ইস্তিহাযা ও হায়েযের পার্থক্য, দুই হায়েযের মাঝে ১৫ দিন পবিত্রতার বিধান, ইস্তিহাযার অবস্থায় নামাজ-রোজার হুকুম কি?

Taharah Purity · Hanafi

Question No: 7343
Questioner: Dutty Hussnin
Question Asked: 24 Oct 2026, 01:42 PM
Reviewed & Published: 24 Oct 2026, 03:16 PM
Views: 16
Tokens: 4,617
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আমার পিরিয়ড শেষ হয়েছে ৯ তারিখে অক্টোবরের , আমি ১০ তারিখ থেকে নামাজ শুরু করেছি । এরপর ১১ দিন পরে আমার লাল শ্রাব দেখা যায়। যেহেতু ২ হাযেযের মাঝে সর্বনিম্ন পবিত্রতার সময়সীমা ১৫ দিন তাই আমি নামাজ রোজা করছি। কিন্তু আমি কনফিউজড, আমার এখনও লাল শ্রাব আসছে , গত পিরিয়ড শেষ হওয়ার ১৫ তম দিন আজকে। তাহলে আগামীকাল থেকে আমি কি নামাজ রোজা বন্ধ করে দিব না চালিয়ে যাব ?

Answer

ইস্তিহাযার হুকুম সম্পর্কে বিস্তারিত উত্তর

প্রশ্নের সারসংক্ষেপ

প্রশ্নকারীর বর্ণনা অনুযায়ী:

  • পিরিয়ড শেষ: ৯ অক্টোবর
  • ১০ অক্টোবর থেকে নামাজ শুরু
  • ১১ দিন পর (অর্থাৎ ২০ অক্টোবর) আবার লাল শ্রাব শুরু
  • এখন পিরিয়ড শেষ হওয়ার ১৫তম দিন (২৪ অক্টোবর)
  • প্রশ্ন: আগামীকাল থেকে নামাজ-রোজা বন্ধ করবেন কি না?

আপনার প্রশ্নের শরঈ সমাধান এবং ফিকহী কিতাবের হাওয়ালা (ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বর সহ) নিচে বিস্তারিত প্রদান করা হলো:


সংক্ষিপ্ত সিদ্ধান্ত:

হ্যাঁ, আগামীকাল ২৫ অক্টোবর (১৬তম দিন) থেকে আপনাকে নামায ও রোযা বন্ধ রাখতে হবে। কেননা ২৫ অক্টোবর থেকে আপনার হায়েয শুরু হবে।


শরঈ ব্যাখ্যা ও ফিকহী নীতি:

১. সর্বনিম্ন পবিত্রতার সময় (তুহুর): ফিকহে হানাফী অনুযায়ী দুই হায়েজের মধ্যবর্তী সর্বনিম্ন পবিত্রতার (পাক থাকার) সময়সীমা হলো ১৫ দিন। ২. ১১তম থেকে ১৫তম দিনের রক্তের হুকুম: গত ৯ই অক্টোবর পিরিয়ড শেষ হওয়ার পর ১০ই অক্টোবর থেকে শুরু করে ১৫ দিন পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত (অর্থাৎ ১১তম দিন থেকে ১৫তম দিন পর্যন্ত) যে লাল স্রাব দেখা গেছে, তা ১৫ দিনের পবিত্রতা সম্পন্ন না হওয়ার কারণে ইস্তিহাজা (অসুস্থতাজনিত রক্ত) হিসেবে গণ্য ছিল। তাই উক্ত দিনগুলোতে আপনার নামায ও রোযা চালিয়ে যাওয়া শরীয়ত মোতাবেক শতভাগ সঠিক ছিল। ৩. ১৫ দিন পূর্ণ হওয়ার পরের রক্তের হুকুম: যেহেতু আজকে আপনার আগের পিরিয়ড শেষ হওয়ার পর ১৫ দিনের সর্বনিম্ন পবিত্রতার সময়সীমা পূর্ণ হয়ে যাচ্ছে, তাই আগামীকাল (১৬তম দিন) থেকে যে রক্ত বা লাল স্রাব নির্গত হবে, তা আর ইস্তিহাজা থাকবে না; বরং তা নতুন 'হায়েজ' (ঋতুস্রাব) হিসেবে গণ্য হবে। ৪. করণীয়:

  • আগামীকাল থেকে রক্ত বন্ধ হওয়া পর্যন্ত (বা আপনার সাধারণ হায়েজের অভ্যস্ত দিন/সর্বোচ্চ ১০ দিন পর্যন্ত) নামায পড়া ও রোযা রাখা বন্ধ রাখবেন।
  • রক্ত পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেলে গোসল করে পবিত্র হয়ে নামায শুরু করবেন এবং রমযানের রোযা থাকলে পরবর্তীতে এই হায়েজের দিনগুলোর রোযা কাযা করে নেবেন। (উল্লেখ্য, ইস্তিহাজার সময়ে পড়া নামায ও রাখা রোযা সম্পূর্ণ আদায় হয়েছে, সেগুলোর কাযা করতে হবে না)।

সংযুক্ত কিতাবের বিবরণ (ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বর সহ):

  • নূরুল ঈযাহ: বাংলা সংস্করণ, পৃষ্ঠা: ১১৩, পরিচ্ছেদ: 'হায়েজ, নেফাস ও ইস্তিহাজা' (উদ্ধৃতি: "দুই হায়েজের মধ্যবর্তী ব্যবধান অর্থাৎ পবিত্রতার সর্বনিম্ন সময় পনের দিন।")।
  • ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী: ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা: ১১৩, ১ম অনুচ্ছেদ: 'হায়েজের বিবরণ' (মাসআলা: ৫ ও ৬); এবং ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা: ১১৭–১১৮, ৩য় অনুচ্ছেদ: 'ইস্তিহায়ার বিবরণ' (মাসআলা: ১ ও ১২)।
  • ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়া: ৫ম খণ্ড, পৃষ্ঠা: ১৯৯, 'বাবুল হায়েজ ওয়াল নিফাস ওয়া আহকামুল মা'যুর'।

আল্লাহ ভালো জানেন।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.