মৃত ব্যক্তির গহনা, জামা-কাপড় কি সদকা করতে হবে? নাতি-নাতনী ও পরিবারের সবাই নিয়ে নিলে কি গুনাহ হবে? এবং বিবিধ মাসাঈল সম্পর্কে জানতে চাই?
Halal and Haram · Hanafi
Question
২. মাহরাম ছাড়া কি হজে কি যাওয়া যাবে? আমার নানা নানী উমরা করতে যাবে। সেখানে নানীর বোন যেতে চাচ্ছে, তার স্বামী মারা গেছে। তাই বোনের সাথে যেতে চাচ্ছে, আবার নানীর "জা" নানীর সাথে যেতে চাচ্ছে। উনারও স্বামী মারা গেছে। এক্ষেত্রে কি উনাদের উমরা করতে যাওয়া যাবে? মানে সম্পর্কের দিক দিয়ে একজনের দুলাভাই আর বোন, অন্যজনের দেবর আর তার বউয়ের সাথে উনারা উমরায় যেতে চাচ্ছেন। আবার আরেক প্রতিবেশি আছে উনারও স্বামী নেই। উনিও কি আমার নানা নানীর সাথে যেতে পারবেন উমরা করতে?
বিঃদ্রঃ উনাদের সবার ছেলে, ভাই ইত্যাদি আছে শুধু স্বামী নেই। কিন্তু উনাদের মাহরাম রা উনাদের সাথে যাবেন না। তাই উনারা আমার নানা নানীর সাথে যেতে চাচ্ছেন। এক্ষেত্রে উনাদের কি উমরা করা জায়েয হবে?
3. আনুমানিক ৬,৭ বছর আগে আমাদের ধান কাটতেছিল, তো যতজন কৃষক ছিল সবার সাথে মিটিয়েই নেওয়া হয়েছিল যে তাদেরকে আধামণ অর্থাৎ ২০ কেজি করে ধান দেওয়া হবে। তো ধান কাটা শেষে তাদের সবাইকে তাদের প্রাপ্রটা বুঝিয়ে দেওয়ার মধ্যে একজন বেশি দাবি করেছিল। তিনি আধামণের চেয়ে বেশি ধান চেয়েছিল। তখন তার সাথে তর্কাতর্কি ঝগড়ার মতো হয়ে যায়। একপর্যায়ে ব্যক্তি ধান না নিয়েই চলে যায়। আমার পরিবারও তখন উনাকে ধান বা টাকা দেয়নি।
এখন ৬,৭ বছর পরে এসে ব্যক্তি সবার কাছে বলতে থাকে সে কিয়ামতের দিন আল্লাহর থেকে ওর প্রাপ্রটা বুঝে নিবে। ওকে ঠকানো হইছে ইত্যাদি ইত্যাদি।
কথাটা কানে আসার পর আমার নানা সেই ব্যক্তির কাছে যান, এবং সে যা চেয়েছিল তার চেয়ে বেশি অর্থ কিংবা ধান দিয়ে বিষয়টা মিটাতে চাচ্ছেন। কিন্তু ব্যক্তি এখন দাবি করছে ৬,৭ বছর আগে যে ২০ কেজি ধান চেয়েছিল তার লাভে সুদে তাকে দ্বিগুন দিতে হবে। আর আল্লাহ তো সুদকে হারাম করেছেন। আমার নানা উনাকে সুদ হিসাবে টাকা দিবেন না। ঐ ব্যক্তি আবার ধর্ম, শরীয়াহ এর আইন এসব মানেন না বা জানেন না। বুঝালেও তিনি বুঝেন না।
এক্ষেত্রে আমার নানা কি করতে পারে? তাকে বুঝানো হয়েছে যেন সে এখন একটু বেশি টাকা কিংবা অর্থ নিয়ে বিষয়টা মাফ করে দেন। কিন্তু উক্ত ব্যক্তি বলে তাকে লাভে সুদে না দিলে সে একটাকাও নিবে না। এবং তাকে বুঝানোর পরও সে টাকা নিচ্ছেন না। তার কথা তাকে ৬,৭ বছরের লাভে সুদে যতটাকা হয়েছে সেই টাকা তাকে দিতে হবে, নয়তো হিসাবটা কিয়ামতের দিন নাকি তিনি বুঝে নিবেন। এক্ষেত্রে আমার নানার করণীয় কি?
