আমার প্রশ্ন হচ্ছে এই যে, আমার আগের চশমাটা ভেঙে যাওয়ায় নতুন একটা চশমা কিনেছি, কিন্তু বাসায় আস

Halal and Haram · Hanafi

Question No: 7313
Questioner: Hasib
Question Asked: 23 Oct 2026, 02:42 PM
Reviewed & Published: 23 Oct 2026, 02:48 PM
Views: 13
Tokens: 8,612
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আমার প্রশ্ন হচ্ছে এই যে, আমার আগের চশমাটা ভেঙে যাওয়ায় নতুন একটা চশমা কিনেছি, কিন্তু বাসায় আসার পর লক্ষ্য করলাম যে এই চশমায় এমন এক ব্যক্তির নাম লিখা আছে যে স্পষ্টভাবেই সমকামী, মানে চশমাটা এই নামে থাকা একটি জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের‌ই চশমা বলা যায়, Tom Ford ব্র্যান্ড। কেনার সময় খেয়াল করলেও জানতাম না বিষয়টা, বাসায় পরে সবটা জেনেছি। তো চশমার মূল্য পরিশোধ করে ফেলেছি এবং পাওয়ারের গ্লাস‌ও বসানো হয়েছে বিধায় ফেরত দেওয়ার কথা মাথা থেকে ফেলে দিয়ে মোট তিনটা জায়গায় লিখা সেই নামকে ডলে ডলে উঠিয়ে ভালোভাবে মুছে ফেলেছি কারণ এমন এক ব্যক্তির নাম চশমায় নিয়ে চলাফেরা করাটা আমার কাছে স্বাভাবিক ঠেকেনি। কিন্তু চশমার সামনের দিকে দুই পাশে "T" অক্ষরের মতো দুইটা লোগো মজবুতভাবে লাগানো আছে যেগুলো এই ব্র্যান্ডের প্রায় সব চশমাতেই থাকে হয়তো যা "Tom" এর "T" কে নির্দেশ করে বোধহয়, তো সেগুলো সহজে উঠাতে পারিনি চেষ্টা করেও, তো এগুলোকে পার্মানেন্ট মার্কার পেন দিয়ে কালো করে পরে উপরে সাবধানে সুপার গ্লু লাগিয়ে দিলে কি যথেষ্ট হবে? কিংবা আমার জন্য এই চশমা কেনাটাই কি হারাম ছিল? নাকি কেনা ঠিক থাকলেও যা যা আরো করা উচিত তা সবটুকু করিনি? প্লিজ বিস্তারিত দালিলিক বিশ্লেষণ সহকারে সম্ভব হলে আমাকে জানান যে এটা ব্যবহার করাই আমার জন্য বৈধ হবে কিনা অথবা আরো কী কী করা যেতে পারে।

Answer

চশমায় সমকামী ব্যক্তির নাম/ব্র্যান্ড লোগো থাকা সংক্রান্ত বিস্তারিত দালিলিক বিশ্লেষণ

ভূমিকা

প্রশ্নটি অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও গুরুত্বপূর্ণ। এখানে কয়েকটি আলাদা মাসআলা জড়িত: (১) সমকামিতার প্রতি সমর্থন বা সমকামী ব্যক্তির নাম-ব্র্যান্ড ব্যবহারের হুকুম, (২) কুফর/ফিসক-এর নাম বা প্রতীক বহনের হুকুম, (৩) ক্রয়ের সময় অজ্ঞতা থাকলে ক্রয়ের হুকুম, (৪) লোগো মুছে ফেলার পদ্ধতি ও তার যথেষ্টতা, (৫) ভবিষ্যতে কী করণীয়। নিচে ধাপে ধাপে হানাফি ফিকহের দলিলসহ আলোচনা করছি।


১. মূল নীতি: কুফর ও ফিসকের প্রতীক/নাম বহন

ক. কুরআনের দলিল

আল্লাহ তাআলা বলেন:

وَلَا تَرْكَنُوا إِلَى الَّذِينَ ظَلَمُوا فَتَمَسَّكُمُ النَّارُ "আর তোমরা জালিমদের প্রতি ঝুঁকে পড়ো না, তাহলে তোমাদেরও আগুন স্পর্শ করবে।" (সূরা হুদ: ১১৩)

