চোখ মুখ বা মাথা নেই এমন প্রজাপতির নেকলেস পড়া জায়েজ কিনা?

Halal and Haram · Hanafi

Question No: 7139
Questioner: Ahmed Taskin
Question Asked: 20 Oct 2026, 12:24 PM
Reviewed & Published: 20 Oct 2026, 12:33 PM
Views: 12
Tokens: 2,588
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

চোখ মুখ বা মাথা নেই এমন প্রজাপতির নেকলেস পড়া জায়েজ কিনা?

Answer

প্রজাপতির নেকলেস (Butterfly Necklace) পড়ার হুকুম

প্রশ্নের সারসংক্ষেপ

প্রশ্নকারী জানতে চেয়েছেন—চোখ, মুখ বা মাথা নেই এমন প্রজাপতির আকৃতির নেকলেস পড়া জায়েজ কিনা।

সংক্ষিপ্ত উত্তর

যদি নেকলেসে প্রজাপতির পূর্ণ আকৃতি (মাথা-চোখ-মুখসহ) থাকে, তবে তা পড়া জায়েজ নয়। আর যদি শুধু ডানা বা বিমূর্ত নকশা হয়, যাতে প্রাণীর পূর্ণ আকৃতি প্রকাশ পায় না, তবে তা জায়েজ। প্রশ্নে উল্লেখ আছে যে চোখ-মুখ-মাথা নেই—এক্ষেত্রে বিস্তারিত নিচে দেওয়া হলো।

বিস্তারিত আলোচনা

১. প্রাণীর ছবি/মূর্তি সংক্রান্ত মূল বিধান

হাদিসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

«إِنَّ أَشَدَّ النَّاسِ عَذَابًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ الْمُصَوِّرُونَ» — সহীহ বুখারী, হাদিস ৫৯৫০; সহীহ মুসলিম, হাদিস ২১০৯

অর্থ: "কিয়ামতের দিন সবচেয়ে কঠিন শাস্তি পাবে ছবি নির্মাতারা।"

আরও এসেছে, যেসব ঘরে ছবি (প্রাণীর আকৃতি) থাকে, সেখানে রহমতের ফেরেশতা প্রবেশ করেন না — সহীহ বুখারী ৫৯৪৯, সহীহ মুসলিম ২১০৬।

২. হানাফি ফিকহের মূলনীতি

হানাফি মাজহাবে প্রাণীর ছবি/মূর্তি সংক্রান্ত মূলনীতি হলো:

  • পূর্ণ আকৃতি (যাতে মাথা বা মুখ প্রকাশমান) হলে তা নাজায়েজ ও হারাম।
  • অপূর্ণ আকৃতি—যেমন মাথা কাটা, বা এমন বিমূর্ত নকশা যাতে প্রাণীর পূর্ণ রূপ প্রকাশ পায় না—তাহলে তা জায়েজ।

ইমাম ইবন আবিদিন (রহ.) «রাদ্দুল মুহতার»-এ বলেন:

«وَالْمَنْعُ إنَّمَا هُوَ فِي صُورَةٍ لَهَا رَأْسٌ، أَمَّا لَوْ كَانَتْ بِلَا رَأْسٍ فَلَا بَأْسَ بِهِ» — রাদ্দুল মুহতার, খণ্ড ১, পৃ. ৬৪৮ (কিতাবুল হাজার)

অর্থ: "নিষেধাজ্ঞা কেবল সেই ছবিতে যা মাথাযুক্ত; আর যদি মাথা না থাকে, তবে তাতে অসুবিধা নেই।"

ফাতাওয়া আলমগিরি-তেও অনুরূপ উল্লেখ আছে — ফাতাওয়া হিন্দিয়া, খণ্ড ৫, পৃ. ৩৫৮।

৩. প্রশ্নের প্রয়োগ

প্রশ্নে বলা হয়েছে—প্রজাপতির চোখ, মুখ বা মাথা নেই। এমতাবস্থায়:

  • যদি নেকলেসটি শুধু ডানার নকশা বা বিমূর্ত অলংকার হয়, যাতে প্রাণীর পূর্ণ আকৃতি (মাথা-মুখ) প্রকাশ পায় না → জায়েজ।
  • তবে যদি দেখতে প্রজাপতির মতোই পূর্ণ আকৃতি হয় (শুধু চোখ-মুখ স্পষ্ট না থাকলেও মাথার অংশ থাকে) → সতর্কতা অবলম্বন করা উত্তম, কারণ সন্দেহজনক বিষয়ে বিরত থাকাই ইবাদতের পূর্ণতা।

আশরাফ আলী থানভী (রহ.) «বেহেশতী জেওর»-এ ছবি সংক্রান্ত অধ্যায়ে উল্লেখ করেছেন—যে ছবিতে প্রাণীর পূর্ণ আকৃতি প্রকাশ পায় তা নাজায়েজ; আর যাতে পূর্ণ আকৃতি প্রকাশ পায় না, তা জায়েজ।

৪. নেকলেস পরিধানের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত বিবেচনা

  • নেকলেস যদি সোনা বা রূপা দিয়ে তৈরি হয়, তবে নারীদের জন্য জায়েজ, পুরুষদের জন্য নাজায়েজ (সোনা-রূপার বিধান অনুযায়ী)।
  • যদি অন্য ধাতু বা উপকরণ হয়, তবে সেটি আলাদা বিধান।
  • তবে মূল বিষয় হলো আকৃতি—প্রাণীর পূর্ণ আকৃতি থাকলে তা যেকোনো উপকরণেই নাজায়েজ।

সারসংক্ষেপ ও পরামর্শ

| অবস্থা | হুকুম | |---|---| | পূর্ণ প্রজাপতি আকৃতি (মাথা/মুখ প্রকাশমান) | নাজায়েজ | | শুধু ডানা/বিমূর্ত নকশা, মাথা-মুখ নেই | জায়েজ | | সন্দেহজনক (মাথার অংশ আছে কিন্তু চোখ-মুখ স্পষ্ট নয়) | ইহতিয়াত (সতর্কতা) উত্তম |

পরামর্শ: নেকলেসটি যদি স্পষ্টভাবে প্রজাপতির পূর্ণ আকৃতি বহন করে, তবে তা পরিহার করা উত্তম; আর যদি শুধু অলংকারসুলভ বিমূর্ত নকশা হয়, তবে তা পরিধানে অসুবিধা নেই। সন্দেহ হলে কোনো নির্ভরযোগ্য মুফতিকে সরাসরি নেকলেসটি দেখিয়ে ফতোয়া নেওয়া ভালো।


আল্লাহ ভালো জানেন।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.