়ামত স্বপ্নে দেখি। এর অর্থ কী?

Answer

স্বপ্নে কেয়ামত ও কুরআনের লেখা মুছে যাওয়া দেখার ব্যাখ্যা

প্রশ্নের সারসংক্ষেপ

প্রশ্নকারী বহুদিন আগে স্বপ্নে দেখেছেন—সব বিল্ডিং ভেঙে পড়ছে এবং কুরআনের পাতা থেকে লেখা মুছে যাচ্ছে; তিনি এটাকে কেয়ামতের স্বপ্ন বলে মনে করছেন। জানতে চেয়েছেন এর অর্থ কী।

ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গি: স্বপ্ন তিন প্রকার

রাসূলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেছেন—

الرُّؤْيَا ثَلَاثٌ: رُؤْيَا الصَّالِحَةُ بُشْرَى مِنَ اللهِ، وَرُؤْيَا تَحْزِينٌ مِنَ الشَّيْطَانِ، وَرُؤْيَا مِمَّا يُحَدِّثُ بِهِ الْمَرْءُ نَفْسَهُ

অর্থ: স্বপ্ন তিন প্রকার—(১) নেক স্বপ্ন, যা আল্লাহর পক্ষ থেকে সুসংবাদ; (২) দুঃস্বপ্ন, যা শয়তানের পক্ষ থেকে দুশ্চিন্তা; (৩) এমন স্বপ্ন যা মানুষের নিজের মনের ভাবনা থেকে জন্ম নেয়।
(সহীহ মুসলিম, হাদিস ২২৬৩; সহীহ বুখারী, হাদিস ৬৯৯০—মর্মানুসারে)

সুতরাং প্রতিটি স্বপ্নই তাৎপর্যপূর্ণ বা ভবিষ্যদ্বাণীমূলক নয়। অনেক স্বপ্ন মনের চিন্তা-ভাবনা বা শয়তানের কুমন্ত্রণার ফল হতে পারে।

স্বপ্নে কেয়ামত দেখা প্রসঙ্গে

কেয়ামতের প্রকৃত সময়-সংকেত বা বড় বড় নিদর্শন (যেমন সূর্য পশ্চিম থেকে উদয় হওয়া, দাজ্জালের আবির্ভাব ইত্যাদি) স্বপ্নে দেখা মানে বাস্তবে কেয়ামত নিকটে এসে গেছে—এমন সিদ্ধান্ত টানা যায় না। আলিমগণ বলেন, কেয়ামত-সংক্রান্ত স্বপ্ন সাধারণত দুটি দিক নির্দেশ করতে পারে:

  1. নসিহত ও সতর্কবার্তা: দুনিয়ার ধ্বংসশীলতা, মৃত্যুর স্মরণ এবং দ্বীনের প্রতি মনোযোগ দেওয়ার তাগিদ।
  2. মনের প্রভাব: কেয়ামত, আখিরাত বা দ্বীনি বিষয় নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তা করলে তা স্বপ্নে প্রতিফলিত হতে পারে।

বিল্ডিং ভেঙে পড়া ও কুরআনের লেখা মুছে যাওয়ার মতো দৃশ্য—এগুলোকে কেউ কেউ দ্বীনি জ্ঞানের প্রতি অবহেলা বা দ্বীন থেকে দূরে সরে যাওয়ার প্রতি ইশারা হিসেবে ব্যাখ্যা করেন, তবে এটি কোনো নিশ্চিত ভবিষ্যদ্বাণী নয়; বরং এটি ইজতেহাদি (অনুমানভিত্তিক) ব্যাখ্যা।

হাদিসের নির্দেশনা: দুঃস্বপ্ন দেখলে কী করবেন?

রাসূলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেছেন—

إِذَا رَأَى أَحَدُكُمْ رُؤْيَا يَكْرَهُهَا فَلْيَتَعَوَّذْ بِاللهِ مِنْ شَرِّهَا وَلْيَتْفُلْ عَنْ يَسَارِهِ ثَلَاثًا

অর্থ: যখন তোমাদের কেউ অপছন্দনীয় স্বপ্ন দেখে, সে যেন তার অনিষ্ট থেকে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করে এবং বাম দিকে তিনবার থুতু (শুষ্ক ফুঁ) দেয়।
(সহীহ মুসলিম, হাদিস ২২৬২)

অন্য হাদিসে এসেছে, অপছন্দনীয় স্বপ্ন দেখলে কারো কাছে বর্ণনা করা উচিত নয় এবং এটিকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত নয়। (সহীহ মুসলিম, হাদিস ২২৬৮)

হানাফি ফিকহের আলোকে করণীয়

  • দুঃস্বপ্ন দেখে ভয় পাওয়ার বা দুশ্চিন্তায় পড়ার প্রয়োজন নেই; এটি ঈমানের দুর্বলতা নয়।
  • আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল (ভরসা) রাখুন এবং নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, কুরআন তিলাওয়াত ও যিকির-আযকারে মনোযোগ দিন।
  • কুরআন তিলাওয়াত ও দ্বীনি ইলম শিক্ষার প্রতি বিশেষ যত্ন নিন—এটি স্বপ্নের সম্ভাব্য ইশারার সর্বোত্তম প্রতিকার।
  • স্বপ্নের ভিত্তিতে কোনো বড় সিদ্ধান্ত (বিয়ে, ব্যবসা, ভ্রমণ ইত্যাদি) নেবেন না; প্রয়োজনে বিশ্বস্ত আলিমের সাথে পরামর্শ করুন।
  • দুশ্চিন্তা দূর করতে "আউযু বিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজীম" পড়ুন এবং দুঃস্বপ্নের কথা কাউকে বলবেন না।

উপসংহার

আপনার দেখা স্বপ্নকে কেয়ামতের নিশ্চিত সংকেত বা অশুভ লক্ষণ হিসেবে ভাবার কোনো দলিল নেই। এটি সম্ভবত মনের চিন্তা বা নসিহতস্বরূপ স্বপ্ন। ইসলামের নির্দেশনা হলো—এ ধরনের স্বপ্নে ভয় না পেয়ে আল্লাহর উপর ভরসা করা, দ্বীনের প্রতি মনোযোগ বাড়ানো এবং দুশ্চিন্তা দূর করার জন্য দুআ-যিকির করা। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।


আল্লাহ সর্বজ্ঞ।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.