প্রস্রাব করার পর সমস্ত প্রস্রাব বের হয়ে যায়,করনীয় কি?

Taharah Purity · Hanafi

Question No: 6921
Questioner: Muhammad Riad
Question Asked: 15 Oct 2026, 08:25 AM
Reviewed & Published: 15 Oct 2026, 09:40 AM
Views: 4
Tokens: 0
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

প্রশ্নটা আগেও করেছি, তবে এখন বিস্তারিত বললাম।
আমি প্রস্রাব করার পর সমস্ত প্রস্রাব বের হয়ে যায়, কিন্ত ১৫-২০ মিনিট পরও সামান্য পরিমাণ দেখা যায় (এতই কম যে শুধু চিকচিক করে এবং একটা ফোটার ২৫-৩০ ভাগের ১ ভাগ এবং গড়িয়ে পড়ে না) অর্থাৎ মূত্রনালির বাইরের মুখে থাকে বা এর আশেপাশে থাকে, তবে উপলব্ধি হয় না যে বের হয়েছে এবং কাপড়ও এমনিতে ভিজে না, কাপড় দিয়ে চাপ দিয়ে ধরলে ২ টা ডালের দানার সমান ভিজে। আবার অনেকসময় ২০ মিনিট পরও শিশ্নাঙ্গে ধরে চাপ দিলে এটা আসে এমনিতে আসে না। এই এ অবস্থায় কী আমার অযু থাকব এবং কাপড় কী নাপাক হয়ে যাবে? নামাজে থাকলে নামাজ হবে না? আর এটা কী ওয়াসওয়াসা হতে পারে?

Answer

প্রশ্নঃ- আমি প্রস্রাব করার পর সমস্ত প্রস্রাব বের হয়ে যায়, কিন্ত ১৫-২০ মিনিট পরও সামান্য পরিমাণ দেখা যায় (এতই কম যে শুধু চিকচিক করে এবং একটা ফোটার ২৫-৩০ ভাগের ১ ভাগ এবং গড়িয়ে পড়ে না) অর্থাৎ মূত্রনালির বাইরের মুখে থাকে বা এর আশেপাশে থাকে, তবে উপলব্ধি হয় না যে বের হয়েছে এবং কাপড়ও এমনিতে ভিজে না, কাপড় দিয়ে চাপ দিয়ে ধরলে ২ টা ডালের দানার সমান ভিজে। আবার অনেকসময় ২০ মিনিট পরও শিশ্নাঙ্গে ধরে চাপ দিলে এটা আসে এমনিতে আসে না। এই এ অবস্থায় কী আমার অযু থাকব এবং কাপড় কী নাপাক হয়ে যাবে? নামাজে থাকলে নামাজ হবে না? আর এটা কী ওয়াসওয়াসা হতে পারে?

জবাবঃ- بسم الله الرحمن الرحيم

প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে এটি যদি লিঙ্গ থেকে বাইরে আসে,সেক্ষেত্রে আপনার অযু ভেঙ্গে যাবে,নামাজে থাকা অবস্থায় এটি লিঙ্গের বাইরে আসলে নামাজও ভেঙে যাবে। শরীরে ও কাপড়ে লাগলে সেই স্থান পাক করতে হবে।

উল্লেখ্য, পেশাব যদি লিঙ্গের ছিদ্র হতে বাহিরে চলে না আসে বা আপনি যদি নিশ্চিতভাবে পেশাব বের হওয়া উপলব্ধি করতে না পারেন এবং আপনার শরীরে ও কাপড়ে পেশাবের কোন গন্ধ বা চিহ্ন না পান, তাহলে এটিকে ওয়াসওয়াসা ভাববেন, এমতাবস্থায় আপনার ওযু ভেঙ্গে যাবে না আপনার কাপড় ও শরীরও পাক করতে হবে না।

হাদীস শরীফে এসেছেঃ

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الْعَلَاءِ ، ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ شَوْكَرِ بْنِ رَافِعٍ الطُّوسِيُّ ، نَا أَبُو إِسْحَاقَ الضَّرِيرُ إِبْرَاهِيمُ بْنُ زَكَرِيَّا ، نَا ثَابِتُ بْنُ حَمَّادٍ ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ زَيْدٍ ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ ، عَنْ عَمَّارِ بْنِ يَاسِرٍ ، قَالَ : أَتَى عَلَيَّ رَسُولُ اللَّهِ - صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ - وَأَنَا عَلَى بِئْرٍ أَدْلُو مَاءً فِي رِكْوَةٍ لِي ، فَقَالَ : يَا عَمَّارُ ، مَا تَصْنَعُ ؟ قُلْتُ : يَا رَسُولَ اللَّهِ ، بِأَبِي وَأُمِّي ، أَغْسِلُ ثَوْبِي مِنْ نُخَامَةٍ أَصَابَتْهُ . فَقَالَ " يَا عَمَّارُ ، إِنَّمَا يُغْسَلُ الثَّوْبُ مِنْ خَمْسٍ : مِنَ الْغَائِطِ ، وَالْبَوْلِ ، وَالْقَيْءِ ، وَالدَّمِ ، وَالْمَنِيِّ ، يَا عَمَّارُ ، مَا نُخَامَتُكَ وَدُمُوعُ عَيْنَيْكَ وَالْمَاءُ الَّذِي فِي رِكْوَتِكَ إِلَّا سَوَاءٌ "

