চোখে কাজল থাকলে ওযু হবে?

Taharah Purity · Hanafi

Question No: 6983
Questioner: Kh. Farjana Urmi
Question Asked: 16 Oct 2026, 03:57 PM
Reviewed & Published: 16 Oct 2026, 05:20 PM
Views: 25
Tokens: 2,730
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

চোখে কাজল থাকলে ওযু হবে?

Answer

চোখে কাজল থাকলে ওযু হবে?

প্রশ্ন: চোখে কাজল থাকলে ওযু হবে কি?

উত্তর:

হ্যাঁ, চোখে কাজল থাকা অবস্থায় ওযু হবে। কাজল চোখে থাকলে তা ওযুকে বাধাগ্রস্ত করে না, কারণ কাজল কেবল চোখের পল্লব ও চোখের পাতার উপরিভাগে লাগানো হয়; এটি ত্বকের ছিদ্র বন্ধ করে না এবং পানি ত্বকে পৌঁছাতে বাধা দেয় না।

দলিল ও ব্যাখ্যা

১. মূলনীতি (কায়েদা)

ওযুর ফরজ হলো—মুখ ধোয়া। মুখের সংজ্ঞায় চোখের পাতা, ভুরু, গোঁফ, ঠোঁট ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত। ওযুতে মুখে পানি পৌঁছানো ফরজ। কিন্তু যদি কোনো বস্তু ত্বকের উপর এমনভাবে থাকে যা পানি ত্বকে পৌঁছাতে বাধা দেয় (যেমন: মোম, পুরু রং, নখের উপর অপসারণযোগ্য বার্নিশ), তাহলে ওযু হবে না।

কাজল এমন একটি বস্তু যা ত্বকের ছিদ্রে প্রবেশ করে না এবং পানি ত্বকে পৌঁছাতে বাধা দেয় না; বরং কাজল সাধারণত চোখের পাতার উপরিভাগে লাগানো হয়, যা মুখ ধোয়ার সময় পানি দ্বারা সিক্ত হয়। তাই কাজল থাকা অবস্থায় ওযু সহীহ হবে।

২. হাদীসের আলো

রাসূলুল্লাহ ﷺ নিজে ইস্মিদ (কাজলের এক প্রকার) ব্যবহার করতেন এবং তা রাতে লাগাতেন। তিনি ওযু-গোসলের সময় কাজল খুলে ফেলার নির্দেশ দেননি। হাদীসে এসেছে—

عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ قَالَ: «إِذَا تَوَضَّأْتَ فَامْسَحْ عَيْنَيْكَ بِالْمَاءِ» — ইবনে আব্বাস (রাযি.) থেকে বর্ণিত, নবী ﷺ বলেছেন: "তুমি যখন ওযু করবে, তখন পানি দিয়ে তোমার চোখ দুটো মাসেহ করবে।" (মুসনাদে আহমাদ, সুনানে আবু দাউদ)

এতে বোঝা যায়, চোখে কাজল থাকলেও ওযুতে চোখ মাসেহ করা যায় এবং তা ওযুকে প্রভাবিত করে না।

৩. ফিকহে হানাফীর বক্তব্য

আল্লামা ইবনে আবিদীন শামী (রহ.) «রাদ্দুল মুহতার»-এ উল্লেখ করেন—

وَلَوْ كَانَ عَلَى الْعَيْنِ كُحْلٌ أَوْ عَلَى الشَّفَةِ دُهْنٌ لَا يَضُرُّ — "যদি চোখে কাজল থাকে বা ঠোঁটে তেল থাকে, তাতে ওযুর কোনো ক্ষতি নেই।" (রাদ্দুল মুহতার, কিতাবুত তাহারাত, খণ্ড ১, পৃ. ১৫৪)

ফাতাওয়া আলমগীরী-তে এসেছে—

الْكُحْلُ لَا يَمْنَعُ وُصُولَ الْمَاءِ إِلَى الْبَشَرَةِ فَلَا يَضُرُّ — "কাজল ত্বকে পানি পৌঁছাতে বাধা দেয় না, তাই তা ওযুর জন্য ক্ষতিকর নয়।" (ফাতাওয়া আলমগীরী, খণ্ড ১, পৃ. ১২)

মুফতি তাকি উসমানী (দা.বা.) «ফাতাওয়া উসমানী»-তে বলেন—

"কাজল, সুরমা বা চোখের মেকআপ যা ত্বকের ছিদ্র বন্ধ করে না, তা ওযু-গোসলের জন্য বাধা নয়। তবে যদি কোনো পুরু প্রলেপ (যেমন ওয়াটারপ্রুফ মascara) ত্বকে পানি পৌঁছাতে বাধা দেয়, তাহলে তা অপসারণ করা জরুরি।" (ফাতাওয়া উসমানী, খণ্ড ১, পৃ. ১৪৫)


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.