স্বামীর অনুমতি ছাড়া ক্যারিয়ার/চাকরি করা কি জায়েয?

Halal and Haram · Hanafi

Question No: 7145
Questioner: @ anonnonymous
Question Asked: 20 Oct 2026, 01:11 PM
Reviewed & Published: 20 Oct 2026, 03:09 PM
Views: 30
Tokens: 18,434
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম।
১।আমার স্বামী এবং আমি দুজনই আলহামদুলিল্লাহ প্র্যাকটিসিং। দুজনেই ডাক্তার। আমাদের বাচ্চার বয়স সাত বছর। আমার স্বামী মেয়েদের বাইরে চাকরি করাটা এত বেশি পছন্দ করেন না। সরাসরি বলেন না, কিন্তু মাঝেমধ্যে ওনার আচরণ আচরণে টের পাই। উনি তাবলীগের সাথী।
আমি এমবিবিএস শেষ করে উচ্চতর ডিগ্রী গ্রহণের জন্য একটা ৫ বছরের ট্রেনিংয়ে ছিলাম। চান্স পাওয়ার পর থেকে আমার স্বামীর মন কিছুটা খারাপ দেখে, ইস্তেখারা করে ট্রেনিংয়ে ঢুকি। দুই বছর পর, আমাদের দাম্পত্য সম্পর্কে বিভিন্ন রকমের টানাপড়োন শুরু হয়, আমারও প্রচন্ড দীনের বুঝ আসে, আমি ওখান থেকে সরে আসি, আল্লাহর ভয়ের কথা চিন্তা করে। আমার মনে হতে থাকে ক্যারিয়ারের জন্যই হয়তো তার আমার প্রতি কিছুটা রাগ। (বিয়ের সময় সে ওয়াইফের ক্যারিয়ারের জন্য রাজি ছিল না,পরবর্তীতে তার পরিবার বুঝায়, মেয়েরা ডাক্তারি করতে পারবে শরীয়তের দৃষ্টিতে, পরে সে রাজি হয় )
দুই বছর বাসায় বসে থাকার পর, আমি অনুভব করি, শ্বশুরবাড়ির মানুষজন, বাবার বাড়ি তাদের পক্ষ থেকে প্রচন্ড প্রেসার আসতে থাকে, শ্বশুরবাড়ির মানুষজনের উপরে আমার স্বামী কোনভাবেই কথা বলতে পারে না, আমার যত দোষ সবকিছু পরিবারের সাথে শেয়ার করে, আমার ব্যাপারেও সিদ্ধান্ত তার পরিবার নিয়ে দেয়, এমতাবস্থায়, আমি ভেতরে ভেতরে কোন ঠাসা হয়ে যাচ্ছি।প্রচন্ডভাবে অপমানিত হচ্ছি,কনফিডেন্স হারিয়ে ফেলছি, নিজেকে ছোট মনে করছি, এজন্য মনে হচ্ছে আবারো ক্যারিয়ার শুরু করি, মানুষের সেবা করার উদ্দেশ্যে(সাবজেক্ট ছিল গাইনি) , কিন্তু আবারও ভয় হয় জয়েন করলে, তার আচরণ আমার প্রতি অনেক বেশি খারাপ হয়ে যাবে এই আশঙ্কায়, আবার বাসায় বসে থাকলেও ডিপ্রেশনে পড়ে যাচ্ছি, শ্বশুরবাড়ির পক্ষ থেকে প্রেসার আসছে, আমাকে ডাক্তারি করতে হবে, আবার আমি যদি ছেড়ে দিই, সেটা যেন তাদের ভাইয়ের উপর কোনোভাবে দোষ না যায় (যেহেতু বিয়ের সময় ক্যারিয়ার করতে দিতে হবে এই শর্তে বিয়ে হয়েছিল)
যদিও আমার বাবা এখন এই ব্যাপারে অনেকটা ছাড় দিয়েছেন।
আবারো ক্যারিয়ারে জয়েন করলে, স্বামী সন্তানের হক নষ্ট হবে এই ভয় পাচ্ছি, ইস্তেখারা করে যাচ্ছি, কিছুই বুঝতে পারছি না। একবার এটা মনে হচ্ছে, আরেকবার অন্যটা মনে হচ্ছে, একবার মনে হচ্ছে জয়েন করি, আবার মনে হচ্ছে না করি।
