পূজা উপলক্ষে খাবার খাওয়া যাবে?

Halal and Haram · Hanafi

Question No: 7190
Questioner: Qurrata Ain
Question Asked: 21 Oct 2026, 11:27 AM
Reviewed & Published: 21 Oct 2026, 02:13 PM
Views: 24
Tokens: 6,130
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

১. পূজার সময়ে পূজা উপলক্ষে হিন্দুদের তৈরি খাবার মিষ্টান্ন, নাড়ু এসব খাবার হালাল হলে খাওয়া যাবে?
২. পূজার সময়ে তৈরি কিন্তু দেব দেবীর উদ্দেশ্য না এমন হলে? এক আলেমের লেকচারে শুনলাম সাহাবারা পূজার সময়ে হিন্দুদের দেওয়া খাবার খেতেন।
৩. নামাজে বিতর সলাতে দুআ কুনুত পড়েছি কি পড়িনি এমন কনফিউশান হলে কিভাবে সলাত শেষ করব?
৪. বেশিরভাগ ভালো মিষ্টির দোকানই হিন্দুদের। তাদের দোকান থেকে খাবার কিনে খাওয়া কি অনুচিত? তারা খবারে গরুর প্রসাব দেয় এমন অভিযোগের কি ভিত্তি আছে?

Answer

পূজা উপলক্ষে হিন্দুদের খাবার, বিতর সালাতের দুআ কুনুত ও হিন্দুদের দোকানের খাবার — বিস্তারিত ফিকহি আলোচনা

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম আলহামদু লিল্লাহি রাব্বিল আলামিন, ওয়াস সালাতু ওয়াস সালামু আলা সাইয়্যিদিল মুরসালিন, আম্মা বাদ:


প্রশ্ন ১: পূজার সময়ে পূজা উপলক্ষে হিন্দুদের তৈরি খাবার (মিষ্টান্ন, নাড়ু ইত্যাদি) হালাল হলে খাওয়া যাবে?

জবাবঃ- জায়েজ হবেনা,এটি খাওয়া তাদের পূজাকে সমর্থন জানানোর নামান্তর।

আল্লাহ তাআলা বলেন:

حُرِّمَتْ عَلَيْكُمُ الْمَيْتَةُ وَالدَّمُ وَلَحْمُ الْخِنزِيرِ وَمَا أُهِلَّ لِغَيْرِ اللَّهِ بِهِ "তোমাদের জন্য হারাম করা হয়েছে মৃত জন্তু, রক্ত, শূকরের গোশত এবং যা আল্লাহ ছাড়া অন্যের নামে উৎসর্গ করা হয়েছে।" (সূরা মায়িদা: ৩)


প্রশ্ন ২: পূজার সময়ে তৈরি কিন্তু দেব-দেবীর উদ্দেশ্য না হলে? সাহাবারা পূজার সময়ে হিন্দুদের দেওয়া খাবার খেতেন — এই বক্তব্যের বিশ্লেষণ

জবাবঃ- উক্ত খাবার খাওয়াও জায়েজ নেই।

খ) "সাহাবারা পূজার সময়ে হিন্দুদের দেওয়া খাবার খেতেন" — এই বক্তব্যের বিশ্লেষণ

এই বক্তব্যটি সঠিকভাবে প্রমাণিত নয় এবং এভাবে সাধারণীকরণ করা বিভ্রান্তিকর। কারণ:

১. সাহাবাদের যুগে হিন্দুদের পূজা বা তাদের প্রসাদ দেওয়ার কোনো প্রমাণিত ঘটনা নেই। সাহাবারা মূলত আরব, শাম, ইরাক, পারস্য ইত্যাদি অঞ্চলে ছিলেন; সেখানে হিন্দু পূজার প্রচলন ছিল না।

সুতরাং: "সাহাবারা পূজার সময়ে হিন্দুদের দেওয়া খাবার খেতেন" — এই বক্তব্য অপ্রমাণিত ও বিভ্রান্তিকর।

এ ধরনের অপ্রমাণিত বক্তব্যের ভিত্তিতে প্রসাদ খাওয়া জায়েজ হবে না।

ইমাম ইবনে আবিদিন (রহ.) «রাদ্দুল মুহতার»-এ বলেন:

"ولا يؤكل ما ذبح لغير الله، وكذا ما قصد به التقرب إلى غير الله." "আল্লাহ ছাড়া অন্যের নামে যবাইকৃত বস্তু খাওয়া যাবে না; অনুরূপভাবে যা আল্লাহ ছাড়া অন্যের নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করা হয়।" (রাদ্দুল মুহতার, খ. ৬, পৃ. ৩৪০)


প্রশ্ন ৩: বিতর সালাতে দুআ কুনুত পড়েছি কি পড়িনি — এমন কনফিউশন হলে কীভাবে সালাত শেষ করব?

