মুখের আলসার/ঘা, লাল-সাদা অংশ, টিস্যুতে রক্তের দাগ এবং লালার পবিত্রতা।
Taharah Purity · Hanafi
Question
১. মাউথ আলসার বা মুখে যে ঘা হয় তা অনেকটা লালচে হয়ে থাকে এবং লালের ভিতর সাদাটে হয়ে থাকে।এর সাথে জিহবা বার বার ঘষা লাগে এবং এটি নোনতা হয়।এটি কি নাপাক?এই সাদ অংশ ও এই লালচে অংশ কি পুঁজ ও রক্তের অংশ? আমি টিস্যু দিয়ে সেই ঘা-এ চাপ দিলে টিস্যুতে সামান্য রক্তের দাগ লাগে।তাহলে কি আমার মুখের লালা নাপাক থাকবে?
২. দাঁত ব্রাশ করার সময় প্রায়ই যে রক্ত বোরোয় তা কি নাপাক? এতে করে কি ব্রাশ নাপাক হয়? ব্রাশ কি তিনবার ধুতে হবে? আর মুখে পানি দিয়ে তিনবার কুলি করতে হবে? কুলির পানি কি নাপাক? প্রতিবার কুলি করার সময় হাতও কি ধুতে হবে আর ধুলো কি এটিও তিনবার ধোব?
৩.আচিল কি নাপাক?
৪.বাইরে যেই জুতা পরা হয় সেই জুতা ঘরে পরলে কি ঘর নাপাক হবে? বাসার অনেকে বাইরে থেকে এসে জুতা নিয়েই ঘরে ঢোকে।আর এই জুতা পরে তো বিভিন্ন জায়গাতেই হাঁটা হয়। বাইরে গেলে তো টয়লেটেও যাওয়া হয়।তখন অদৃশ্য নাপাকি লাগে।ঘর কি তাহলে নাপাক হয়? আর এই জুতা যেখানে রাখা হয় সেই জায়গা, ঝুড়ি বা রেকও কি নাপাক হয়ে যায়?তাহলে বাইরের এই জুতা কোথায় রাখব?
Answer
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
প্রিয় বোন, আপনার প্রশ্নগুলোর উত্তর হানাফি ফিকহের মূলনীতি অনুযায়ী নিচে দেওয়া হলো। প্রথমে একটি গুরুত্বপূর্ণ মূলনীতি মনে রাখবেন:
"اليقين لا يزول بالشك" — নিশ্চিত বিষয় সন্দেহ দ্বারা দূর হয় না।
(শরহু উসূলিল শাশী, পৃ. ১৩; আল-আশবাহ ওয়ান-নাযাইর, পৃ. ৫৮)
অর্থাৎ, কোনো বস্তু বা স্থান মূলত পাক (তাহির)। তাতে নাপাকি লেগেছে—এটি নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত না হলে শুধু সন্দেহ বা ওয়াসওয়াসার কারণে তাকে নাপাক বলা যাবে না। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
"إِنَّ الشَّيْطَانَ يَأْتِي أَحَدَكُمْ فَيَقُولُ: هَلْ أَحْدَثْتَ؟ فَلَا يَزَالُ بِهِ حَتَّى يَسْمَعَ صَوْتًا أَوْ يَجِدَ رِيحًا"
"শয়তান তোমাদের কারো কাছে এসে বলে: তুমি কি অপবিত্র হয়েছ? সে তাকে সন্দেহে ফেলে দিতে থাকে, যতক্ষণ না সে শব্দ শোনে বা গন্ধ পায়।"
(সহীহ বুখারী, হাদীস ১৩৭; সহীহ মুসলিম, হাদীস ৩৬১)
১. মুখের আলসার/ঘা, লাল-সাদা অংশ, টিস্যুতে রক্তের দাগ এবং লালা
উত্তর: মুখের আলসার বা ঘা হতে রক্ত বা পুজ বের হয়ে থুথুর সমান বা তার চেয়ে বেশি হলে অযু ভেঙ্গে যাবে। অন্যথায় অযু ভেঙ্গে যাবেনা।
উক্ত পুজ /রক্ত নাপাক।
উক্ত লাল বা সাদা অংশ পুঁজ বা রক্ত হিসাবে গন্য হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় তাহা যেনো কাপড়ে না লাগে,সতর্ক থাকবেন।
২. দাঁত ব্রাশ করার সময় রক্ত, ব্রাশ নাপাক হওয়া, তিনবার ধোয়া, কুলি ও হাত ধোয়া
** উত্তর:** দাঁত ব্রাশ করার সময় যে রক্ত বের হয়, তা নাপাক।
ব্রাশ তিনবার ধোয়া ওয়াজিব নয়; বরং রক্ত লেগে থাকলে যতবার ধুলে রক্তের চিহ্ন দূর হয়, ততবার ধুলেই পাক হয়ে যাবে।
কুরআনে ইরশাদ হয়েছে:
"قُلْ لَا أَجِدُ فِي مَا أُوحِيَ إِلَيَّ مُحَرَّمًا عَلَى طَاعِمٍ يَطْعَمُهُ إِلَّا أَنْ يَكُونَ مَيْتَةً أَوْ دَمًا مَسْفُوحًا..."