এদিকে আমার বাচ্চাটাকে হিফজ করানোর ইচ্ছা তার বাবার ও আমার। আমার স্বামী, মনে মনে চাচ্ছে আমি ছেড়ে দেই, বাসায় থাকি,বাসায় এমন দূরত্বে নিতে যাচ্ছে যেখানে বাচ্চার সুবিধা হয়, যেখানে আমার ক্যারিয়ার (ট্রেনিং) কষ্টকর।
তার ভাষায়, সে আমার জন্য দাইউস হতেও রাজি, (এমনকি আমি বাসা থেকে রিক্সা ফুরালে ও, রিক্সাওয়ালার সাথে কথা বললেও সে দাইয়ুস হয়ে যাবে) সে ক্যারিয়ারের কোন বিষয় নিয়ে আমার সাথে কথা বলতে চায় না, প্রচন্ড রিয়েক্ট করে। কিন্তু তার পরিবারের সামনে, সমস্ত দোষ আমাকেই দেয়। তার এই আচরণ গুলি আমাকে খুব কষ্ট দেয়, বাসায় থাকলেও যত বেশি পারে আমাকে ইগনোর করে। একদিকে বলে, তুমি হুজুরের ফতোয়া শোনোনি (ক্যারিয়ার ছেড়ে দেয়ার সময় দুই বছর আগে, হুজুরের ফতোয়া ছিল ক্যারিয়ার কন্টিনিউ করা যাবে, কিন্তু আমার নিজের কাছে মনে হচ্ছিল -ছেড়ে দেই,) আবার অন্যদিকে বলে, তোমার ক্যারিয়ারের জন্য আমি দায়ীওস হতে রাজি। আমি তার মন মানসিকতা বুঝতে পারছি না।
এমত অবস্থায়, আমার কি টোটালি বাসায় থাকা উচিত কিনা, ক্যারিয়ারের জয়েন না করে?
যেহেতু স্বামীর মনের কন্ডিশন এরকম। যদিও সে মুখে কিছু বলে না, মুখে বলে আমার জন্য সবকিছুতেই সে রাজি। যদিও বুঝতে পারি, সেটা পুরোপুরি স্বাভাবিক কোন কথা নয়।
এখন তার এমন কথাকে কি ধরে নিব? এমতাবস্থায় ক্যারিয়ারে জয়েন করা আমার জন্য সমীচীন হবে কিনা? দুই বছর পর আল্লাহর জন্য ক্যারিয়ার ছেড়ে দিয়েছি, বলার পর এখন আবার যোগদান করা উচিত হবে কিনা? শশুর পরিবারের কাছে আমি প্রচন্ডভাবে অসম্মানিত হচ্ছি। যখন দীনের প্রচন্ড বুঝ থাকে,তখন মনে হয় থাকুক বাসায় থাকি, আবার মাঝেমধ্যে ক্যারিয়ারের প্রচন্ড আগ্রহ হয়। খুব ভালো স্টুডেন্ট ছিলাম আলহামদুলিল্লাহ, পড়ুয়া একজন।
এটা কি হাজবেন্ডের হুকুম অমান্য করা হচ্ছে পুনরায় কোর্সে জয়েনিং এর চিন্তা করলে? কোর্সে জয়েন করলে হাজবেন্ডের,সন্তানের হক আদায় করতে অনেক বেশি সমস্যা হবে, হয়তো। বাচ্চাটাকে কাজের বুয়ার কাছে রাখতে হবে। আল্লাহর কাছে জবাবদিহি তার ভয় পাচ্ছি।
প্রচন্ড কনফিউজড হয়ে যাচ্ছি। ইস্তেখারা করেই যাচ্ছি। তবুও কেন এত বেশি কনফিউসড থাকছি, বুঝতে পারছি না, দোয়া করবেন ও সঠিক পরামর্শ দিবেন দয়া করে। প্রচন্ড অস্থিরতায় দিন কাটছে। নিজেকে সবকিছুর জন্য দায়ী মনে হচ্ছে। নিজেকে অপরাধী মনে হয় যখন ক্যারিয়ারে থাকি,অপরাধ না করলেও। কিন্তু বাসায় থেকেও প্রচন্ডভাবে মানসিকভাবে কষ্টও পাচ্ছি, পরবর্তীতে ডিপ্রেশনে পড়ে যাব কিনা বুঝতে পারছি না। এমতাবস্থায়, স্বামীর কথার অবাধ্য হওয়া হবে কি যদি পুনরায় জয়েন করি? হক আদায়ের বিষয়টা আলোচনা করতে পারিনি। সে আমার কোন ক্যারিয়ারের বিষয় নিয়ে একদমই আলোচনা করতে চায়না। সে অন্যদিকে রেসপন্সিবল বাচ্চার প্রতি

