"বেড়ালের শাব, মুখের ঘা, ব্ল্যাক হেডস ও ব্রণের সাদা অংশ কি নাপাক?
Taharah Purity · Hanafi
Question
২.মুখে ঘা বা মাউথ আলসার হলে লাল হয় এবং লালের মাঝে সাদা হয়ে থাকে। এটা কি পুঁজ ও রক্তের মতো নাপাক? বমি যখন টিস্যু দিয়ে চাপ দেই সামান্য রক্ত দেখি।এর আগের জবাবে আমাকে বলা হয়েছিল নাপাক ধরতে।কিন্তু এটা তো না ঠিক হওয়া পর্যন্ত এরমই থাকবে।ঠিক হওয়া পরযন্ত কি আমাকে নাপাক ধরতে হবে?
৩.নাক ও থুনিতে যে ব্ল্যাক হেডস, হোয়াইট হেডই হয়। এটা চাপ দিলে বেরিয়ে আসে এটা কি পুঁজ বা নাপাক?
৪.আর ব্রণে সাদা অংশ তো পুরো পুঁজের মতোই লাগে।এটা কি পুঁজ ও নাপাক?
আমি উত্তরটা সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছ থেকে জানতে চাইছি।AI এর টা বুঝগে অসুবিধা হয়।
Answer
বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।
জবাব,
১. বিড়ালের পেশাব লাগা পাপস ধোয়া এবং তাতে পা দিয়ে হাঁটার শরয়ী বিধান:
-
পাপস পাক হওয়ার নিয়ম: বিড়ালের পেশাব অদৃশ্য নাপাকী (نجاسة غير مرئية)। কোনো নাপাক পাপস বা কাপড় ধোওয়ার পর ধৌতকারীর মনে যদি এই বিশ্বাস বা প্রবল ধারণা (গালিবুন যান) জন্মে যে নাপাকী দূর হয়ে গেছে, কিংবা তার ওপর ভালো করে পানি প্রবাহিত করে ধুয়ে ফেলা হয়, তবে তা সম্পূর্ণ পাক হয়ে যায়। আপনার খালা যদি তা পানি দিয়ে ধুয়ে থাকেন এবং নাপাকীর কোনো গন্ধ বা দুর্গন্ধে না থাকে, তবে পাপসটি পাক হয়ে গেছে।
-
পাপসে পা মোছা ও ঘর নাপাক হওয়ার সংশয়: ১. ধুয়ে ফেলা পাপসে পা মুছলে পা বা ঘর কোনোভাবেই নাপাক হবে ন। ২. ইসলামি ফিকহের অকাট্য মূলনীতি হলো—শুকনো নাপাক বস্তুর ওপর শুকনো পা রাখলে পা নাপাক হয় না। এমনকি ভেজা পা লাগলেও যদি পায়ে নাপাকীর কোনো প্রভাব (রং বা গন্ধ) না ফুটে ওঠে, তবে পা নাপাক গণ্য হয় না।
-
পরামর্শ: আপনার কথা কেউ না বুঝলেও আপনার চিন্তিত হওয়ার কিছু নেই। কারণ এটি কেবলই শয়তানের অহেতুক ওয়াসওয়াসা (সন্দেহ)। শরীআতের নিয়ম হলো, নিশ্চিত আলামত ছাড়া অহেতুক ধারণার বশে কোনো স্থান বা পা নাপাক ধরা সম্পূর্ণ নিষেধ।
-
সংযুক্ত কিতাব, ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বর:
- দরসুল ফিকহ (২য় খণ্ড): পৃষ্ঠা: ৭৬ & ৮৬–৮৭ (অধ্যায়: তহারত ও পানি সংক্রান্ত মূলনীতি — নাপাক কাপড়/পাপস ধোয়া এবং ধৌতকারীর প্রবল ধারণা দ্বারা পাক হওয়ার বিবরণ) ।
- ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (১ম খণ্ড): পৃষ্ঠা: ১২৬–১২৭ (অধ্যায়: নাজাসাত ও তার আহকাম — অদৃশ্য নাপাকী ধোওয়া ও তা থেকে পবিত্রতা অর্জনের নিয়ম)।
- ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (৫ম খণ্ড): পৃষ্ঠা: ২৫৬ (অধ্যায়: কিতাবুত তাহারাত — শুষ্ক নাপাক বস্তুতে শুকনো পা লাগলে নাপাক না হওয়ার ফতোয়া)।
২. মাউথ আলসার (মুখে ঘা), রক্ত ও থুথুর শরয়ী বিধান:
-
ক্ষতস্থানের লাল-সাদা অংশ: মাউথ আলসার বা মুখের ভিতরের ঘা লাল হয়ে থাকা বা ভেতরে সাদা প্রলেপ তৈরি হওয়া নাপাক নয়।
-
নাপাক হওয়া ও ওজু ভঙ্গের মূলনীতি (সায়লান বা গড়িয়ে পড়া): মুখ বা শরীরের যেকোনো ক্ষত থেকে রক্ত বা পুঁজ বের হয়ে যদি ক্ষতস্থানের সীমা অতিক্রম করে গড়িয়ে পড়ে (প্রবাহিত হয়), কেবল তখনই তা নাপাক গণ্য হয় এবং ওজু ভেঙে দেয়।
-
