বছরকি ও মান্নতের দাওয়াত খাওয়া যাবে কি?
Halal and Haram · Hanafi
Question
আমার নিজের চাচা আমার দাদার বছরকি এবং চাচা অসুস্থ ছিলেন তাই একটা মান্নত ছিল সেই মান্নত এবং দাদার বছরকি এর খাওয়া দাওয়ার আয়োজন একসাথে করেছে।বছরকি এর জন্য অনেকজন হুজুর, মাদ্রাসার ছাত্র ডেকে এনে দোয়া করেছে, কুরআন তিলাওয়াত করেছে।তো চাচা আমাদেরকে বছরকি এবং মান্নতের দাওয়াত দিয়েছেন। আমার দুই ভাই আছে।আমি বড়। আমার মেঝো ভাইটা অষ্টম শ্রেণীতে পড়ে।সে আমাদের চাচাদের সাথে ভালো সম্পর্ক বজায় রাখে না। তাদের থেকে দূরে দূরে থাকে। তাদের সাথে কথা বলতে চায় না।চাচা যে দাওয়াত দিয়ে গেছেন আমার সেই ভাই বলেছে সে দাওয়াতে যাবে না।যাওয়ার রইল আমার আম্মু,আমি আর আমার আরেক ছোট ভাই।
এখন আমিও যদি না যাই তাহলে ব্যাপারটা কেমন দেখায়।চাচারা আমাদের সম্পর্কে খারাপ ভাবতে পারে।মনে কষ্ট পাইতে পারে। আমার আম্মুও আমাকে অনেক রাগারাগী করতে পারেন। আমার পরিবারের কেউ দ্বীনদার নয়। আমার চাচা, আমার আত্মীয় রাও দ্বীনদার নয়।বছরকি বা মৃত্যুবার্ষিকী করা বিদআত আমি জানি।তাই যাইতে চাই না।
১)এখন এই উদ্দেশ্যে কি আমি চাচাদের বাসায় গিয়ে এই দাওয়াত খাইতে পারবো?
চাচাদের সাথে ভালো সম্পর্ক বজায় রাখার জন্য কি এই দাওয়াত খাইতে পারবো?বছরকি এবং মান্নত এর খাওয়া দাওয়ার আয়োজন একসাথে করা হয়েছে।
২)যদি দাওয়াত খেয়ে ফেলি তাহলে আমার গুনাহ হবে? গুনাহ হলে কি করনীয়?
৩)দাওয়াত খাওয়া শেষে অনেক খাবার বেচে যায়। আমার চাচি সেই খাবার আমাদেরকে দিতে চেয়েছে।যদি এই দাওয়াত খাওয়া না যায় তাহলে কি চাচি যেই বেচে যাওয়া খাবারগুলো দিয়েছে সেগুলো খেতে পারবো? আম্মু বলেছে কালকে রান্না করবো না। এগুলোই খাবো। তখন আমি কি করব?
Answer
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
প্রশ্নঃ- ১)এখন এই উদ্দেশ্যে কি আমি চাচাদের বাসায় গিয়ে এই দাওয়াত খাইতে পারবো?
জবাবঃ- না,পারবেনন।
২)যদি দাওয়াত খেয়ে ফেলি তাহলে আমার গুনাহ হবে? গুনাহ হলে কি করনীয়?
জবাবঃ- হ্যাঁ গুনাহ হবে। তওবা করে নিবেন।
৩)দাওয়াত খাওয়া শেষে অনেক খাবার বেচে যায়। আমার চাচি সেই খাবার আমাদেরকে দিতে চেয়েছে।যদি এই দাওয়াত খাওয়া না যায় তাহলে কি চাচি যেই বেচে যাওয়া খাবারগুলো দিয়েছে সেগুলো খেতে পারবো? আম্মু বলেছে কালকে রান্না করবো না। এগুলোই খাবো। তখন আমি কি করব?
জবাবঃ- এগুলো খাওয়া যাবেনা। আপনি প্রয়োজনে অন্য কোনো ভাবে নিজের খানাপিনার ব্যবস্থা করবেন।
ইসলামে মৃত্যুবার্ষিকী বা বছরকি পালন করা বিদআত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
«مَنْ أَحْدَثَ فِي أَمْرِنَا هَذَا مَا لَيْسَ مِنْهُ فَهُوَ رَدٌّ»
“যে ব্যক্তি আমাদের এই দ্বীনের মধ্যে এমন নতুন কিছু সৃষ্টি করবে যা তার অন্তর্ভুক্ত নয়, তা প্রত্যাখ্যাত।”
— সহীহ বুখারী, হাদীস ২৬৯৭; সহীহ মুসলিম, হাদীস ১৭১৮
আরও ইরশাদ হয়েছে:
«وَإِيَّاكُمْ وَمُحْدَثَاتِ الْأُمُورِ، فَإِنَّ كُلَّ مُحْدَثَةٍ بِدْعَةٌ، وَكُلَّ بِدْعَةٍ ضَلَالَةٌ»
“তোমরা নতুন সৃষ্টি করা বিষয়গুলো থেকে বেঁচে থাকো; কারণ প্রত্যেক নতুন বিষয় বিদআত, আর প্রত্যেক বিদআত ভ্রষ্টতা।”
— সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ৪৬০৭; সুনানে তিরমিজি, হাদীস ২৬৭৬
আল্লাহ তাআলা বলেন:
«وَتُوبُوا إِلَى اللَّهِ جَمِيعًا أَيُّهَ الْمُؤْمِنُونَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ»
“হে মুমিনগণ! তোমরা সবাই আল্লাহর কাছে তওবা করো, যাতে তোমরা সফল হও।”
— সূরা আন-নূর: ৩১
তওবার শর্ত: (১) গুনাহ ছেড়ে দেওয়া, (২) অন্তরে অনুতপ্ত হওয়া, (৩) ভবিষ্যতে না করার দৃঢ় সংকল্প করা।