তাকলিদে শাখসী না করার জন্য কি গুনাহ হবে?
Miscellaneous Fiqh · Ahle Hadith / Salafi
Question
Answer
আহলে হাদিস ফিকহ অনুসরণ করা এবং তাকলিদে শাখসী
প্রশ্নের সারসংক্ষেপ
আপনি ছোট থেকে আহলে হাদিস (সালাফি) ফিকহ অনুসরণ করেন। জানতে চেয়েছেন—এতে উম্মতের ইজমার খেলাফ হবে কি? তাকলিদে শাখসী (নির্দিষ্ট ব্যক্তির অন্ধ অনুসরণ) না করার কারণে ওয়াজিব তরকের গুনাহ হবে কি?
জবাবঃ- পূর্বের প্রশ্নের জবাব আপনি মূলত হানাফি মাযহাবের আলোকে দিতে বলেছেন, সুতরাং হানাফি মাযহাবের আলোকে আপনার প্রশ্নের জবাব দেয়া হয়েছে।
এখন এই প্রশ্নের জবাব Ahle Hadith / Salafi এর আলোকে চেয়েছেন,সুতরাং এই প্রশ্নের জবাব Ahle Hadith / Salafi এর আলোকে দেয়া হচ্ছেঃ-
(আপনি যে মত অনুসরণ করেন সেই মতের আলোকেই প্রশ্নের জবাব জানতে চাওয়ার পরামর্শ থাকবে,আহলে হাদীস অনুসারী হয়ে হানাফি মাযহাবের আলোকে প্রশ্ন করা শরীয়তে গ্রহণযোগ্য নয়। )
১. আহলে হাদিস ফিকহ অনুসরণ করা কি ইজমার খেলাফ?
উত্তর: না, এটি উম্মতের ইজমার খেলাফ নয়।
কারণ, আহলে হাদিস/সালাফি ফিকহ কোনো নতুন মাযহাব নয়; বরং এটি কুরআন ও সহীহ সুন্নাহর সরাসরি অনুসরণ। ইমাম আবু হানিফা, ইমাম মালিক, ইমাম শাফিঈ ও ইমাম আহমাদ (রহিমাহুমুল্লাহ) —সকলেই বলেছেন: যখন সহীহ হাদিস পাও, তখন সেটাই আমার মাযহাব।
ইমাম শাফিঈ (রহ.) বলেছেন:
«إِذَا صَحَّ الْحَدِيثُ فَهُوَ مَذْهَبِي» "যখন হাদিস সহীহ প্রমাণিত হবে, সেটাই আমার মাযহাব।" (ইবনুল কাইয়িম, ই'লামুল মুওয়াক্কিঈন ২/৩৬৩)
ইমাম আহমাদ (রহ.) বলেছেন:
«لَا تُقَلِّدْنِي وَلَا تُقَلِّدْ مَالِكًا وَلَا الشَّافِعِيَّ وَلَا الْأَوْزَاعِيَّ وَلَا الثَّوْرِيَّ» "তুমি আমার তাকলিদ করো না, মালিকেরও না, শাফিঈরও না, আওযাঈরও না, ছাওরীরও না।" (ইবনুল কাইয়িম, ই'লামুল মুওয়াক্কিঈন ২/২০১)
সুতরাং আহলে হাদিস ফিকহ অনুসরণ করা মানে ইজমার খেলাফ নয়; বরং এটি ইজমারই অন্তর্ভুক্ত—কারণ উম্মতের ইজমা হলো কুরআন ও সুন্নাহর অনুসরণে।
শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যাহ (রহ.) বলেন:
"যে ব্যক্তি সহীহ হাদিস অনুসরণ করে, সে কখনো ইজমার বাইরে যায় না; কারণ উম্মতের ইজমা কখনো সহীহ হাদিসের বিরোধী হয় না।" (মাজমূ' আল-ফাতাওয়া ১৯/১৯১)
২. তাকলিদে শাখসী না করার জন্য ওয়াজিব তরকের গুনাহ হবে কি?
