স্ত্রীর মাসিকের এক সপ্তাহ পর আবার রক্ত আসলে তা হায়য না ইস্তিহাযা?
Halal and Haram · Hanbali
Question
হুজুর আমার স্ত্রীর মাসিক হইয়া আবার এক সপ্তাহ পরে আবার যদি রক্ত আসে তাহলে সেটা কি মেন্স হিসেব আর সেই অবস্থায় যদি মিলন করি তাহলে কি সেটি হারাম হবে দয়া করে একটু আমাকে জানান মেন্স হয়ে যাবে এক থেকে দেড় সপ্তাহ পরে আবার মাসিক রক্ত আসছে এটা মাসিক রক্ত হিসেবে ধরা হবে নাকি এমনি রক্ত আসছে সে এমনি ধরা হবে এবং এই অবস্থায় কি মিলন করা যাবে দয়া করে আমাকে একটু সাজেশন দেন
Answer
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
উত্তর
**এক সপ্তাহ পর আবার আসা রক্ত মাসিক (হায়য) হিসেবে গণ্য হবে না, বরং সেটি ইস্তিহাযা (অসুস্থতার রক্ত) হিসেবে গণ্য হবে।
১. মাসিকের সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ সময়
হাম্বলী মাযহাব অনুযায়ী (এবং এটি ইমাম আহমাদ, ইবনু তাইমিয়্যাহ, ইবনুল কাইয়্যিম, ইবনু বায, ইবনু উসাইমীন ও আল-ফাওযানের মত):
- সর্বনিম্ন হায়য: কোনো নির্দিষ্ট সর্বনিম্ন সীমা নেই; সামান্য রক্তও হায়য হতে পারে।
- সর্বোচ্চ হায়য: ১৫ দিন। এর বেশি হলে তা ইস্তিহাযা।
শাইখ ইবনু উসাইমীন (রহ.) বলেন: "মাসিকের সর্বোচ্চ সময় ১৫ দিন; এর বেশি হলে তা ইস্তিহাযা।" (মাজমূ‘ ফাতাওয়া ইবন উসাইমীন)
২. দুই মাসিকের মাঝে ন্যূনতম বিরতি
হাম্বলী মাযহাবের প্রসিদ্ধ মত: দুই হায়যের মাঝে ন্যূনতম ১৩ দিন পবিত্রতা থাকতে হবে। অর্থাৎ ১৩ দিনের কম বিরতিতে আবার রক্ত এলে তা হায়য নয়, ইস্তিহাযা।
ইবনু কুদামা (রহ.) «আল-মুগনী»-তে হাম্বলী মাযহাবের মত উল্লেখ করেছেন যে, দুই হায়যের মাঝে কমপক্ষে ১৩ দিন তুহর (পবিত্রতা) থাকা শর্ত।
আপনার স্ত্রীর ক্ষেত্রে: মাসিক শেষ হওয়ার মাত্র এক সপ্তাহ (৭ দিন) পর আবার রক্ত এসেছে — এটি ১৩ দিনের কম। সুতরাং হাম্বলী মাযহাবের প্রসিদ্ধ মত অনুযায়ী এটি হায়য হিসেবে গণ্য হবে না, বরং ইস্তিহাযা।
তবে ইমাম আহমাদ থেকে আরেকটি বর্ণনা আছে যে, কম বিরতিতেও রক্ত হায়য হতে পারে যদি তা মাসিকের অভ্যাসের সাথে মিলে যায়। কিন্তু নিরাপত্তার জন্য এবং প্রসিদ্ধ হাম্বলী মত অনুযায়ী — যা শাইখ ইবনু বায ও ইবনু উসাইমীন সমর্থন করেন — এটি ইস্তিহাযা।
৩. ইস্তিহাযার রক্তে সহবাসের হুকুম
ইস্তিহাযার রক্ত মাসিকের রক্ত নয়; তাই এটি সহবাস নিষিদ্ধ করে না। দলিল:
«فَاعْتَزِلُوا النِّسَاءَ فِي الْمَحِيضِ» "তোমরা মাসিকের সময় নারীদের (সহবাস থেকে) দূরে থাকো।" (সূরা আল-বাকারা: ২২২)
এই নিষেধাজ্ঞা শুধু হায়য-এর জন্য, ইস্তিহাযার জন্য নয়।
আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, ফাতিমা বিনতে আবু হুবাইশ (রা.) নবী ﷺ-কে বললেন: "আমার রক্ত বন্ধ হয় না।" তিনি বললেন:
«إِنَّمَا ذَلِكَ عِرْقٌ، فَإِذَا أَقْبَلَتِ الْحَيْضَةُ فَدَعِي الصَّلَاةَ، وَإِذَا أَدْبَرَتْ فَاغْتَسِلِي وَصَلِّي» "এটি তো একটি শিরা (থেকে আসা রক্ত)। সুতরাং যখন মাসিক শুরু হয় তখন নামায ছেড়ে দাও, আর যখন শেষ হয় তখন গোসল করে নামায পড়ো।" (সহীহ আল-বুখারী: ৩০৬, সহীহ মুসলিম: ৩৩৩)
শাইখ ইবনু উসাইমীন (রহ.) «আশ-শারহুল মুমতি‘»-তে বলেন: ইস্তিহাযার রক্তে সহবাস জায়েয, কারণ এটি হায়য নয়; তবে ওযু করে সহবাস করা মুস্তাহাব (যেমনটি ইবনু আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত আছে)।