এখন উনারা কি করতে পারেন? যেহেতু উনাকে টাকা দিলেও নিচ্ছেন না, যে উনি বলছেন লাভে সুদে দিলে তবেই নিবেন নয়তো কখনই নিবেন না।
Answer
প্রশ্নোত্তর: হালাল-হারাম সংক্রান্ত চারটি মাসআলা
بسم الله الرحمن الرحيم الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على أشرف الأنبياء والمرسلين، محمد وعلى آله وأصحابه أجمعين، أما بعد
১ম মাসআলা: মৃত ব্যক্তির গহনা ও কাপড়ের বিধান
প্রশ্নের সারমর্ম: মৃত ব্যক্তির গহনা, জামা-কাপড় কি সদকা করতে হবে? নাতি-নাতনী ও পরিবারের সবাই নিয়ে নিলে কি গুনাহ হবে? নাকি ফকির-মিসকিনকে দিতে হবে? এ কারণে কি কবরে আযাব হবে?
উত্তর:
মৃত ব্যক্তির পরিত্যক্ত সম্পদ (গহনা, কাপড়, টাকা-পয়সা) মীরাস (উত্তরাধিকার) হিসেবে শরীয়তের নির্ধারিত হকদারদের মধ্যে বণ্টিত হবে। এগুলো সরাসরি সদকা করা ওয়াজিব বা আবশ্যক নয়। তবে মৃত ব্যক্তির যদি কোনো ওয়াসিয়্যাত (অছিয়ত) থাকে (যেমন: তার সম্পদের এক-তৃতীয়াংশ সদকা করার নির্দেশ), তাহলে এক-তৃতীয়াংশের মধ্যে তা পূর্ণ করতে হবে।
দলিল:
আল্লাহ তা'আলা বলেন:
"নারীদের জন্য আছে তাদের পিতামাতা ও নিকটাত্মীয়রা যা রেখে যায় তার এক অংশ, আর পুরুষদের জন্যও আছে পিতামাতা ও নিকটাত্মীয়রা যা রেখে যায় তার এক অংশ — তা অল্প হোক বা বেশি, এটা নির্ধারিত অংশ।" (সূরা নিসা: ৭)
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন:
"তোমরা ফরায়েজ (নির্ধারিত অংশ) অনুযায়ী সম্পদ বণ্টন করো।" (সহীহ বুখারী: ৬৭৩২; সহীহ মুসলিম: ১৬১৫)
ইমাম আত-তাহাবী (রহ.) তাঁর শরহু মা'আনিল আছার-এ এবং ইমাম মুহাম্মদ আশ-শায়বানী (রহ.) আল-আসল-এ উল্লেখ করেছেন যে, মৃতের সম্পদ প্রথমে তার ঋণ পরিশোধে, তারপর ওয়াসিয়্যাত (এক-তৃতীয়াংশের মধ্যে), তারপর ফরায়েজ অনুযায়ী ওয়ারিসদের মধ্যে বণ্টিত হবে।
ইবনে আবিদীন (রহ.) রাদ্দুল মুহতার-এ (কিতাবুল ফারায়েজ) বলেন:
"মৃতের সম্পদে ওয়ারিসদের হক স্বতঃসিদ্ধ; কেউ তা আটকে রাখলে সে যালিম।"
ইমাম আল-হাসকাফী আদ-দুররুল মুখতার-এ এবং আল্লামা শামী তার টীকায় বলেছেন, মৃতের কাফন-দাফন ব্যয় ও ঋণ পরিশোধের পর বাকি সম্পদ ওয়ারিসদের মাঝে বণ্টন করা আবশ্যক।
সিদ্ধান্ত:
- গহনা ও কাপড় সদকা করা আবশ্যক নয় — এগুলো মীরাসের সম্পদ। শরীয়তের হকদার ওয়ারিসরা (স্বামী/স্ত্রী, সন্তান, পিতা-মাতা ইত্যাদি) প্রাপ্য অংশ পাবেন।
- নাতি-নাতনী ও পরিবারের সবাই নিয়ে নিলে: যদি তারা প্রকৃত ওয়ারিস হন এবং শরীয়তের অংশ অনুযায়ী নেন, তাহলে গুনাহ নেই। কিন্তু যদি কোনো ওয়ারিসকে বঞ্চিত করা হয় বা অন্যায়ভাবে কেউ বেশি নেয়, তাহলে তা হারাম ও যুলুম।
