বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রভিডেন্ট ফান্ডের সুদ
Halal and Haram · Hanafi
Question
আমি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকুরি করি যেখানে প্রভিডেন্ট ফান্ডের নিয়মগুলো নিন্মরূপঃ
১. ম্যানেজমেন্ট স্টাফ প্রভিডেন্ট ফান্ডের জন্য যোগ্য।
২. চাকুরির ১ বছর পূর্ণ হওয়ার পর প্রভিডেন্ট ফান্ডের জন্য এপ্লাই করতে পারবে।
৩. বেসিক স্যালারির ৮% প্রভিডেন্ট ফান্ড হিসেবে কাটা হবে এবং সমপরিমাণ অর্থ কোম্পানি প্রদান করবে, যেটা চাকরি ছাড়লে পাবে।
৪. কেউ যদি ২ বছর আগে চাকুরি ছাড়ে তাহলে কোম্পানি কোনো অর্থ দিবে না এবং চাকুরিজীবী যেটা জমা করেছে সেটাই পাবে।
৫. প্রভিডেন্ট ফান্ড বাধ্যতামূলক নয়।
এক্ষেত্রে কোম্পানি কর্তৃক প্রদান করা প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকা কি সুদের অন্তর্ভুক্ত?
Answer
উত্তর (সংক্ষিপ্ত):
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
আপনার দেওয়া ফতোয়া বা মাসআলার লেখাটিকে আরও সুন্দর, স্পষ্ট ও আকর্ষণীয়ভাবে সাজিয়ে নিচে উপস্থাপন করা হলো:
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
আলহামদুলিল্লাহ!
চাকরি-পরবর্তী বোনাস সাধারণত দুই ধরনের হয়ে থাকে। যথা:
- প্রভিডেন্ট ফান্ড
- পেনশন ফান্ড
১. প্রভিডেন্ট ফান্ড
প্রভিডেন্ট ফান্ডের উৎস প্রধানত দুই ধরনের হয়ে থাকে:
-
(ক) বাধ্যতামূলক কর্তন: ইনকাম ট্যাক্স বা প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকা কেটে রাখা যদি বাধ্যতামূলক সরকারি নীতিমালার আওতাধীন হয় (যা পরবর্তীতে চাকুরিজীবীকে দেওয়া হবে), তবে উক্ত প্রভিডেন্ট ফান্ড সুদের অন্তর্ভুক্ত হবে না।
-
কারণ: বেতনের কর্তনকৃত এই অংশ চাইলেও চাকুরিজীবী তাৎক্ষণিকভাবে তুলতে বা উসুল করতে পারেন না। আর হস্তগত (কব্জা) করার পূর্বে কেউ কোনো বেতন-ভাতার মালিক হতে পারে না। যখন সে ওই টাকার মালিকই হয়নি, তখন সে কীভাবে একে সুদে লাগাল?
-
তাই কর্তনকৃত মূল টাকার চেয়ে অতিরিক্ত প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকাকে সুদ বলা যাবে না। বরং এক্ষেত্রে ধরে নেওয়া হবে যে, বেতন-ভাতার অপরিশোধিত সেই টাকাগুলোই এখন তার হস্তগত হচ্ছে এবং সবগুলোকে তার বেতন হিসেবেই গণ্য করা হবে।
-
(খ) ঐচ্ছিক (অপশনাল) কর্তন: টাকা কেটে রাখার বিষয়টি যদি ঐচ্ছিক নীতিমালার আওতাধীন হয়—যা ইচ্ছা করলে এড়িয়ে চলা যায়—তাহলে মূল যত টাকা কেটে রাখা হয়েছিল, পরবর্তীতে প্রভিডেন্ট ফান্ড থেকে ঠিক ততটুকুই গ্রহণ করা জায়েয হবে।
-
অতিরিক্ত টাকার হুকুম: এর চেয়ে বেশি বা অতিরিক্ত টাকাকে সুদ হিসেবে গণ্য করা হবে। কারণ, তিনি ইচ্ছা করলেই কর্তনকৃত টাকাগুলো আগেই নিজের হাতে নিয়ে আসতে পারতেন; কিন্তু তা না করায় বোঝা গেল তিনি জেনেশুনেই তা সুদে বিনিয়োগ করেছেন।
২. পেনশন ফান্ড
চাকরি থেকে অব্যাহতি পাওয়ার পর চাকুরিজীবীদের জন্য নির্ধারিত পেনশনকে সরাসরি সাধারণ বেতন-ভাতার অন্তর্ভুক্ত ধরা যাবে না। বরং এটিকে সরকারের পক্ষ থেকে একটি পৃথক পুরস্কার হিসেবে গণ্য করা হবে।
- যেহেতু পুরস্কার গ্রহণ করা জায়েয, তাই সরকারি বা নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে পেনশন গ্রহণ করাও জায়েয। (সূত্র: মুহাক্কাক্ব ও মুদাল্লাল জাদীদ মাসাঈল, পৃষ্ঠা ৪০৮-৪০৯; জামেয়া ইসলামিয়া এশাআতুল উলূম, মহারাষ্ট্র, ভারত কর্তৃক প্রকাশিত)
করণীয়:
প্রশ্নের বিবরণ মতে যেহেতু বিষয়টা ঐচ্ছিক, তাই এটা জায়েয হবে না। শুধুমাত্র আসল জমাকৃত টাকাই জায়েয হবে। অতিরিক্ত সুদ হিসেবে পরিগণিত হবে।
والله أعلم بالصواب (আল্লাহ তাআলাই সবচেয়ে ভালো জানেন)