মাসিক বন্ধ করার জন্য রাতে পিল খাইছে, এক্ষেত্রে স্ত্রীর মাসিকের রক্ত আর দেখা না গেলে স্বামী কি সহবাস করতে পারবে?

Taharah Purity · Hanafi

Question No: 695
Questioner: Md Ramjan Ali
Question Asked: 24 May 2026, 05:51 PM
Reviewed & Published: 24 May 2026, 05:57 PM
Views: 89
Tokens: 3,532
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

স্বামী চাকরির জন্য দূরে থাকে, স্বামীর যেদিন ছুটি হইছে ঐদিনই স্ত্রীর মাসিক দেখা দিয়েছে, পরে স্ত্রী মাসিক বন্ধ করার জন্য রাতে পিল খাইছে, এক্ষেত্রে স্ত্রীর মাসিকের রক্ত আর দেখা না গেলে স্বামী কি সহবাস করতে পারবে??? আর না পারলে কত দিন পর পারবে???উল্লেখ্য স্বামীর ছুটি মাত্র ৬ দিন। আর নামাজ কখন থেকে পরবে?

Answer

উত্তর:
প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে স্ত্রীর মাসিকের রক্ত মাত্র একদিন বা তারও কম সময় দেখা দেওয়ার পর পিল খেয়ে বন্ধ হয়ে গেছে। যেহেতু রক্ত প্রবাহ ৩ দিনের কম (ন্যূনতম হায়দ ৩ দিন), তাই এটি হায়দ নয়, বরং ইস্তিহাজা (অর্থাৎ অস্বাভাবিক রক্ত) গণ্য হবে। নিম্নে বিস্তারিত উত্তর দেওয়া হলো:

১. সহবাসের বিধান:

  • হানাফি মতে, নারীর মাসিক রক্ত (হায়দ) যদি ৩ দিনের কম সময় ধরে দেখা দেয়, তবে তা হায়েজ হিসেবে গণ্য হয় না। এটি ইস্তিহাজা (মাসিক ব্যতীত অন্য কারণে রক্তস্রাব) বলে বিবেচিত হবে।
  • রক্ত বন্ধ হওয়ার পর স্ত্রী যদি ভালোভাবে স্থান ধুয়ে ফেলে (ইস্তিঞ্জা করে), তাহলে স্বামী তার সাথে সহবাস করতে পারবে। কোনো অপেক্ষার প্রয়োজন নেই।
  • রেফারেন্স:
    • রদ্দুল মুহতার (১/২৮৫): “হায়দের সর্বনিম্ন সময় ৩ দিন, এর কম হলে তা ইস্তিহাজা।”
    • ফাতাওয়া উসমানী (১/৩৫৪): “যদি মহিলার রক্ত ৩ দিনের কম আসে এবং বন্ধ হয়ে যায়, তবে তা হায়দ নয়। এমতাবস্থায় সহবাস জায়েয।”
    • আল-হিদায়া (১/৩৩): “হায়দ ৩ দিনের কম হলে তা ইস্তিহাজা, তাতে সহবাস হালাল।”

সুতরাং, স্বামী তার ছুটির ৬ দিনের মধ্যে যেকোনো দিন সহবাস করতে পারবেন, তবে স্ত্রীকে পূর্বে ভালোভাবে পবিত্র হতে হবে।

২. নামাজ কখন থেকে পড়বে?

  • যেহেতু রক্ত হায়দ হিসেবে গণ্য নয়, তাই স্ত্রী যেদিন রক্ত বন্ধ হয়েছে, সেদিনই পবিত্রতা অর্জন করে নামাজ শুরু করতে পারবে। তবে শর্ত হলো:
    • প্রথমে রক্ত ধুয়ে ফেলতে হবে (ইস্তিঞ্জা)।
    • তারপর ওযু করে নামাজ পড়তে হবে।
  • মনে রাখবেন: রক্ত আসার সময়ে যদি স্ত্রী নামাজ ছেড়ে দিয়ে থাকেন (ভেবে যে হায়দ হয়েছে), তাহলে এই ছুটে যাওয়া নামাজগুলো কাজা করতে হবে। কারণ এটি হায়দ ছিল না, বরং ইস্তিহাজা, যাতে নামাজ ছেড়ে দেওয়া জায়েয নয়।
  • রেফারেন্স:
    • বাহিশ্তী জেওর (পৃষ্ঠা ৬২): “যদি রক্ত ৩ দিনের কম হয়, তবে তা হায়দ নয়। স্ত্রী পবিত্র হওয়ার পর নামাজ পড়বে এবং যে নামাজ ছুটেছে তার কাজা করবে।”
    • ইমদাদুল ফাতাওয়া (১/২৪৭): “ইস্তিহাজার রক্ত বন্ধ হলে ওযু করেই নামাজ পড়া যাবে; গোসলের প্রয়োজন নেই।”

৩. বিশেষ নোট:

  • যদি পিল খাওয়ার পরও রক্ত ৩ দিন বা তার বেশি চলতে থাকে, তাহলে তা হায়েজ গণ্য হবে। সেক্ষেত্রে সহবাস সম্পূর্ণ হারাম এবং রক্ত সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গোসলের পরই জায়েয হবে।
  • আপনার ক্ষেত্রে রক্ত মাত্র একদিন এসেছে বলে হায়দের ন্যূনতম সময় (৩ দিন) পূর্ণ হয়নি। তাই উপরোক্ত নির্দেশনা প্রযোজ্য।

উপসংহার:
প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে রক্তপাত পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেলে স্বামী তার স্ত্রীর সাথে অবিলম্বে সহবাস করতে পারবেন (স্ত্রী পবিত্র হওয়ার পর)। স্ত্রী রক্ত বন্ধ হওয়ার পরই ওযু করে নামাজ শুরু করতে পারবেন এবং পূর্বের ছুটে যাওয়া নামাজের কাজা আদায় করবেন।

আল্লাহু তা‘আলা সর্বজ্ঞ।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.