কোনো বোন মেডিসিন হিসেবে মাসিকের রাস্তায় মলম ব্যবহার করলে গোসল ফরজ হয় কি না, অযু ভেঙে যায় কি না, এবং নামাজের জন্য কী করণীয়
Taharah Purity · Hanafi
Question
কোনো বোন যদি অসুস্থতার জন্য মেডিসিন হিসেবে মাসিকের রাস্তায় কোনো মলম ইউজ করে এবং এটি ইউজ করতে গিয়ে ভিতরে আঙ্গুলের সাহায্য নিয়ে লাগাতে হয় তাহলে কি তার সালাত পরার জন্য গোসল করে পবিত্রতা অর্জন করতে হবে নাকি ধুয়ে অযু করে নিলেই হবে? ঔষধটি দিনে ৩ বার অঙ্গুল দিয়ে ব্যবহার করতে হয়।
Answer
وَعَلَيْكُمُ السَّلَامُ وَرَحْمَةُ اللهِ وَبَرَكَاتُهُ
সংক্ষিপ্ত উত্তর
না, এতে গোসল ফরজ হয় না। শুধু অযু করে নিলেই নামাজ পড়া যাবে। তবে ওষুধ লাগানোর পর (বিশেষত ভিতরে আঙুল প্রবেশ করানোর কারণে) অযু ভেঙে যাবে—তাই নামাজের আগে অযু করে নিতে হবে। আর ওষুধটি যদি নাপাক (نجس) হয়, তাহলে নামাজের আগে তা ধুয়ে ফেলা জরুরি হবে।
বিস্তারিত ব্যাখ্যা
১. গোসল ফরজ হয় না কেন?
গোসল ফরজ হয় কেবল নির্দিষ্ট কয়েকটি কারণে—যেমন: হায়েজ (মাসিক), নিফাস, জানাবাত (সহবাস/স্বপ্নদোষ), ইত্যাদি। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
«إِنَّمَا الْمَاءُ مِنَ الْمَاءِ»
"পানি (গোসল) ওয়াজিব হয় পানি (বীর্য) বের হওয়ার কারণে।"
— সহীহ মুসলিম, হাদিস ৩৪৩
মেডিসিন হিসেবে মলম লাগানো বা আঙুল প্রবেশ করানো—এগুলো কোনোটিই গোসল ফরজ করার কারণ নয়। ইমাম ইবন আবিদিন (রহ.) রাদ্দুল মুহতার-এ স্পষ্ট করেছেন যে, শুধু আঙুল বা কোনো বস্তু প্রবেশ করানোতে গোসল ওয়াজিব হয় না; বরং বীর্য বের হলে গোসল ওয়াজিব হয় (রাদ্দুল মুহতার, ১/১৫৪–১৫৬)।
২. অযু ভেঙে যাবে
হানাফি মাযহাব অনুযায়ী, পুরুষ বা নারীর সামনের অঙ্গে কোনো বস্তু প্রবেশ করালে (যদি তা প্রবেশের পরিমাণ হয়) অযু ভেঙে যায়। ইমাম ইবন আবিদিন (রহ.) বলেন:
"যদি কেউ নিজের অঙ্গে আঙুল প্রবেশ করায়, তবে অযু ভেঙে যাবে।"
— রাদ্দুল মুহতার, ১/২৮৭
তাই ওষুধ লাগানোর পর অযু ভেঙে যাবে; নামাজের জন্য পুনরায় অযু করতে হবে। দিনে তিনবার লাগালে তিনবারই অযু নবায়ন করতে হবে (যদি নামাজের সময় হয়)।
৩. ওষুধ নাপাক হলে ধুয়ে ফেলতে হবে
যদি ওষুধটি নাপাক (نجس) হয় (যেমন: হালাল নয় এমন উপাদান বা নাপাক চর্বি থেকে তৈরি), তাহলে শরীরে লেগে থাকা অবস্থায় নামাজ হবে না। ইমাম ইবন আবিদিন (রহ.) বলেন:
"নাপাক বস্তু শরীরে লেগে থাকলে তা ধোয়া ওয়াজিব; অন্যথায় নামাজ সহীহ হবে না।"
— রাদ্দুল মুহতার, ১/৩৩৫
তবে ওষুধটি যদি পাক (طاهر) হয় (যেমন: সাধারণ হালাল মলম/ক্রিম), তাহলে ধুয়ে ফেলা জরুরি নয়—শুধু অযু করলেই যথেষ্ট।
৪. ওষুধ ব্যবহারের সময় সতর্কতা
- ওষুধ লাগানোর সময় শুধু প্রয়োজনের স্থানে লাগাবে; অতিরিক্ত ভিতরে প্রবেশ করাবে না।
- ওষুধ লাগানোর পর হাত ধুয়ে নেবে।
- নামাজের আগে অযু করে নেবে; প্রয়োজনে ওষুধের অংশ ধুয়ে ফেলবে।
- রোজা রাখলে সতর্ক থাকতে হবে—ওষুধ যদি ভিতরে প্রবেশ করে, রোজা ভেঙে যেতে পারে (ফাতাওয়া উসমানি, ১/৪৭৮)।
সারসংক্ষেপ
| বিষয় | হুকুম | |---|---| | গোসল ফরজ? | না | | অযু ভেঙে যাবে? | হ্যাঁ (আঙুল প্রবেশ করালে) | | নামাজের জন্য কী করবে? | অযু করে নেবে | | ওষুধ নাপাক হলে? | ধুয়ে ফেলবে | | ওষুধ পাক হলে? | ধোয়া জরুরি নয় |
উৎসগ্রন্থ: রাদ্দুল মুহতার (ইবন আবিদিন), ১/১৫৪–১৫৬, ২৮৭, ৩৩৫; ফাতাওয়া উসমানি, ১/৪৭৮; সহীহ মুসলিম, হাদিস ৩৪৩; বাহিশতী জেওর (আশরাফ আলী থানভী রহ.)।
আল্লাহ সর্বজ্ঞ।