**উত্তর: না, গুনাহ হবে না।
আল্লাহ তা'আলা বলেন:
﴿اتَّبِعُوا مَا أُنزِلَ إِلَيْكُم مِّن رَّبِّكُمْ وَلَا تَتَّبِعُوا مِن دُونِهِ أَوْلِيَاءَ﴾ "তোমরা তোমাদের রবের পক্ষ থেকে যা নাযিল করা হয়েছে তার অনুসরণ করো, এবং তাকে ছেড়ে অন্য অভিভাবকদের অনুসরণ করো না।" (সূরা আল-আ'রাফ: ৩)
আল্লাহ আরও বলেন:
﴿وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانتَهُوا﴾ "রাসূল তোমাদের যা দেন তা গ্রহণ করো, আর যা থেকে নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো।" (সূরা আল-হাশর: ৭)
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
«فَعَلَيْكُمْ بِسُنَّتِي وَسُنَّةِ الْخُلَفَاءِ الرَّاشِدِينَ الْمَهْدِيِّينَ، عَضُّوا عَلَيْهَا بِالنَّوَاجِذِ» "তোমরা আমার সুন্নাহ ও খুলাফায়ে রাশিদীনের সুন্নাহ আঁকড়ে ধরো, দাঁত দিয়ে কামড়ে ধরো।" (আবু দাউদ ৪৬০৭, তিরমিযী ২৬৭৬ —সহীহ)
শাইখ ইবন উসাইমীন (রহ.) বলেন:
"তাকলিদে শাখসী ওয়াজিব নয়; বরং ওয়াজিব হলো দলীল অনুসরণ করা। আর যদি কোনো সাধারণ মানুষ দলীল বোঝার সামর্থ্য না রাখে, সে নির্ভরযোগ্য আলিমকে জিজ্ঞেস করবে—এটি তাকলিদ নয়, বরং ইত্তিবা।" (মাজমূ' ফাতাওয়া ইবন উসাইমীন ২৬/১৩)
শাইখ ইবন বায (রহ.) বলেন:
"কোনো নির্দিষ্ট ইমামের অন্ধ তাকলিদ করা জায়েয নয়; বরং কর্তব্য হলো কুরআন ও সুন্নাহর দলীল অনুসরণ করা।" (মাজমূ' ফাতাওয়া ইবন বায ৪/১৭)
শাইখ সালিহ আল-ফাওযান (হাফিযাহুল্লাহ) বলেন:
"তাকলিদে শাখসী পরিত্যাগ করা ওয়াজিব নয়—বরং ওয়াজিব হলো দলীল অনুসরণ। তবে যে ব্যক্তি দলীল বোঝে না, তার জন্য নির্ভরযোগ্য আলিমের ফতোয়া গ্রহণ করা বৈধ।" (আল-ইজাবাতুল ফাওয়াইদ)
৩. গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ
১. আপনি আহলে হাদিস ফিকহে থাকুন—এটি কুরআন ও সুন্নাহর অনুসরণ, যা সর্বোত্তম পথ।
২. তাকলিদে শাখসী পরিত্যাহ করুন—কোনো ইমামের অন্ধ অনুসরণ নয়; বরং দলীল দেখে আমল করুন।
৩. আদব রক্ষা করুন—অন্য মাযহাবের অনুসারীদের প্রতি সম্মান রাখুন; তাদের তাকলিদ করুন বা না করুন, তা নিয়ে বিতর্কে জড়াবেন না।
৪. ইলম অর্জন করুন—সহীহ হাদিস ও ফিকহ শিখুন; যাতে দলীলসহ আমল করতে পারেন।
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
«مَنْ يُرِدِ اللَّهُ بِهِ خَيْرًا يُفَقِّهْهُ فِي الدِّينِ» "আল্লাহ যার কল্যাণ চান, তাকে দ্বীনের ফিকহ (গভীর জ্ঞান) দান করেন।" (বুখারী ৭১, মুসলিম ১০৩৭)