وَقَدْ نَزَّلَ عَلَيْكُمْ فِي الْكِتَابِ أَنْ إِذَا سَمِعْتُمْ آيَاتِ اللَّهِ يُكْفَرُ بِهَا وَيُسْتَهْزَأُ بِهَا فَلَا تَقْعُدُوا مَعَهُمْ حَتَّى يَخُوضُوا فِي حَدِيثٍ غَيْرِهِ "আর তিনি তোমাদের প্রতি কিতাবে নাযিল করেছেন যে, যখন তোমরা শোনো আল্লাহর আয়াতসমূহ অস্বীকার করা হচ্ছে এবং তা নিয়ে উপহাস করা হচ্ছে, তখন তাদের সাথে বসো না..." (সূরা নিসা: ১৪০)

খ. হাদিসের দলিল

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন:

مَنْ تَشَبَّهَ بِقَوْمٍ فَهُوَ مِنْهُمْ "যে ব্যক্তি কোনো সম্প্রদায়ের সাদৃশ্য অবলম্বন করবে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত হবে।" (সুনানে আবু দাউদ: ৪০৩১; মুসনাদে আহমাদ)

ইমাম ইবনে আবিদিন রাহিমাহুল্লাহ রাদ্দুল মুহতার-এ (৬/৩৫৪, দারুল ফিকর) এ হাদিসের ব্যাখ্যায় বলেন—কুফফার বা ফাসিকদের বৈশিষ্ট্য ইচ্ছাকৃতভাবে অবলম্বন করা নিষিদ্ধ, যদি তা ধর্মীয় শিআর (প্রতীক) হয়।

গ. সমকামিতার হুকুম

সমকামিতা (লিওয়াত) ইসলামে কবিরা গুনাহ ও ঘৃণ্য অপরাধ। কুরআনে লূত আলাইহিস সালামের কওমের ঘটনা বর্ণিত হয়েছে (সূরা আ'রাফ: ৮০-৮১; সূরা হুদ: ৭৮-৮৩)। হানাফি ফিকহে এর শাস্তি সম্পর্কে ইমাম আবু হানিফা ও ইমাম আবু ইউসুফের মত পার্থক্য থাকলেও (তাযির/হদ) গুনাহ হওয়ায় কোনো দ্বিমত নেই। দেখুন: আল-হিদায়া (কিতাবুল হুদুদ), ফাতাওয়া আলমগিরি (২/১৬৩)।

সিদ্ধান্ত: কোনো ব্যক্তির সমকামিতা প্রকাশ্যে জানা থাকলে তার নাম বা ব্র্যান্ড-প্রতীক নিজের দেহে/পোশাকে/সামগ্রীতে বহন করা—বিশেষত তা যদি তার পরিচয়ের প্রতীক হয়—সেটি সমকামিতার প্রতি সমর্থন বা তাতে রাযামন্দির (رضا) প্রকাশের শামিল হতে পারে। আর আল্লাহ বলেন:

وَلَا تَعَاوَنُوا عَلَى الْإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ "পাপ ও সীমালঙ্ঘনে একে অপরকে সহযোগিতা করো না।" (সূরা মায়িদা: ২)

তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রাখতে হবে: ব্র্যান্ডের নাম বহন ≠ সমকামিতার প্রতি সমর্থন, যদি না ব্র্যান্ডটি নিজেই সমকামিতার প্রচারক বা সমকামী আন্দোলনের প্রতীক হিসেবে পরিচিত হয়। Tom Ford একটি ফ্যাশন ব্র্যান্ড; এর প্রতিষ্ঠাতা টম ফোর্ড সমকামী হিসেবে পরিচিত, কিন্তু ব্র্যান্ডটি নিজে সমকামিতার প্রচারণামূলক সংস্থা নয়। এ সূক্ষ্ম পার্থক্য নিচে আলোচনা করছি।


২. ক্রয়ের হুকুম: অজ্ঞতাবশত কেনা

ক. মূলনীতি: অজ্ঞতা (জাহল) ও ভুল (খতা)