আহমাদ ইবনে আলী ইবনুল 'আলা (রহঃ) ... আম্মার ইবনে ইয়াসির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার নিকট এলেন, তখন আমি একটি কূপ থেকে বালতি দিয়ে পানি তুলে আমার একটি পানির পাত্রে ভর্তি করছিলাম। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, হে আম্মার! তুমি কি করছো? আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য কোরবান হোক। আমি আমার পরিধেয় বস্ত্রে লেগে যাওয়া শ্লেষ্মা পরিষ্কার করছি। তিনি বলেনঃ হে আম্মার! পাঁচটি জিনিস থেকে কাপড় ধৌত করা প্রয়োজনঃ বিষ্ঠা, পেশাব, বমি, রক্ত ও বীর্য। হে আম্মার! তোমার নাকের শ্লেষ্মা, তোমার উভয় চোখের অশ্রু এবং তোমার এই পানির পাত্রের পানি একই সমান (পাক-নাপাকীর হুকুমের ক্ষেত্রে)। (সুনানে দারা কুতনি ৪৫০)

كل ما يخرج من بدن الإنسان مما يوجب خروجه الوضوء أو الغسل فهو مغلظ كالغائط والبول والمني والمذي والودي والقيح والصديد والقيء إذا ملأ الفم. كذا في البحر الرائق.

وكذا دم الحيض والنفاس والاستحاضة هكذا في السراج الوهاج وكذلك بول الصغير والصغيرة أكلا أو لا. كذا في الاختيار شرح المختار

وكذلك الخمر والدم المسفوح ولحم الميتة وبول ما لا يؤكل والروث وأخثاء البقر والعذرة ونجو الكلب وخرء الدجاج والبط والإوز نجس نجاسة غليظة هكذا في فتاوى قاضي خان

وكذا خرء السباع والسنور والفأرة. هكذا في السراج الوهاج بول الهرة والفأرة إذا أصاب الثوب قال بعضهم: يفسد إذا زاد على قدر الدرهم وهو الظاهر. هكذا في فتاوى قاضي خان والخلاصة خرء الحية وبولها نجس نجاسة غليظة وكذا خرء العلق. كذا في التتارخانية ودم الحلمة والوزغة نجس إذا كان سائلا. كذا في الظهيرية فإذا أصاب الثوب أكثر من قدر الدرهم يمنع جواز الصلاة. كذا في المحيط.

ভাবার্থঃ-

ঐ সমস্ত জিনিষ যা মানুষের শরীর থেকে বের হয়ে ওজু গোসলকে ওয়াজিব করে দেয়।তা হল নাজাসতে গালিজাহ,যেমনঃ- পায়খানা,পেশাব,বীর্য, মযি(বীর্যের পূর্বে যা বাহির হয়),ওদি(প্রস্রাবের সময় যা বাহির হয়)ফুঁজ,বমি যখন তা মুখভড়ে হয়, (বাহরুর রায়েক)

এবং আরো ও নাজাসতে গালিজাহ হল যথাক্রমে- হায়েয ও নেফাসের রক্ত,ছোট্ট বালক/বালিকার প্রস্রাব তারা আহার করুক বা না করুক। মদ,প্রবাহিত রক্ত,মৃত জানোয়ারের গোসত,ঐ সমস্ত প্রাণীর প্রস্রাব ও গোবর যাদের গোস্ত ভক্ষণ হারাম।গরুর গোবর,কুকুরের বিষ্টা, মোরগ এবং হাস ও পানী হাসের বিষ্ঠা।

হিংস প্রাণীর বিষ্টা,বিড়ালের বিষ্টা,ইদুরের বিষ্টা।বিড়াল এবং ইদুরের প্রস্রাব যদি কাপড়ে লাগে তবে কিছুসংখ্যক উলামায়ে কেরামগণ মনে করেন যে,যদি তা এক দিরহামের বেশী হয় তবে পবিত্র।আর কিছুসংখ্যক না করেন।

সাপের বিষ্টা,ও প্রস্রাব।জোকের বিষ্টা।আঠালো ও টিকটিকির রক্ত যদি তা প্রবাহিত হয়।(ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া;১/৪৬)


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.