জবাবঃ- সেজদায়ে সাহু আদায় করবেন।

দুআ কুনুত বিতর সালাতে ওয়াজিব (হানাফি মাযহাব অনুযায়ী)। এটি তৃতীয় রাকআতে সূরা পড়ার পর, রুকুতে যাওয়ার আগে পড়তে হয়।

ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মাযহাব: বিতরের তৃতীয় রাকআতে রুকুর আগে দুআ কুনুত পড়া ওয়াজিব। (আল-হিদায়া, কিতাবুস সালাত; রাদ্দুল মুহতার, খ. ২, পৃ. ৪৪০)

যদি নিশ্চিতভাবে স্মরণ না থাকে যে দুআ কুনুত পড়েছেন বা পড়েননি — তাহলে সালাত ভঙ্গ করবেন না। বরং সালাত চালিয়ে যাবেন এবং শেষে সাহু সিজদা করবেন। কারণ দুআ কুনুত ওয়াজিব; তা ছুটে গেলে সাহু সিজদা ওয়াজিব হয়।

সন্দেহ জনক হলেও সতর্কতা মূলক সেজদায়ে সাহু আদায় করার পরামর্শ থাকবে।

৪, বেশিরভাগ ভালো মিষ্টির দোকানই হিন্দুদের। তাদের দোকান থেকে খাবার কিনে খাওয়া কি অনুচিত? তারা খবারে গরুর প্রসাব দেয় এমন অভিযোগের কি ভিত্তি আছে?

জবাবঃ- ইসলামে ব্যবসায়িক লেনদেনে ধর্ম-বর্ণের ভিত্তিতে বৈষম্য নেই। হিন্দুদের দোকান থেকে হালাল খাবার কেনা মূলত জায়েজ, যদি:

খাবারে হারাম উপাদান (শূকরের গোশত, মদ, নাপাকি) না থাকে। খাবারটি কোনো ধর্মীয় উৎসর্গ (প্রসাদ) না হয়। খাবারটি নাপাকির সংস্পর্শ থেকে মুক্ত হয়। আল্লাহ তাআলা বলেন:

وَأَحَلَّ اللَّهُ الْبَيْعَ وَحَرَّمَ الرِّبَا "আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল করেছেন এবং সুদকে হারাম করেছেন।" (সূরা বাকারা: ২৭৫)

ইমাম ইবনে আবিদিন (রহ.) «রাদ্দুল মুহতার»-এ বলেন:

"لا بأس بشراء طعام الكافر إذا علم طهارته وحله." "কাফিরের খাবার ক্রয় করতে অসুবিধা নেই, যদি তা পবিত্র ও হালাল বলে জানা যায়।" (রাদ্দুল মুহতার, খ. ৬, পৃ. ৩৪০)

তবে ইহতিয়াত: যদি দোকানদার সম্পর্কে জানা যায় যে সে নাপাকি বা হারাম উপাদান ব্যবহার করে, তবে সেখান থেকে কেনা থেকে বিরত থাকা উত্তম। আর যদি সাধারণভাবে জানা না যায়, তবে মূলত জায়েজ।

তবে সেখানে মুসলমানদের দোকান থাকলে এবং সে দোকানের জিনিসও যদি ভালো মানের হয় তাহলে মুসলমানদের দোকান থেকেই পণ্য কেনার পরামর্শ ওলামায়ে কেরামগণ দিয়ে থাকেন, এটিই উত্তম।

খ) "তারা খাবারে গরুর প্রসাব দেয়" — এই অভিযোগের ভিত্তি এই অভিযোগের কোনো শরিয়ি বা প্রমাণিত ভিত্তি নেই। এটি সাধারণত গুজব ও কুসংস্কার। ইসলামে কোনো ব্যক্তিকে অপ্রমাণিত অভিযোগে দোষারোপ করা হারাম।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.