চোখে কাজল থাকলে ওযু হবে?
Taharah Purity · Hanafi
Question
Answer
চোখে কাজল থাকলে ওযু হবে?
প্রশ্ন
চোখে কাজল থাকলে ওযু হবে কি?
উত্তর
হ্যাঁ, চোখে কাজল থাকলেও ওযু হয়ে যাবে। কাজল চোখে থাকা ওযুকে প্রভাবিত করে না, কারণ ওযুতে চোখ ধোয়া ফরজ নয়।
তবে যদি কাজল চোখের বাইরে চামড়ায় এতটা পুরুভাবে লাগানো থাকে যে, পানি ত্বকে পৌঁছাতে বাধা দেয়—তাহলে সেই স্থান ধোয়ার সময় পানি পৌঁছানো নিশ্চিত করতে হবে।
ওযুর ফরজসমূহ
কুরআনে আল্লাহ তা'আলা বলেন:
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا قُمْتُمْ إِلَى الصَّلَاةِ فَاغْسِلُوا وُجُوهَكُمْ وَأَيْدِيَكُمْ إِلَى الْمَرَافِقِ وَامْسَحُوا بِرُءُوسِكُمْ وَأَرْجُلَكُمْ إِلَى الْكَعْبَيْنِ
"হে ঈমানদারগণ! যখন তোমরা নামাজের জন্য দাঁড়াও, তখন তোমাদের মুখমণ্ডল ধৌত করো, হাত কনুই পর্যন্ত ধৌত করো, মাথা মাসেহ করো এবং পা টাখনু পর্যন্ত ধৌত করো।" — সূরা আল-মায়িদা: ৬
চোখ কি মুখমণ্ডলের অন্তর্ভুক্ত?
হানাফি মাযহাবে চোখের ভেতরের অংশ (চোখের গোলা, পলক) মুখমণ্ডলের অন্তর্ভুক্ত নয়। মুখমণ্ডল বলতে বোঝায়: কপালের চুলের সীমা থেকে থুতনির নিচ পর্যন্ত এবং এক কান থেকে অন্য কান পর্যন্ত বাহ্যিক চামড়া।
ইমাম আবু হানিফা (রহ.) ও ইমাম আবু ইউসুফ (রহ.)-এর মত হলো, চোখের ভেতর ধোয়া ফরজ নয়। তাই চোখে কাজল থাকলে ওযুর কোনো ক্ষতি হয় না।
রেফারেন্স:
- আল-হিদায়া (কিতাবুত তাহারাহ): "ولا يجب غسل ما في داخل العين"
- রাদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদীন শামি, ১/৯৫): "داخل العين ليس من الوجه حتى يجب غسله"
- ফাতাওয়া আলমগিরি (১/৩): চোখের ভেতর মুখমণ্ডলের অন্তর্ভুক্ত নয়।
কাজলের বিধান
হাদিসে কাজল ব্যবহারের ফজিলত বর্ণিত হয়েছে:
عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا قَالَتْ: كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَكْتَحِلُ بِالْإِثْمِدِ...
আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করিম (সা.) ইসমিদ (কাজলের সুরমা) ব্যবহার করতেন। — সুনানে আবু দাউদ: ৪০৬৪; সুনানে তিরমিজি: ১৭৫৭
কাজল ব্যবহার সুন্নত। আর কাজল চোখে থাকা অবস্থায় ওযু-গোসল সবই সহিহ হবে।
সতর্কতার বিষয়
যদি কাজল বা অন্য কোনো প্রসাধনী চোখের বাইরের চামড়ায় এত পুরু স্তরে লাগানো থাকে যে, ওযুতে মুখ ধোয়ার সময় পানি ত্বকে পৌঁছায় না—তাহলে সেখানে পানি পৌঁছানো জরুরি হবে। কারণ মুখমণ্ডল ধোয়া ফরজ, আর ফরজ আদায়ে বাধা সৃষ্টিকারী বস্তু অপসারণ করা আবশ্যক।