হানাফি উসূল অনুযায়ী, নিষিদ্ধ বস্তুর ক্রয়-বিক্রয় নিজে নিষিদ্ধ (হারাম) হতে পারে, তবে অজ্ঞতাবশত ক্রয় করলে গুনাহ হবে না, শর্ত হলো জানার পর তা পরিত্যাগ করা।

রাদ্দুল মুহতার (৫/২৪৭) ও ফাতাওয়া উসমানি (৩/৪৩৫) -এ উল্লেখ আছে: হারাম মালের ক্রয়-বিক্রয় বাতিল ও গুনাহের কারণ, কিন্তু ক্রেতা যদি না জানে, তবে জানার পর তাকে তা থেকে বিরত হতে হবে; অজ্ঞতায় কৃত কাজের জন্য ইলাহি জবাবদিহি নেই।

খ. প্রশ্নের বাস্তবতা

আপনি কেনার সময় জানতেন না যে Tom Ford সমকামী ব্যক্তির ব্র্যান্ড। বাসায় এসে জেনেছেন। সুতরাং অজ্ঞতাবশত ক্রয়ের কারণে আপনি গুনাহগার নন। তবে এখন জেনে ফেলার পর করণীয় কী—সেটাই মূল প্রশ্ন।

গ. চশমা কি "হারাম বস্তু" হিসেবে গণ্য?

এখানে স্পষ্ট করা দরকার: চশমা নিজে হারাম নয়। চশমা একটি বৈধ প্রয়োজনীয় বস্তু (দৃষ্টি সংশোধনের জন্য)। ব্র্যান্ডের নাম বা লোগো একটি বাহ্যিক বৈশিষ্ট্য। সুতরাং "চশমা কেনা হারাম ছিল" —এ কথা ঠিক নয়; বরং সমকামী পরিচিত ব্যক্তির নাম/প্রতীক বহন করা অংশটি নিষিদ্ধতার কারণ হতে পারে। এ পার্থক্য না করলে ভুল সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হবে।

ইমাম ইবনে আবিদিন (রাদ্দুল মুহতার, ৬/৩৫৪) ও মুফতি মুহাম্মদ শফি (ইমদাদুল ফাতাওয়া, ৪/২৫০) উল্লেখ করেন—কুফফারদের শিআর (ধর্মীয় প্রতীক) বহন নিষিদ্ধ; কিন্তু সাধারণ পোশাক/সামগ্রী যা কেবল তাদের তৈরি, তা ব্যবহার করা নিষিদ্ধ নয়, যদি না তাতে ধর্মীয় প্রতীক বা কুফর-প্রচারের চিহ্ন থাকে।


৩. লোগো মুছে ফেলার পদ্ধতি ও তার যথেষ্টতা

ক. আপনি যা করেছেন তার মূল্যায়ন

আপনি তিন জায়গায় লেখা নাম ডলে মুছেছেন—এটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ। কিন্তু "T" আকৃতির দুটি লোগো মজবুতভাবে লাগানো, যা ব্র্যান্ডের প্রতীক। আপনি সেগুলো পার্মানেন্ট মার্কার দিয়ে কালো করে সুপার গ্লু লাগানোর কথা ভাবছেন।

খ. ফিকহি দৃষ্টিকোণ

১. মুছে ফেলা সম্ভব হলে তা-ই উত্তম। হাদিসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ ﷺ মূর্তি/প্রতীক মুছে ফেলার নির্দেশ দিয়েছেন (সহিহ বুখারি: ২৪৭৮; সহিহ মুসলিম: ২১০৮)। ইমাম নববী রাহিমাহুল্লাহ এ হাদিসের ব্যাখ্যায় বলেন—যা মুছে ফেলা সম্ভব, তা মুছে ফেলা ওয়াজিব; যা সম্ভব নয়, তা ঢেকে দেওয়া বা পরিবর্তন করা।

২. ঢেকে দেওয়া (তাগতিয়া) যথেষ্ট হতে পারে, যদি মূল প্রতীক দৃশ্যমান না থাকে এবং তা ব্র্যান্ড-পরিচয়ের প্রচার না করে। ফাতাওয়া আলমগিরি (৫/৩৪৮) ও রাদ্দুল মুহতার (৬/৩৫৫)-এ উল্লেখ আছে—কুফরির প্রতীক অপসারণ সম্ভব না হলে তা ঢেকে দেওয়া বা অদৃশ্য করা জায়েয, শর্ত হলো তা প্রকাশ্য প্রচার না হয়।