থুথুর সাথে রক্ত বা বমি: ১. টিস্যু দিয়ে চেপে ধরার পর যদি সামান্য রক্তের ছোপ দেখা যায়, কিন্তু তা গড়িয়ে বের না হয়, তবে মুখ বা শরীর নাপাক হবে না। ২. মুখের ঘা থেকে বের হওয়া রক্ত যদি থুথুর সাথে মেশে, তবে দেখতে হবে রক্তের পরিমাণ থুথুর চেয়ে বেশি বা সমান কি না। যদি রক্ত থুথুর চেয়ে কম হয় (থুথুর রং লাল না হয়ে স্বাভাবিক/হলুদাভ থাকে), তবে তা নাপাক নয় এবং ওজুও ভাঙবে না।
-
পরামর্শ: ঘা না শুকানো পর্যন্ত আপনাকে সারাক্ষণ নাপাক ধরে বসে থাকতে হবে না। আপনি স্বাভাবিকভাবে কুলি করবেন ও সালাত আদায় করবেন। অহেতুক মুখ নাপাক মনে করা ভুল ধারণা।
-
সংযুক্ত কিতাব, ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বর:
- নূরুল ঈযাহ: পৃষ্ঠা: ৩১–৩২ (অধ্যায়: ওজু ভঙ্গের কারণসমূহ — রক্ত ও পুঁজ গড়িয়ে না পড়া পর্যন্ত নাপাক না হওয়া এবং থুথুতে রক্তের হুকুম)।
- ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (১ম খণ্ড): পৃষ্ঠা: ৫৭ (অধ্যায়: কিতাবুত তাহারাত, ১০ ও ১১ নম্বর মাসআলা — ক্ষতস্থান ও মুখের রক্তের ফিকহী সীমা)।
৩. নাক ও থুনির ব্ল্যাকহেডস ও হোয়াইটহেডসের শরয়ী বিধান:
-
শরয়ী হুকুম: ব্ল্যাকহেডস বা হোয়াইটহেডস হলো ত্বকের লোমকূপের ভেতরে জমে থাকা স্বাভাবিক চর্বি, তেল বা মৃত কোষ। এগুলো কোনো রক্ত বা পুঁজ নয়।
-
পবিত্রতা: চাপ দিলে এগুলো বের হয়ে এলে তা শরীআতের দৃষ্টিতে শতভাগ পাক ও পবিত্র। এটি হাতে বা কাপড়ে লাগলে কাপড় নাপাক হয় না এবং এটি বের হওয়ার কারণে ওজুও ভাঙে না।
-
সংযুক্ত কিতাব, ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বর:
- নূরুল ঈযাহ: পৃষ্ঠা: ৩২ (অধ্যায়: যেসব বস্তু বের হলে ওজু ভাঙে না ও নাপাক নয়)।
- ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (৫ম খণ্ড): পৃষ্ঠা: ৬৫ (অধ্যায়: কিতাবুল ওজু — শরীরের ময়লা ও জমাকৃত চর্বি নাপাক না হওয়া)।
৪. ব্রণের ভেতরে থাকা সাদা অংশ (পুঁজ)-এর শরয়ী বিধান:
-
শরয়ী হুকুম: ব্রণের ভেতরের সাদা অংশটি মূলত জমে থাকা পুঁজ।
-
কখন নাপাক হয় আর কখন হয় না? ১. ব্রণটি যখন গালের ওপর স্বাভাবিক অবস্থায় থাকে এবং ফেটে না যায়, তখন ব্রণের ভেতরের পুঁজ নাপাক হিসেবে পরিগণিত হয় না। ২. যদি ব্রণটি টিপে দেওয়া হয় এবং ভেতরে থাকা পুঁজ বের হয়ে ব্রণের মুখ অতিক্রম করে ত্বকে গড়িয়ে পড়ে (প্রবাহিত হয়), তবে সেই গড়িয়ে পড়া পুঁজটুকু নাপাক এবং এর কারণে ওজু ভেঙে যাবে। ৩. কিন্তু টিপ দেওয়ার পর পুঁজ যদি শুধু ব্রণের মুখেই সামান্য ভেসে থাকে, গড়িয়ে নিচে না পড়ে, তবে তা নাপাক গণ্য হবে না এবং ওজুও ভাঙবে না।
-
সংযুক্ত কিতাব, ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বর:
- নূরুল ঈযাহ: পৃষ্ঠা: ৩১–৩২ (অনুচ্ছেদ: ওজু ভঙ্গের কারণ ও নাপাক বস্তু গড়িয়ে পড়ার শর্ত)।
- ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (১ম খণ্ড): পৃষ্ঠা: ৫৭ (অধ্যায়: কিতাবুত তাহারাত, ১২ নম্বর মাসআলা — ফোঁড়া বা ব্রণের পুঁজ গড়িয়ে না পড়া পর্যন্ত ওজু না ভাঙা ও নাপাক না হওয়া)।
- ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (৫ম খণ্ড): পৃষ্ঠা: ৭০ (অধ্যায়: কিতাবুল ওজু — ক্ষতের পুঁজ গড়িয়ে পড়ার ফিকহী হুকুম)।
আল্লাহ ভালো জানেন।