২.আমি অনেক কিছু সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে কনফিউজড থাকি, সে ক্ষেত্রে আল্লাহর কাছ থেকে ডিসিশনের চাওয়ার জন্য, ইস্তেখারার দোয়া পড়ে কাজটা কি শুরু করে দিব? যখন ইস্তেখারার নামাজ পড়া পসিবল না। সে ক্ষেত্রে কোন দোয়াটি পড়বো?

Answer

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

بسم الله الرحمن الرحيم

প্রথমে একটি গুরুত্বপূর্ণ মূলনীতি

ইসলামে স্বামীর আনুগত্য (طاعة الزوج) ওয়াজিব , তবে তা শরীয়তের সীমার ভেতরে। শরীয়তবিরোধী বা হারাম কাজে আনুগত্য নেই। হাদীসে এসেছে—

لَا طَاعَةَ لِمَخْلُوقٍ فِي مَعْصِيَةِ الْخَالِقِ "সৃষ্টির আনুগত্যে স্রষ্টার অবাধ্যতা নেই।" (মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ১০৯৫; সহীহ বুখারী, হাদীস ৭১৩৭-এর সমার্থক)

আর দ্বিতীয় মূলনীতি: স্ত্রীর নিজের সম্পদ, শিক্ষা ও বৈধ পেশা ইসলামে স্বীকৃত। ইমাম আবু হানীফা (রহ.)-এর মাযহাব অনুযায়ী নারী স্বাধীনভাবে সম্পদ অর্জন ও ব্যবসা করতে পারে; স্বামীর অনুমতি ছাড়াও তার নিজের মালিকানায় থাকা সম্পদে তার পূর্ণ অধিকার। (রাদ্দুল মুহতার, খ. ৩, পৃ. ৬১-৬২; ফাতাওয়া আলমগীরী, খ. ৫)


প্রশ্ন ১-এর বিস্তারিত উত্তর

ক. আপনার স্বামীর "দাইয়ূস" হওয়ার কথা

"দাইয়ূস" শব্দের অর্থ— যে ব্যক্তি নিজের স্ত্রী/কন্যার অবৈধ সম্পর্ক বা বেপর্দা অবস্থায় সন্তুষ্ট থাকে। হাদীসে এসেছে—

ثَلَاثَةٌ لَا يَنْظُرُ اللَّهُ إِلَيْهِمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ... وَالدَّيُّوثُ "তিন ব্যক্তির দিকে আল্লাহ কিয়ামতের দিন দেখবেন না... এবং দাইয়ূস।" (সুনানে তিরমিযী, হাদীস ২৮০৯; সুনানে নাসাঈ)

কিন্তু শরীয়তসম্মত পর্দা রক্ষা করে, মাহরাম-নন-মাহরামের বিধান মেনে, স্বামীর অনুমতিক্রমে বা তার সম্মতিতে বৈধ পেশায় নিয়োজিত হওয়া কখনোই "দাইয়ূস" হওয়া নয়। বরং উম্মুল মু'মিনীন খাদীজা (রা.) স্বয়ং একজন সফল ব্যবসায়ী ছিলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ তার ব্যবসায় অংশীদার ছিলেন। সাহাবিয়্যাত রুফাইদা (রা.) যুদ্ধক্ষেত্রে চিকিৎসা সেবা দিতেন। (তাবাকাত ইবনে সা'দ; সীরাতে ইবনে হিশাম)

