শ্বাশুড়ির টাকা "টেকনিক্যালি সত্য" বলে না বুঝিয়ে নেওয়া কি হালাল?
Halal and Haram · Hanafi
Question
Answer
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ।
উত্তর: এক্ষেত্রে আপনি যদি তাকে সাধ্যমত বোঝানোর চেষ্টা করার পরেও তিনি না বোঝেন এবং আপনি এক্ষেত্রে যদি কোন মিথ্যার আশ্রয় না নেন এবং সবকটি টাকা যদি উক্ত কাজেই যদি ব্যয় হয় এবং সেই টাকাগুলো যদি আপনার অতি আবশ্যকীয় কাজেই ব্যয় হয়, যাতে আপনার স্বামীর সন্তুষ্টি চিত্তে অনুমতিও রয়েছে,সেক্ষেত্রে উক্ত টাকা নেয়া জায়েজ হবে। (অন্যথায় জায়েজ হবেনা।)
এক্ষেত্রে উক্ত ৩ কাজে খরচের পর টাকা বেঁচে হেলে তাহা ফেরত দিতে হবে।
আমানত ও সততার মূলনীতি: রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন—
«أَدِّ الْأَمَانَةَ إِلَى مَنِ ائْتَمَنَكَ، وَلَا تَخُنْ مَنْ خَانَكَ» "যাকে তুমি আমানতদার হিসেবে গ্রহণ করেছ, তার আমানত আদায় করো; আর যে তোমার সাথে খিয়ানত করেছে, তুমিও তার সাথে খিয়ানত করো না।" — (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস ৩৫৩৫; সুনানে তিরমিজি, হাদিস ১২৬৪; মুসনাদে আহমাদ)
এখানে শ্বাশুড়ির টাকা তার অনুমতি ছাড়া বা ভুল বোঝাবুঝির সুযোগে নেওয়া আমানতের খেলাফ।
অন্যায়ভাবে সম্পদ গ্রহণ নিষিদ্ধ: আল্লাহ তাআলা বলেন—
«يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَأْكُلُوا أَمْوَالَكُم بَيْنَكُم بِالْبَاطِلِ إِلَّا أَن تَكُونَ تِجَارَةً عَن تَرَاضٍ مِّنكُمْ» "হে ঈমানদারগণ! তোমরা একে অপরের সম্পদ অন্যায়ভাবে ভক্ষণ করো না; তবে পারস্পরিক সম্মতিতে ব্যবসার মাধ্যমে হলে ভিন্ন কথা।" — (সূরা আন-নিসা: ২৯)
প্রতারণা ও ধোঁকা নিষিদ্ধ: রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন—
«مَنْ غَشَّنَا فَلَيْسَ مِنَّا» "যে আমাদের সাথে ধোঁকা করে, সে আমাদের দলভুক্ত নয়।" — (সহিহ মুসলিম, হাদিস ১০১; সুনানে আবু দাউদ, হাদিস ৩৪৫২)
"টেকনিক্যালি সত্য" বলে কথাকে এমনভাবে বলা, যাতে শ্রোতা ভুল বোঝে—এটি ইসলামে "তাওরিয়া" বা "কিনায়া"র অপব্যবহার। শরীয়তে কোনো বৈধ প্রয়োজনে (যেমন প্রাণরক্ষা, বড় ফিতনা এড়ানো) তাওরিয়ার অনুমতি আছে; কিন্তু নিছক টাকা হাতিয়ে নেওয়ার জন্য তা ব্যবহার করা জায়েয নয়। ইমাম ইবনে আবিদিন (রহ.) «রাদ্দুল মুহতার»-এ স্পষ্ট করেছেন, প্রতারণামূলক তাওরিয়া হারাম।
হানাফি ফিকহের সিদ্ধান্ত: ইমাম মুহাম্মদ (রহ.) «আল-আসল»-এ এবং ইমাম সারাখসি (রহ.) «আল-মাবসূত»-এ উল্লেখ করেছেন—কোনো ব্যক্তি যদি এমনভাবে সম্পদ নেয় যে দাতা পুরো পরিমাণ সম্পর্কে অবগত নয়, তবে যতটুকুতে সম্মতি প্রমাণিত, ততটুকু ছাড়া বাকিটা তার জন্য হালাল নয়; বাকিটা ফেরত দেওয়া ওয়াজিব। ইমাম ইবনে আবিদিন «রাদ্দুল মুহতার» (খণ্ড ৪, কিতাবুল গাসব) ও «ফাতাওয়া আলমগিরি» (কিতাবুল গাসব)তেও একই মূলনীতি বর্ণিত।
আশরাফ আলী থানভী (রহ.)-এর নির্দেশনা: «বেহেশতী জেওর»-এ তিনি স্পষ্ট বলেছেন—কারো সম্পদ তার স্পষ্ট অনুমতি ছাড়া নেওয়া যাবে না; আর "সে হয়তো বুঝেছে" বা "সে হয়তো রাজি হবে" এই ধারণার ভিত্তিতে নেওয়া জায়েয নয়।