"বলুন: আমার কাছে ওহিতে যা কিছু পাওয়া গেছে, তার মধ্যে কোনো খাদ্য-নিষিদ্ধ বস্তু নেই—কেবল মৃত জন্তু, প্রবাহিত রক্ত..."
(সূরা আনআম: ১৪৫)
হানাফি ফিকহে প্রবাহিত রক্ত নাপাক (নাজাসাতে গালিজা)।
(রাদ্দুল মুহতার, খ. ১, পৃ. ৩০০; ফাতাওয়া আলমগীরী, খ. ১, পৃ. ৪৬)
ব্রাশ নাপাক হবে কি না?
-
যদি ব্রাশে রক্ত লেগে যায় এবং তা দৃশ্যমান থাকে, তাহলে ব্রাশের সেই অংশ নাপাক।
-
ধোয়ার নিয়ম: তিনবার ধোয়া আবশ্যক নয়; বরং যতবার ধুলে রক্তের চিহ্ন ও স্বাদ-গন্ধ দূর হয়, ততবার ধুলেই পাক হয়ে যাবে। সাধারণত একবার বা দুইবার ধুলেই চিহ্ন দূর হয়।
(রাদ্দুল মুহতার, খ. ১, পৃ. ৩০৫; ফাতাওয়া উসমানী, খ. ১, পৃ. ১৪০) -
যদি ব্রাশে রক্ত লাগে না বা রক্তের চিহ্ন না থাকে, তাহলে ব্রাশ পাকই আছে।
৩. আচিল (নখ) কি নাপাক?
** উত্তর:** না, আচিল বা নখ নাপাক নয়।
৪. বাইরের জুতা ঘরে পরলে ঘর নাপাক হয় কি না, জুতার জায়গা/ঝুড়ি/রেক নাপাক হয় কি না, এবং জুতা কোথায় রাখবেন
** উত্তর:** বাইরের জুতা ঘরে পরলে ঘর নাপাক হয় না—যতক্ষণ না জুতায় নিশ্চিতভাবে নাপাকি লেগে আছে এবং তা ঘরের মেঝেতে স্থানান্তরিত হয়েছে বলে নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া যায়। জুতা রাখার জায়গা, ঝুড়ি বা রেকও নাপাক হয় না। শুধু সন্দেহ বা অদৃশ্য নাপাকির ধারণায় ঘর বা জায়গা নাপাক বলা যাবে না। জুতা নির্দিষ্ট স্থানে রাখাই যথেষ্ট; বিশেষ কোনো ব্যবস্থা আবশ্যক নয়।
-
"الأصل في الأشياء الطهارة" — সব বস্তু মূলত পাক।
(আল-আশবাহ ওয়ান-নাযাইর, পৃ. ৫৮; শরহু উসূলিল শাশী, পৃ. ১৩) -
কোনো স্থান বা বস্তু নাপাক হওয়ার জন্য নিশ্চিত প্রমাণ লাগবে। শুধু "বাইরে গিয়েছি, টয়লেটে গিয়েছি, তাই নাপাকি লেগেছে" —এ ধরনের সন্দেহে ঘর বা জুতা নাপাক হবে না।
(রাদ্দুল মুহতার, খ. ১, পৃ. ৩০৫; ফাতাওয়া উসমানী, খ. ১, পৃ. ১৪২)