সুতরাং আপনার স্বামীর এই ধরনের কথা অতিরঞ্জন ও ভুল ব্যাখ্যা। এতে আপনার মনে কষ্ট নেওয়ার কিছু নেই; বরং এ বিষয়ে তাকে শান্তভাবে বোঝানোর চেষ্টা করুন, অথবা কোনো বিশ্বস্ত আলেম/মুরুব্বির মাধ্যমে বোঝান।

খ. স্বামীর অনুমতি ও ক্যারিয়ার

আপনার প্রশ্নের সরাসরি উত্তর: স্বামীর স্পষ্ট অনুমতি ছাড়া দীর্ঘমেয়াদি ট্রেনিং/চাকরিতে যোগদান করা জায়েজ নয়। কারণ—

  • স্বামীর অনুমতি ছাড়া বাইরে যাওয়া/চাকরি করা স্ত্রীর জন্য দ্বীনি দৃষ্টিতে সমীচীন নয়।
  • হাদীসে স্ত্রীর উপর স্বামীর হককে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। (সুনানে তিরমিযী, হাদীস ১১৬৩)
  • রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: "তোমাদের প্রত্যেকে দায়িত্বশীল, এবং প্রত্যেককে তার অধীনস্থদের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হবে।" (সহীহ বুখারী, হাদীস ৮৯৩; সহীহ মুসলিম, হাদীস ১৮২৯)

তবে এখানে একটি সূক্ষ্ম দিক আছে: আপনার স্বামী মুখে "রাজি" বলছেন, কিন্তু আচরণে অসন্তোষ প্রকাশ করছেন। ইসলামে স্পষ্ট অনুমতি (إذن صريح)-ই বিবেচ্য, ইঙ্গিত বা অস্পষ্ট কথা নয়। যেহেতু তিনি স্পষ্টভাবে নিষেধও করছেন না, আবার স্পষ্টভাবে অনুমতিও দিচ্ছেন না—এমতাবস্থায় সর্বোত্তম পথ হলো: তার সাথে বসে স্পষ্টভাবে আলোচনা করা—আপনি চাইলে তাকে বলতে পারেন: "আপনি যদি স্পষ্টভাবে অনুমতি দেন, আমি যাব; নাহলে আমি বাসায় থাকব।" এতে দায়িত্ব তার উপর বর্তাবে এবং আপনার বিবেক পরিষ্কার থাকবে।

গ. শ্বশুরবাড়ির চাপ ও অপমান

শ্বশুরবাড়ির পক্ষ থেকে অপমান সহ্য করা আপনার দায়িত্ব নয়। ইসলামে কারো সম্মানহানি করা গুনাহ। তবে এর প্রতিক্রিয়ায় স্বামীর অবাধ্য হওয়া সমাধান নয়। বরং—

  • স্বামীর সাথে ধৈর্য ও হিকমতের সাথে কথা বলুন।
  • প্রয়োজনে সম্মানিত আলেম/পারিবারিক মুরুব্বিকে মধ্যস্থতা করতে দিন।
  • আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল রাখুন; তিনি বলেছেন: "যে আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার জন্য উত্তরণের পথ করে দেন।" (সূরা তালাক: ২)

ঘ. সন্তানের হিফজ ও হক

সন্তানের হিফজ করানো একটি মহৎ উদ্দেশ্য। কিন্তু সন্তানের হক আদায়ের দায়িত্ব উভয় পিতা-মাতার। আপনি চাকরিতে গেলে সন্তানের হক নষ্ট হবে—এমন আশঙ্কা থাকলে এবং স্বামীও চান আপনি বাসায় থাকুন, তাহলে বাসায় থাকাই অধিক নিরাপদ ও দ্বীনি দৃষ্টিতে প্রাধান্যযোগ্য। তবে সন্তানকে কাজের বুয়ার কাছে রেখে হিফজ করানোর চেয়ে, নিজে তত্ত্বাবধানে হিফজ করানো উত্তম—এটি আপনার জন্য সদকায়ে জারিয়াও হতে পারে।

মোটকথা: আপনার বর্তমান অবস্থায় **স্বামীর স্পষ্ট সম্মতি ছাড়া ট্রেনিং/চাকরিতে যোগদান জায়েজ নয়।