- ফকির-মিসকিনকে দেওয়া: এটি ওয়াজিব নয়; বরং এটি নফল সদকা হিসেবে করা যাবে — তবে ওয়ারিসদের অনুমতি ছাড়া নয়। মৃতের পক্ষ থেকে ঈসালে সওয়াবের জন্য সদকা করা মুস্তাহাব, কিন্তু তা মীরাসের সম্পদ থেকে জবরদস্তি নয়।
- কবরের আযাব: শুধু সম্পদ সদকা না করার কারণে কবরের আযাব হবে — এ কথা কুরআন-হাদীসে নেই। কবরের আযাব হয় কুফর, শিরক, নাফরমানি, গীবত, নামাজ ত্যাগ ইত্যাদির কারণে। তবে ঋণ পরিশোধ না করা বা ওয়ারিসদের হক নষ্ট করা কবরের আযাবের কারণ হতে পারে — এ মর্মে হাদীসে এসেছে:
"ঋণগ্রস্ত ব্যক্তির ঋণ পরিশোধ না হলে তার রূহ কবরে বন্দী থাকে।" (মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ১০৫৯৯; ইবনে মাজাহ: ২৪১৩ — হাসান)
সারকথা: মৃতের সম্পদ শরীয়তের নিয়মে বণ্টন করুন; ওয়াসিয়্যাত থাকলে এক-তৃতীয়াংশের মধ্যে পূর্ণ করুন; নফল সদকা করতে চাইলে করতে পারেন — এতে সওয়াব হবে, কিন্তু বাধ্যতামূলক নয়।
২য় মাসআলা: মাহরাম ছাড়া হজ/উমরা
প্রশ্নের সারমর্ম: নানা-নানী উমরা করতে যাবেন। নানীর বোন (স্বামী মৃত), নানীর জা (স্বামী মৃত), প্রতিবেশী (স্বামী মৃত) — এরা নানা-নানীর সাথে উমরায় যেতে চান। তাদের ছেলে-ভাই আছে কিন্তু মাহরাম সাথে যেতে রাজি নয়। এ অবস্থায় কি তাদের উমরা জায়েয হবে?
উত্তর:
মহিলার জন্য মাহরাম ছাড়া হজ বা উমরা করা জায়েয নয়। এটি ফরজ হোক বা নফল — উভয় ক্ষেত্রেই মাহরাম বা স্বামীর সাথে যাওয়া শর্ত।
দলিল:
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন:
"কোনো নারী মাহরাম ছাড়া সফর করবে না, আর কোনো পুরুষ তার সাথে মাহরাম ছাড়া কোনো নারীর কাছে প্রবেশ করবে না।" (সহীহ বুখারী: ১৮৬২; সহীহ মুসলিম: ১৩৩৯)
আরেক হাদীসে:
"কোনো নারী মাহরাম ছাড়া তিন দিনের সফর করবে না।" (সহীহ বুখারী: ১০৮৮; সহীহ মুসলিম: ১৩৩৮)
ইমাম আবু হানীফা (রহ.)-এর মাযহাব অনুযায়ী, মহিলার ওপর হজ ফরজ হওয়ার শর্তগুলোর মধ্যে একটি হলো — স্বামী বা মাহরাম পুরুষের সাথে থাকা। মাহরাম না থাকলে হজ ফরজ হয় না, আর নফল উমরাও জায়েয নয়।
ইমাম আল-মারগীনানী (রহ.) আল-হিদায়া-য় (কিতাবুল হজ) বলেন:
"মহিলার জন্য মাহরাম ছাড়া হজে যাওয়া জায়েয নয়; কেননা রাসূল ﷺ নিষেধ করেছেন।"
ইবনে আবিদীন (রহ.) রাদ্দুল মুহতার-এ (২/৪৬৪) বলেন:
"মহিলার মাহরাম হলো — স্বামী, পিতা, দাদা, ছেলে, নাতি, ভাই, ভাইয়ের ছেলে, বোনের ছেলে, চাচা, মামা — যাদের সাথে বিবাহ চিরতরে হারাম।"
