হিন্দুকে "নমস্কার" বা "আদাব" বলা এবং হিন্দুর "নমস্কার"-এর জবাবে "নমস্কার" বলা কি জায়েজ?
Halal and Haram · Hanafi
Question
স্রদ্ধেও মুফতি সাহেব,
আদাব-নমস্কার,এই দুটি শব্দ দিয়ে কোনো মুসলমান কোনো হিন্দুকে অথবা কোনো হিন্দু যদি মুসলমানকে প্রনাম করে তাহলে তাকে প্রতিউওর করা কি শরয়ী দৃষ্টিতে জায়েজ?
এটা কুরআন হাদিসের দলিল সহ জানালে অনেক ভাল হতো |
Answer
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম
উত্তর
১. মূল শরয়ী সিদ্ধান্ত ও প্রতিউত্তরের নিয়ম:
-
ক) অমুসলিম বা হিন্দু ব্যক্তি 'আদাব' বললে:
কোনো অমুসলিম যদি সম্মান বা সামাজিক শিষ্টাচার প্রকাশার্থে 'আদাব' বলে, তবে জবাবে মুসলিম ব্যক্তি শিষ্টাচার রক্ষার্থে 'আদাব' বলতে পারেন অথবা হাত উঠিয়ে ইশারা করতে পারেন। তবে এর চেয়ে উত্তম ও সওয়াবের প্রতিউত্তর হলো—মুখে "হাদাকাল্লাহু ইলাল ইসলাম" (هَدَاكَ اللهُ إِلَى الْإِسْلَامِ - আল্লাহ আপনাকে ইসলামের হেদায়েত দিন) বলা অথবা «السَّلَامُ عَلَى مَنِ اتَّبَعَ الْهُدَى» (অর্থ: "যে হেদায়েত বা সৎপথ অনুসরণ করে, তার ওপর শান্তি বর্ষিত হোক।") বলা। -
খ) অমুসলিম বা হিন্দু ব্যক্তি 'নমস্কার' বা ধর্মীয় শব্দ বললে:
কোনো হিন্দু বা অমুসলিম যদি তাদের ধর্মীয় বা আঞ্চলিক শব্দ (যেমন: 'নমস্কার', 'নমস্তে' ইত্যাদি) বলে অভিবাদন জানায়, তবে মুসলিম ব্যক্তি উত্তরে সেই গায়রে-ইসলামী বা ধর্মীয় শব্দ উচ্চারণ করবে না। বরং জবাবে "সালাম" বলবে অথবা "হাদাকাল্লাহু ইলাল ইসলাম" বলবে। -
গ) অমুসলিম ব্যক্তি 'প্রণাম' করতে চাইলে বা ঝুঁকে অভিবাদন জানালে:
ইসলামি শরীআতে মহান আল্লাহ তা'আলা ব্যতীত অন্য কোনো সৃষ্টির সামনে রুকু বা সিজদার মতো ঝুঁকে সম্মান প্রদর্শন করা বা প্রণাম করা সম্পূর্ণ হারাম ও নাজায়েয। অতএব, কোনো অমুসলিম বা হিন্দু যদি কোনো মুসলিমকে প্রণাম করতে চায়, তবে মুসলিম তাকে বিনয়ের সাথে বারণ করবে এবং সোজা হয়ে সাধারণ সামাজিক সৌজন্য বিনিময় করবে। -
ঘ) অমুসলিম ব্যক্তি 'আসসালামু আলাইকুম' বলে সালাম দিলে:
যদি কোনো অমুসলিম স্পষ্টভাষায় মুসলিমকে 'আসসালামু আলাইকুম' বলে সালাম দেয়, তবে হাদিস শরীফের সুনির্দিষ্ট নির্দেশ অনুযায়ী তার জবাবে কেবল "ওয়ালাইকুম" (وَعَلَيْكُمْ) বলতে হবে।
২. কুরআন ও হাদিসের প্রামাণ্য দলিল:
-
পবিত্র কুরআনের নির্দেশ:
আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেছেন:«وَإِذَا حُيِّيتُم بِتَحِيَّةٍ فَحَيُّوا بِأَحْسَنَ مِنْهَا أَوْ رُدُوهَا»
(অর্থ: "আর যখন তোমাদেরকে কোনো শব্দে অভিবাদন বা শুভেচ্ছা জানানো হয়, তখন তোমরা তার চেয়ে উত্তম অভিবাদন করো অথবা তার অনুরূপ ফিরিয়ে দাও।") [সূরা নিসা: ৮৬]। -
হাদিস শরীফের অকাট্য নির্দেশ (সালামের জবাবে 'ওয়ালাইকুম' বলা):
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেন:«إِذَا سَلَّمَ عَلَيْكُمْ أَهْلُ الْكِتَابِ فَقُولُوا وَعَلَيْكُمْ»
(অর্থ: "যখন আহলে কিতাব (অমুসলিমরা) তোমাদেরকে সালাম দেবে, তখন তোমরা জবাবে বলবে: 'ওয়ালাইকুম'।") [সহীহ বুখারী, হাদিস নং: ৬২৫৮; সহীহ মুসলিম; ফাতাওয়া মাহমুদিয়া, ১৯শ খণ্ড, পৃষ্ঠা: ৯৩]। -
রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সুন্নাত (অমুসলিমদের প্রতি অভিবাদন বাক্য):
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) অমুসলিম অমুসলিম সম্রাট ও ব্যক্তিদের কাছে চিঠি বা বার্তা পাঠালে অভিবাদন হিসেবে লিখতেন:«السَّلَامُ عَلَى مَنِ اتَّبَعَ الْهُدَى»
(অর্থ: "যে হেদায়েত বা সৎপথ অনুসরণ করে, তার ওপর শান্তি বর্ষিত হোক।") [সহীহ বুখারী; ফাতাওয়া মাহমুদিয়া, ১৯শ খণ্ড, পৃষ্ঠা: ৯২]।
সংযুক্ত কিতাব, ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বর:
১. ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (১৯শ খণ্ড):
- পৃষ্ঠা: ৯১ (প্রশ্ন নং ৯১২৮): (কাফের বা হিন্দু ব্যক্তি 'নমস্তে' বা 'রাম রাম' বললে জবাবে কেবল 'সালাম' বা 'হাদাকুল্লাহ' বলার নির্দেশ সংক্রান্ত ফতোয়া) ****।
- পৃষ্ঠা: ৯২ (প্রশ্ন নং ৯১৫০): *(অমুসলিমদের 'আদাব, আরজ, নমস্তে' ইত্যাদি বাক্যের জবাবে প্রয়োজনবশত 'আসসালামু আলা মান ইত্তাবাআল হুদা' ।
والله أعلم بالصواب