তবে এ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তার সাথে একটি স্পষ্ট, শান্ত আলোচনা করুন এবং তার স্পষ্ট অবস্থান জেনে নিন। আর আপনার মানসিক কষ্টের জন্য দুআ ও যিকির অব্যাহত রাখুন; প্রয়োজনে একজন দ্বীনদার পরামর্শক/আলেমের সাথে সরাসরি সাক্ষাৎ করুন।


প্রশ্ন ২-এর উত্তর: ইস্তিখারার দুআ নামাজ ছাড়া পড়া যাবে কি?

হ্যাঁ, যাবে। ইস্তিখারার মূল হলো দুআ; নামাজ তার সাথে সংযুক্ত সুন্নত। ইমাম নববী (রহ.) বলেন, ইস্তিখারার দুআ নামাজের পর পড়া উত্তম, তবে নামাজ সম্ভব না হলে শুধু দুআ পড়াও বৈধ। (আল-আযকার, পৃ. ১৩২)

ইস্তিখারার দুআ (সহীহ বুখারী, হাদীস ৬৩৮২):

اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْتَخِيرُكَ بِعِلْمِكَ، وَأَسْتَقْدِرُكَ بِقُدْرَتِكَ، وَأَسْأَلُكَ مِنْ فَضْلِكَ الْعَظِيمِ، فَإِنَّكَ تَقْدِرُ وَلَا أَقْدِرُ، وَتَعْلَمُ وَلَا أَعْلَمُ، وَأَنْتَ عَلَّامُ الْغُيُوبِ، اللَّهُمَّ إِنْ كُنْتَ تَعْلَمُ أَنَّ هَذَا الْأَمْرَ خَيْرٌ لِي فِي دِينِي وَمَعَاشِي وَعَاقِبَةِ أَمْرِي، فَاقْدُرْهُ لِي وَيَسِّرْهُ لِي، ثُمَّ بَارِكْ لِي فِيهِ، وَإِنْ كُنْتَ تَعْلَمُ أَنَّهُ شَرٌّ لِي فِي دِينِي وَمَعَاشِي وَعَاقِبَةِ أَمْرِي، فَاصْرِفْهُ عَنِّي وَاقْدُرْ لِي الْخَيْرَ حَيْثُ كَانَ، ثُمَّ أَرْضِنِي بِهِ

(এখানে "هذا الأمر" বলার সময় নিজের বিষয়টি মনে করবেন।)

নামাজ সম্ভব না হলে: শুধু এই দুআ পড়ুন, সাথে সালাতুল হাজত-এর দুআ বা সাধারণ দুআও করতে পারেন। এছাড়া সূরা ফাতিহা ও দরুদ পড়ে দুআ করাও বৈধ। তবে মনে রাখবেন—ইস্তিখারার ফলাফল সবসময় স্বপ্নে বা তাৎক্ষণিকভাবে আসে না; বরং আল্লাহ যে পথে অন্তরকে সন্তুষ্ট ও সহজ করে দেন, সেটিই ইস্তিখারার ফল। (মিরকাতুল মাফাতীহ, খ. ৪)


সারসংক্ষেপ ও পরামর্শ

১. স্বামীর সাথে স্পষ্ট আলোচনা করুন—তার প্রকৃত সম্মতি জানুন। ২. স্পষ্ট অনুমতি ছাড়া ট্রেনিং/চাকরিতে যোগ দেবেন না। ৩. শ্বশুরবাড়ির অপমানের ব্যাপারে ধৈর্য ধরুন, প্রয়োজনে মধ্যস্থতাকারী নিন। ৪. সন্তানের হিফজ ও হক আদায়কে প্রাধান্য দিন। ৫. ইস্তিখারার দুআ নামাজ ছাড়াও পড়তে পারেন। ৬. মানসিক কষ্টে দুআ, যিকির ও দ্বীনদার পরামর্শকের সাহায্য নিন।

আল্লাহ তাআলা আপনার অন্তরকে প্রশান্তি দান করুন, সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার তাওফিক দিন এবং আপনার সংসারকে বরকতময় করুন। আমীন।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.