মুফতি মুহাম্মদ শফী (রহ.) ইমদাদুল ফাতাওয়া-য় এবং মুফতি তাকী উসমানী (দা.বা.) ফাতাওয়া উসমানী-তে (হজ অধ্যায়) স্পষ্ট করেছেন — মাহরাম ছাড়া মহিলার হজ/উমরা জায়েয নয়; এমনকি মাহরামের খরচ বহন করলেও মাহরামের সাথে যেতে হবে।
সিদ্ধান্ত:
- নানীর বোন, নানীর জা, প্রতিবেশী — এরা নানা-নানীর সাথে উমরায় যেতে পারবেন না। কারণ নানা-নানী তাদের মাহরাম নন। নানীর বোন নানার কাছে মাহরাম নন (বোনের স্বামী = স্থায়ী মাহরাম নয়), নানীর জা নানার কাছে নন-মাহরাম, প্রতিবেশীও নন-মাহরাম।
- নানী নিজে নানার সাথে যেতে পারবেন — কারণ স্বামী মাহরাম।
- উক্ত মহিলাদের ছেলে/ভাই থাকলে তাদের সাথে যেতে হবে — অথবা মাহরাম ছাড়া উমরা স্থগিত রাখতে হবে।
- মাহরাম না থাকলে উমরা ফরজ নয় — সুতরাং তাদের ওপর কোনো গুনাহ নেই, যদি না যায়। বরং মাহরাম ছাড়া গেলে গুনাহ হবে।
সতর্কতা: মাহরামের সংজ্ঞায় শুধু "ভালো সম্পর্ক" বা "বিশ্বস্ততা" নয় — বরং শরীয়তের নির্ধারিত রক্তসম্পর্ক বা বিবাহ-হারাম সম্পর্কই মাহরাম। দুলাভাই, দেবর, বোন জামাই — এরা কেউ মাহরাম নন।
৩য় মাসআলা: ৬-৭ বছর পর কৃষকের পাওনা ও সুদি দাবি
প্রশ্নের সারমর্ম: ৬-৭ বছর আগে ধান কাটার সময় কৃষকদের সাথে ২০ কেজি ধান দেওয়ার চুক্তি হয়েছিল। এক কৃষক বেশি দাবি করলে ঝগড়া হয় এবং সে ধান না নিয়ে চলে যায়। এখন সে দাবি করছে — লাভে-সুদে দ্বিগুণ দিতে হবে, নইলে কিয়ামতের দিন আল্লাহর কাছে হিসাব নেবে। নানা বেশি টাকা/ধান দিয়ে মিটাতে চাইলেও সে সুদ ছাড়া নিচ্ছে না। নানার করণীয় কী?
উত্তর:
এখানে দুটি দিক রয়েছে — (ক) মূল পাওনা পরিশোধ, (খ) সুদি দাবি প্রত্যাখ্যান।
(ক) মূল পাওনা:
কৃষকের মূল পাওনা (২০ কেজি ধান বা তার সমমূল্য) অবশ্যই পরিশোধ করতে হবে। সে সময় না নিলেও পাওনাটি তার হক ছিল এবং বহাল আছে। আমানত ও ঋণ যত দিন যাক, পরিশোধ করা আবশ্যক।
আল্লাহ তা'আলা বলেন:
"নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের আদেশ দেন আমানতসমূহ তার হকদারদের কাছে প্রত্যর্পণ করতে।" (সূরা নিসা: ৫৮)
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন:
"যার কাছে কারো হক (ঋণ) আছে, সে যেন আজই তা পরিশোধ করে দেয়।" (সহীহ বুখারী: ২৪৪৯)
ইমাম আবু হানীফা ও ইমাম আবু ইউসুফ (রহ.)-এর মতে, ঋণ যত পুরনো হোক — মূল পরিমাণই পরিশোধ করতে হবে, কোনো অতিরিক্ত নয়।
(খ) সুদি দাবি:
সুদি দাবি সম্পূর্ণ হারাম ও বাতিল। ৬-৭ বছরের "লাভে-সুদে দ্বিগুণ" — এটি সুস্পষ্ট রিবা (সুদ), যা কুরআনে মহাযুদ্ধের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
