নিফাসের ২৯ দিনে রক্ত বন্ধ হয়ে গেলে সহবাস ও ফরজ গোসলের বিধান কী?
Halal and Haram · Hanafi
Question
Answer
নিফাস সংক্রান্ত মাসআলা: রক্ত বন্ধ হওয়ার পর সহবাস ও গোসলের বিধান
প্রশ্নের সারসংক্ষেপ
আপনার নিফাসের ২৯ দিন চলছে। রক্ত বন্ধ হয়েছে কয়েকদিন আগে। এখন শুধু অতি সামান্য হালকা ময়লা (সাদা/হালকা স্রাব) যায়। আপনার স্বামী বলছেন—যেহেতু রক্ত বের হচ্ছে না, তাই নিফাস শেষ; তিনি সহবাস করতে চান। আপনি জানতে চান—এ অবস্থায় সহবাস জায়েজ হবে কি? ফরজ গোসল করা যাবে কি?
বিস্তারিত উত্তর
১. নিফাসের সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ সময়
হানাফি মাযহাব অনুযায়ী:
- নিফাসের সর্বনিম্ন সময়: কোনো নির্দিষ্ট সীমা নেই; রক্ত বন্ধ হলেই নিফাস শেষ হতে পারে (তবে সাধারণত ৪০ দিন পর্যন্ত)।
- নিফাসের সর্বোচ্চ সময়: ৪০ দিন। ৪০ দিনের পর যে রক্ত আসবে তা নিফাস নয়, বরং ইস্তিহাযা (অসুস্থতার রক্ত) হিসেবে গণ্য হবে।
দলিল: রাসূলুল্লাহ ﷺ উম্মে সালামা (রাযি.)-কে নিফাসের ব্যাপারে বলেছেন—
«لَا تَحِلُّ لِلنُّفَسَاءِ أَكْثَرُ مِنْ أَرْبَعِينَ يَوْمًا»
অর্থ: "নিফাসাওয়ালী নারীর জন্য ৪০ দিনের বেশি (নিফাস হিসেবে গণ্য) হবে না।"
(মুসনাদে আহমাদ, সুনানে আবু দাউদ, সুনানে তিরমিযী—ইমাম তিরমিযী হাসান বলেছেন; দেখুন: ইমদাদুল ফাতাওয়া, খণ্ড ১, পৃ. ২৮০; রাদ্দুল মুহতার, খণ্ড ১, পৃ. ৩০২)
২. রক্ত বন্ধ হওয়ার পর হুকুম
হানাফি ফিকহের মূলনীতি হলো:
- যদি ৪০ দিনের ভেতরে রক্ত সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায় এবং এরপর আর কোনো রক্ত/লালচে স্রাব না আসে—তাহলে নিফাস শেষ হয়ে গেছে।
- তবে শুধু হালকা ময়লা বা সাদা স্রাব—যা রক্তের রং বহন করে না—তা নিফাস হিসেবে গণ্য নয়। এমতাবস্থায় নিফাস শেষ ধরে নিতে হবে।
ইমাম ইবনে আবিদীন (রহ.) বলেন:
"وَالْحُكْمُ أَنَّ النِّفَاسَ يَنْتَهِي بِانْقِطَاعِ الدَّمِ قَبْلَ الْأَرْبَعِينَ، وَمَا خَرَجَ بَعْدَهُ مِنْ صُفْرَةٍ أَوْ كُدْرَةٍ فَلَيْسَ بِنِفَاسٍ"
অর্থ: "নিফাস ৪০ দিনের আগে রক্ত বন্ধ হলে শেষ হয়ে যায়; এরপর যে পীতবর্ণ বা ময়লা স্রাব আসে তা নিফাস নয়।"
(রাদ্দুল মুহতার, খণ্ড ১, পৃ. ৩০৪; ফাতাওয়া আলমগিরি, খণ্ড ১, পৃ. ৩৭)
৩. আপনার বর্তমান অবস্থার বিধান
আপনার বর্ণনা অনুযায়ী:
- ✅ রক্ত বন্ধ হয়েছে কয়েকদিন আগে
- ✅ এখন শুধু অতি সামান্য হালকা ময়লা যায় (যা রক্ত নয়)
- ✅ ৪০ দিনের ভেতরে আছেন (২৯ দিন) -✅ পাশাপাশি সাদা স্রাবও আসেনি।
সুতরাং এমতাবস্থায় সহবাস জায়েজ নেই। এটিও নেফাসের অন্তর্ভুক্ত। তাই এখন ফরজ গোসল আবশ্যক হয়নি।