৩. তবে সতর্কতা: পার্মানেন্ট মার্কার + সুপার গ্লু দিয়ে ঢেকে দেওয়া একটি অস্থায়ী ও দৃষ্টিকটু সমাধান। এটি দীর্ঘস্থায়ী নাও হতে পারে, আবার চশমার সৌন্দর্যও নষ্ট করে। এর চেয়ে উত্তম হলো:

  • কোনো দক্ষ কারিগর দিয়ে লোগোটি কেটে ফেলা বা ঘষে মুছে ফেলা (যদি ফ্রেমের ক্ষতি না হয়)।
  • অথবা ফ্রেমের সেই অংশে এমন কিছু লাগানো যা স্থায়ীভাবে ঢেকে রাখে (যেমন ম্যাচিং রঙের প্যাচ)।
  • অথবা ফ্রেম পরিবর্তন করা (শুধু ফ্রেম, পাওয়ারের গ্লাস আগেরটাই ব্যবহার করা যায়)।

গ. "T" লোগো কি সমকামিতার প্রতীক?

এখানে গুরুত্বপূর্ণ: "T" অক্ষর নিজে সমকামিতার প্রতীক নয়। এটি কেবল "Tom" এর "T"। সমকামিতার প্রতীক সাধারণত রংধনু পতাকা (rainbow flag) ইত্যাদি। সুতরাং "T" লোগো বহন করা সরাসরি সমকামিতার প্রতি সমর্থন হিসেবে গণ্য হবে না—যদিও ব্র্যান্ড-পরিচয় হিসেবে এটি টম ফোর্ডের দিকে ইঙ্গিত করে।

ফাতাওয়া উসমানি (৩/৪৩৫) ও ইমদাদুল ফাতাওয়া (৪/২৫০)-এ স্পষ্ট করা হয়েছে—কোনো প্রতীক নিষিদ্ধ কিনা তা নির্ভর করে তার প্রকৃত অর্থ ও প্রচলিত ব্যবহার-এর উপর। "T" অক্ষরটি সাধারণভাবে ব্যবহৃত হয়, তাই এটি নিজে নিষিদ্ধ প্রতীক নয়।


৪. সমন্বিত সিদ্ধান্ত

ক. ক্রয় সম্পর্কে

  • চশমা কেনা নিজে হারাম ছিল না, কারণ চশমা বৈধ বস্তু এবং আপনি অজ্ঞ ছিলেন।
  • তবে সমকামী পরিচিত ব্যক্তির নাম/ব্র্যান্ড-প্রতীক বহন করা অংশটি নিষিদ্ধতার দিকে ঝুঁকে। আপনি নাম মুছে ফেলে সঠিক কাজ করেছেন।

খ. বর্তমান ব্যবহার সম্পর্কে

  • নাম মুছে ফেলার পর চশমা ব্যবহার করা জায়েয—এতে কোনো সমস্যা নেই, কারণ চশমা নিজে বৈধ এবং নামটি আর দৃশ্যমান নয়।
  • "T" লোগো: এটি নিজে সমকামিতার প্রতীক নয়, বরং ব্র্যান্ড-পরিচয়। তবে আপনি যদি ব্র্যান্ড-পরিচয় বহন করতে না চান এবং তা সহজে মুছে ফেলা সম্ভব না হয়, তবে ঢেকে দেওয়া বা ফ্রেম পরিবর্তন করা উত্তম ও সতর্কতামূলক (ইহতিয়াত)।
  • পার্মানেন্ট মার্কার + সুপার গ্লু: এটি জরুরি সমাধান হিসেবে চলে, তবে উত্তম নয়। এর চেয়ে স্থায়ী ও পরিচ্ছন্ন পদ্ধতি (কেটে ফেলা, প্যাচ লাগানো, ফ্রেম পরিবর্তন) অবলম্বন করা ভালো।