আল্লাহ তা'আলা বলেন:
"হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সুদের যা বাকি আছে তা ছেড়ে দাও, যদি তোমরা মুমিন হও। আর যদি না করো, তাহলে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পক্ষ থেকে যুদ্ধের ঘোষণা জেনে রাখো।" (সূরা বাকারা: ২৭৮-২৭৯)
"আল্লাহ সুদকে হারাম করেছেন এবং ব্যবসাকে হালাল করেছেন।" (সূরা বাকারা: ২৭৫)
রাসূলুল্লাহ ﷺ সুদগ্রহীতা, সুদদাতা, লেখক ও সাক্ষী — সবাইকে লানত করেছেন। (সহীহ মুসলিম: ১৫৯৮)
ইমাম আত-তাহাবী (রহ.) শরহু মা'আনিল আছার-এ এবং ইমাম মুহাম্মদ আশ-শায়বানী (রহ.) কিতাবুল আসল-এ বলেছেন — প্রতিটি ঋণে শর্তযুক্ত অতিরিক্তই রিবা, তা কম হোক বা বেশি।
ইবনে আবিদীন (রহ.) রাদ্দুল মুহতার-এ (কিতাবুর রিবা) বলেন:
"প্রত্যেক সেই অতিরিক্ত যা ঋণের বিনিময়ে শর্ত করা হয় — তা রিবা; তা দ্বিগুণ হোক বা সামান্য।"
মুফতি মুহাম্মদ শফী (রহ.) ইমদাদুল ফাতাওয়া-য় এবং মুফতি তাকী উসমানী (দা.বা.) ফাতাওয়া উসমানী-তে (কিতাবুর রিবা) স্পষ্ট করেছেন — ঋণ পরিশোধে অতিরিক্ত দাবি করা ও দেওয়া উভয়ই হারাম; দাতাও গুনাহগার হবে যদি সে সুদ হিসেবে দেয়।
নানার করণীয়:
- মূল পাওনা (২০ কেজি ধান বা বর্তমান বাজারমূল্য) অবশ্যই পরিশোধ করুন — এটি তার হক, আটকে রাখা যাবে না।
- সুদি দাবি কখনো পূরণ করবেন না — এটি হারাম; দিলে নানা গুনাহগার হবেন।
- বেশি টাকা/ধান "মাফের জন্য" দিতে চাইলে: শরীয়তের পদ্ধতি হলো — মূল পাওনা পরিশোধ করে অতিরিক্ত কিছু হিবা (উপহার) হিসেবে দেওয়া, সুদের শর্ত ছাড়া। তবে শর্ত করা যাবে না যে "এটি সুদের বিনিময়ে"। যদি সে সুদের শর্তেই নিতে অস্বীকার করে, তাহলে তাকে ছেড়ে দিন — তার দাবি বাতিল।
- তার হুমকি ("কিয়ামতের দিন আল্লাহর কাছে নেব") সম্পর্কে: সে যেহেতু সুদি দাবি করছে, তার এই দাবি শরীয়তে বাতিল। মূল পাওনা দিয়ে দিলে নানা দায়মুক্ত। তার অন্যায় দাবির ভয় দেখানোর প্রয়োজন নেই।
- সাক্ষী রাখুন: মূল পাওনা পরিশোধের সময় দুইজন সাক্ষী রাখুন বা লিখিত প্রমাণ রাখুন — যাতে ভবিষ্যতে অভিযোগ না হয়।
আল্লাহ তা'আলা বলেন:
"হে ঈমানদারগণ! যখন তোমরা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ঋণ লেনদেন করো, তখন তা লিখে রাখো।" (সূরা বাকারা: ২৮২)
সারকথা: মূল পাওনা দিন, সুদ প্রত্যাখ্যান করুন, অতিরিক্ত দিতে চাইলে শর্তহীন হিবা হিসেবে দিন। সুদি দাবি মানা কখনো জায়েয নয় — চাই সে কিয়ামতের ভয় দেখাক বা না দেখাক।