ইস্তিহাযা (অনিয়মিত রক্তপাত) অবস্থায় নামাজ, রোজা ও কুরআন তিলাওয়াতের বিধান কী?

Taharah Purity · Hanafi

Question No: 7032
Questioner: আয়াত
Question Asked: 17 Oct 2026, 05:16 PM
Reviewed & Published: 17 Oct 2026, 06:29 PM
Views: 10
Tokens: 5,456
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহ, হুজুর।
আমার একটি দ্বীনি বিষয়ে মাসআলা জানা ছিল।
আমার পিরিয়ড বা ঋতুস্রাব সবসময়ই অনিয়মিত। অনেক সময় মাসের পর মাস অনিয়মিত থাকে। আমার কয়েক মাস যাবত সাদা স্রাবের সাথে হালকা হালকা ব্লিডিং (রক্তপাত) হচ্ছে ।মাঝেমধ্যে ঠিক হয় সপ্তাহ খানেক ভালো থাকে এরপর আবার হয়।
এই অবস্থায় আমার জানার বিষয় হলো:
১. আমি কি এই পরিস্থিতিতে সালাত/নামাজ আদায় করতে পারবো?
২. আমি কি কুরআন মাজীদ তিলাওয়াত বা স্পর্শ করতে পারবো?
৩. যদি নামাজ পড়ার বিধান থাকে, তবে কি প্রতি ওয়াক্তের নামাজের আগে আমাকে কাপড় পরিবর্তন করে নিতে হবে, নাকি একই কাপড়ে নামাজ পড়া যাবে?
দয়া করে শরীয়তের সঠিক সমাধান দিয়ে উপকৃত করবেন।
জাজাকাল্লাহু খাইরান।

Answer

وَعَلَيْكُمُ السَّلَامُ وَرَحْمَةُ اللهِ وَبَرَكَاتُهُ

উত্তর: আপনার বর্ণনা অনুযায়ী আপনি ১০ দিন হায়েজ ধরবেন,যদি ১০ দিনের কম সময়ের মধ্যেই ব্লিডিং বন্ধ হয়,সেক্ষেত্রে সে কয়দিনই হায়েজ ধরবেন, এরপর সর্বনিম্ন ১৫ দিন ইস্তিহাজা ধরে নামাজ কুরআন তিলাওয়াত চালিয়ে যাবেন,এরপর যেদিন হতে আবারো ব্লাড আসবে,সেদিন হতে আবারো হায়েজ ধরবেন।

এমতাবস্থায় আবারো ১০ দিন হায়েজ ধরবেন,যদি ১০ দিনের কম সময়ের মধ্যেই ব্লিডিং বন্ধ হয়,সেক্ষেত্রে সে কয়দিনই হায়েজ ধরবেন। এরপর সর্বনিম্ন ১৫ দিন ইস্তিহাজা ধরে নামাজ কুরআন তিলাওয়াত চালিয়ে যাবেন,এরপর যেদিন হতে আবারো ব্লাড আসবে,সেদিন হতে আবারো হায়েজ ধরবেন।

এভাবেই সুস্থ হওয়ার আগ পর্যন্ত হায়েজ আর ইস্তিহাজার দিন গুলির হিসাব করবেন।

হায়েজের দিন গুলিতে নামাজ, কুরআন তিলাওয়াত,রোযা বন্ধ রাখবেন। ইস্তিহাজার দিন গুলিতে এসব ইবাদত চালু রাখতে পারবেন।

ইস্তিহাযার রক্ত নামাজের বাধা নয়। রাসূলুল্লাহ ﷺ ফাতিমা বিনতে আবি হুবাইশ (রা.)-কে বলেছিলেন:

«إِنَّمَا ذَلِكِ عِرْقٌ وَلَيْسَتْ بِالْحَيْضَةِ، فَإِذَا أَقْبَلَتِ الْحَيْضَةُ فَدَعِي الصَّلَاةَ، وَإِذَا أَدْبَرَتْ فَاغْسِلِي عَنْكِ الدَّمَ وَصَلِّي» — সহীহ বুখারী, হাদিস ৩০৬; সহীহ মুসলিম, হাদিস ৩৩৩

অর্থ: "এটি তো একটি শিরার রক্ত, হায়েজ নয়। যখন হায়েজ আসে তখন নামাজ ছাড়ো, আর যখন চলে যায় তখন রক্ত ধুয়ে নামাজ পড়ো।"

শর্ত: প্রত্যেক নামাজের ওয়াক্তে (ওয়াক্ত শুরু হওয়ার পর) নতুন ওযু করতে হবে। এক ওযু দিয়ে এক ওয়াক্তের ফরজ ও নফল সব পড়া যাবে; পরের ওয়াক্তে আবার ওযু করতে হবে। (রাদ্দুল মুহতার ১/২৮৫; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৩৭)

প্রশ্ন ২, কুরআন তিলাওয়াত বা স্পর্শ করা যাবে?

হ্যাঁ, যাবে। ইস্তিহাযায় কুরআন তিলাওয়াত, স্পর্শ, মসজিদে প্রবেশ—সবই জায়েয। (রাদ্দুল মুহতার ১/২৮৬; ইমদাদুল ফাতাওয়া ১/১৩৫)

তবে ওযু ছাড়া কুরআন স্পর্শ করা যাবে না—এটি সব অবস্থায় প্রযোজ্য। তিলাওয়াত (মুখস্থ বা না ছুঁয়ে পড়া) ওযু ছাড়াও জায়েয, তবে ওযু থাকা উত্তম।

প্রশ্ন ৩: প্রতি ওয়াক্তে কাপড় পরিবর্তন করতে হবে কি?

আপনি মা'যুর হলে তাহা বাধ্যতামূলক নয়। মা'যুর না হলে (অর্থাৎ নামাজের পুরো ওয়াক্ত জুড়ে স্রাব না আসলে বরং পবিত্র অবস্থায় নামাজ আদায়ের সময় সুযোগ পাওয়া গেলে) সেক্ষেত্রে প্রতি ওয়াক্তে কাপড় পরিবর্তন করে পবিত্র কাপড়ে ও পবিত্র শরীরে নামাজ আদায় বাধ্যতামূলক।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.