উকুনের রক্ত, নাকের হোয়াইট হেডস ও ব্ল্যাক হেডসের হুকুম, ইস্তিনজার সুন্নত পদ্ধতি এবং পেশাবের পর পবিত্রতা অর্জনের সঠিক নিয়ম সম্পর্কে জানতে চাই?
Taharah Purity · Hanafi
Question
২.উকুনের রক্ত কি নাপাক?
৩.নাকের হোয়াইট হেডস ও ব্ল্যাক হেডস কি পুঁজের অংশ? নাপাক?
৪.পেশাবের পর পবিত্র হওয়ার সময় হাতও তো নাপাক হয়ে যায়, হাত তিনবার ধুয়ে আবার কি পেশাবের জায়গা তিনবার ধুতে হবে?
আমি সরাসরি মুফতির কাছে জানতে চাচ্ছি।
Answer
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ।
আপনার প্রশ্নগুলোর উত্তর নিচে ধারাবাহিকভাবে দেওয়া হলো। উত্তরগুলো হানাফি ফিকহের প্রামাণ্য কিতাবের আলোকে প্রদান করা হয়েছে।
১. টোকেন শেষ হলে কী করব?
উত্তর:
টোকেন যা এই ওয়েব সাইটে প্রশ্ন করতে ব্যয় হয়, যদি প্রশ্ন করতে করতে শেষ হয়ে যায়, তাহলে আপনাকে অফিসে যোগাযোগ করে টোকেন ক্রয় করে নিতে হবে।
২ নম্বর প্রশ্নের উত্তর (উকুনের রক্ত নাপাক কি না):
-
শরয়ী সিদ্ধান্ত: উকুনের রক্ত নাপাক নয়; বরং তা সম্পূর্ণ পবিত্র।
-
ফিকহী কারণ ও ব্যাখ্যা:
ইসলামি শরীআতে কেবল সেই প্রাণীর রক্ত নাপাক, যার রক্ত ধমনী থেকে সজোড়ে বা প্রবহমান আকারে (دم مسفوح) নির্গত হয় [১৫৯]। উকুন, মশা, মাছি, ছারপোকা ইত্যাদির রক্ত প্রবহমান রক্ত নয়। তাই উকুন মারলে বা উকুনের রক্ত শরীর কিংবা কাপড়ে লাগলে শরীর বা কাপড় নাপাক হয় না এবং এতে অযুও ভাঙে না । -
সংযুক্ত কিতাব, ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বর:
- নূরুল ঈযাহ: পৃষ্ঠা: ৫১ (পরিচ্ছেদ: নাজাসাতের বর্ণনা — গালীযা ও খফীফার বিবরণ)।
- ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (১ম খণ্ড): পৃষ্ঠা: ৪৫–৪৬ (অধ্যায়: কিতাবুত তাহারাত, ৭ম পরিচ্ছেদ: নাজাসাত ও তা হইতে পবিত্রতার বিবরণ)।
- দরসুল ফিকহ (১ম খণ্ড): পৃষ্ঠা: ৩৮৫ (অধ্যায়: অযু ভঙ্গের কারণসমূহ — পোকা-মাকড়, মশা ও উকুনের রক্তের বিধান)।
৩ নম্বর প্রশ্নের উত্তর (নাকের হোয়াইটহেডস ও ব্ল্যাকহেডস কি পুঁজের অংশ ও নাপাক কি না):
-
শরয়ী সিদ্ধান্ত: না, নাকের হোয়াইটহেডস (Whiteheads) ও ব্ল্যাকহেডস (Blackheads) পুঁজের অংশ নয় এবং এগুলো নাপাকও নয়।
-
ফিকহী কারণ ও ব্যাখ্যা:
১. ত্বকের হোয়াইটহেডস ও ব্ল্যাকহেডস হলো রোমকূপে জমে থাকা স্বাভাবিক চর্বি (Sebum), ত্বকের তেল ও মৃত কোষের জমাটবদ্ধ রূপ। ফিকহের দৃষ্টিকোণ থেকে মানুষের শরীরের স্বাভাবিক মেদ, চর্বি, তেল বা ময়লা নাপাক নয়।
২. রক্ত বা পুঁজ যদি ত্বকের ক্ষত বা ব্রণ থেকে বের হয়ে বাহ্যিক অঙ্গের দিকে গড়িয়ে পড়ে, তবেই তা নাপাক এবং অযু ভঙ্গকারী বলে গণ্য হয়। কিন্তু হোয়াইটহেডস বা ব্ল্যাকহেডস কোনো প্রবাহিত পুঁজ বা রক্ত নয়; তাই এগুলো চাপ দিয়ে বের করলেও হাত বা মুখ নাপাক হয় না এবং এতে অযুও নষ্ট হয় না। -
সংযুক্ত কিতাব, ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বর:
- নূরুল ঈযাহ: পৃষ্ঠা: ৩৩ (অনুচ্ছেদ: ওজু ভঙ্গের কারণসমূহ — রক্ত বা পুঁজ গড়িয়ে পড়ার শর্ত)।
- ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (১ম খণ্ড): পৃষ্ঠা: ২৫–২৬ (অধ্যায়: কিতাবুত তাহারাত, ১ম পরিচ্ছেদ: অযুর বিবরণ — চর্বি ও ময়লার ফিকহী হুকুম)।
- ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (৫ম খণ্ড): পৃষ্ঠা: ৭৩ (অধ্যায়: বাবুল ওজু — চর্বি ও মেদের পবিত্রতার বিবরণ)।
৪ নম্বর প্রশ্নের উত্তর (ইস্তিনজার সময় হাত ধোয়া ও পুনরায় পেশাবের জায়গা ধোয়া সংক্রান্ত):
-
শরয়ী সিদ্ধান্ত: না, হাত তিনবার ধুয়ে আবার নতুন করে পেশাবের জায়গা তিনবার ধুতে হবে না। এটি সম্পূর্ণ শয়তানি ওয়াসওয়াসা (অহেতুক সন্দেহ)।
-
ফিকহী কারণ ও নিয়ম:
১. পেশাবের পর পানি দিয়ে ইস্তিনজা করার সময় পানি চালনার সাথে সাথে হাত ও পেশাবের স্থান একসাথেই পবিত্র হয়ে যায়।
২. ইস্তিনজার কাজ সম্পন্ন হয়ে গেলে পরিচ্ছন্নতার উদ্দেশ্যে পানি বা সাবান দিয়ে হাতটি ভালো করে ধুয়ে নেওয়াই সুন্নাত ও নিয়ম।
৩. "হাত দিয়ে ধোয়ার কারণে পেশাবের জায়গা আবার নাপাক হয়ে গেল"—এমন চিন্তা একেবারেই ভুল এবং অহেতুক ওয়াসওয়াসা। একবার ভালোভাবে পানি দিয়ে ইস্তিনজা সম্পন্ন করে হাত ধুয়ে নিলেই আপনার ইস্তিনজা ও পবিত্রতা পুরোপুরি অর্জিত হয়ে যাবে। -
সংযুক্ত কিতাব, ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বর:
- নূরুল ঈযাহ: পৃষ্ঠা: ২১ (অনুচ্ছেদ: ইস্তিনজার বর্ণনা ও পদ্ধতি — ইস্তিনজার শেষে হাত ধৌত করার মুস্তাহাব নিয়ম)।
- ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (১ম খণ্ড): পৃষ্ঠা: ৪৮–৪৯ (অধ্যায়: কিতাবুত তাহারাত, ইস্তিনজা পরিচ্ছেদ — ইস্তিনজার পর হাত ধোয়ার সুন্নাত পদ্ধতি) ।
والله أعلم بالصواب