গ. আরও কী করা যেতে পারে

১. ফ্রেম পরিবর্তন: পাওয়ারের গ্লাস রেখে শুধু ফ্রেম পরিবর্তন করা সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন সমাধান। এটি ব্যয়বহুল হলেও দীর্ঘমেয়াদে সতর্কতামূলক। ২. লোগো স্থায়ীভাবে অপসারণ: কোনো অপটিশিয়ান/কারিগর দিয়ে লোগোটি ঘষে বা কেটে ফেলা। ৩. ভবিষ্যতে সতর্কতা: কোনো ব্র্যান্ড কেনার আগে তার মালিক/প্রতিষ্ঠাতার পরিচয় ও ব্র্যান্ডের আদর্শ যাচাই করা। বিশেষত যেসব ব্র্যান্ড সমকামিতা বা ইসলামবিরোধী আদর্শের প্রকাশ্য প্রচারক, সেগুলো এড়িয়ে চলা। ৪. তাওবা ও ইস্তিগফার: যদিও অজ্ঞতায় গুনাহ হয়নি, তবু সতর্কতামূলকভাবে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া এবং ভবিষ্যতে সতর্ক থাকার সংকল্প করা। ৫. সদকা: যদি মনে হয় কোনো সন্দেহ থেকে গেছে, তবে সামান্য সদকা করা যেতে পারে—তবে এটি ওয়াজিব নয়।


৫. গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা ও ভারসাম্য

এখানে একটি ভারসাম্যপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি জরুরি:

  • অতিরঞ্জন নয়: "T" অক্ষর বা চশমা নিজে সমকামিতার প্রতীক নয়। এটিকে সমকামিতার প্রতীক বলে ভয় পাওয়া ঠিক নয়।
  • উদাসীনতাও নয়: সমকামিতা ইসলামে ঘৃণ্য; সমকামী আন্দোলনের প্রকাশ্য প্রতীক (রংধনু পতাকা, বিশেষ স্লোগান) বহন করা নিষিদ্ধ।
  • মধ্যপন্থা: ব্র্যান্ড-নাম/লোগো মুছে ফেলা বা ঢেকে দেওয়া—এটাই যথেষ্ট; চশমা ফেলে দেওয়া বা অতিরিক্ত কষ্ট করা জরুরি নয়।

ইমাম আশরাফ আলী থানভী (রাহিমাহুল্লাহ) বেহেশতী যেওর-এ (পোশাক-পরিচ্ছদ অধ্যায়) বলেন—কুফফারদের ধর্মীয় প্রতীক বহন নিষিদ্ধ, কিন্তু তাদের তৈরি সাধারণ পোশাক/সামগ্রী ব্যবহারে দোষ নেই, যদি না তাতে ধর্মীয় প্রতীক থাকে।


সারসংক্ষেপ

| বিষয় | হুকুম | |---|---| | অজ্ঞতাবশত চশমা কেনা | গুনাহ নেই; চশমা নিজে হারাম নয় | | সমকামী পরিচিত ব্যক্তির নাম বহন | নিষিদ্ধ; আপনি মুছে ফেলে সঠিক করেছেন | | নাম মুছে ফেলার পর ব্যবহার | জায়েয | | "T" লোগো | নিজে সমকামিতার প্রতীক নয়; ঢেকে দেওয়া/অপসারণ উত্তম ও সতর্কতামূলক | | পার্মানেন্ট মার্কার + সুপার গ্লু | জরুরি সমাধান হিসেবে চলে, তবে স্থায়ী পদ্ধতি উত্তম | | ভবিষ্যতে | ব্র্যান্ড যাচাই করে কেনা; সতর্কতা অবলম্বন |

মূল কথা: আপনার চশমা এখন ব্যবহার করা জায়েয, বিশেষত নাম মুছে ফেলার পর। "T" লোগো নিয়ে অতিরিক্ত দুশ্চিন্তার প্রয়োজন নেই, তবে সতর্কতামূলকভাবে তা ঢেকে দেওয়া বা ফ্রেম পরিবর্তন করা উত্তম। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে হালাল-হারামের সূক্ষ্ম পার্থক্য বুঝার তাওফিক দান করুন। আমিন।


আল্লাহ ভালো জানেন।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.