উটের মাংস খেলে নাকি ওযু করতে হয়?

Taharah Purity · Hanafi

Question No: 6900
Questioner: Sania
Question Asked: 14 Oct 2026, 05:22 PM
Reviewed & Published: 14 Oct 2026, 06:17 PM
Views: 34
Tokens: 3,749
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম।
★উটের মাংস খেলে নাকি ওযু করতে হয় ।কিন্তু কেন??হাঁস বাছতে গরম পানিতে দেওয়ার আগে হাঁসের কলিজা ,গিলা এগুলো আগে বের করে তারপর গরম পানিতে চুবা দেয়।কেননা আগে কলিজা,গিলা বের না করলে নাকি পানিতে সিদ্ধ হয়ে যায়-এটা কতটুকু যুক্তিপূর্ণ ?

Answer

উত্তর

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

প্রথম অংশ: উটের মাংস খেলে ওযু করতে হয় কি?

জবাবঃ- হানাফি মাযহাবে এক্ষেত্রে অযু ভেঙ্গে যায়না। সুতরাং এমতাবস্থায় অযু আবশ্যক হবেনা।

জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: كَانَ آخِرَ الْأَمْرَيْنِ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ تَرْكَ الْوُضُوءِ مِمَّا مَسَّتِ النَّارُ অর্থ: রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর শেষ নির্দেশের একটি ছিল আগুনে রান্না করা খাবার খাওয়ার পর অজু করা পরিত্যাগ করা।

দ্বিতীয় অংশ: মুরগী/হাঁস জবাইয়ের আগে কলিজা-গিলা বের করার বিষয়টি।

জবাবঃ- মুরগীর পেটে থাকা নাড়িভুরি তথা ময়লা বের করার পর যদি মেশিন এ ড্রেসিং করে তাহলে তো উক্ত মুরগী খাওয়াতে কোন সমস্যা নেই। কিন্তু ময়লা বের না করে যদি উত্তপ্ত গরম পানিতে চুবানো হয়, আর তাতে নাড়িভুরির ময়লা গোস্তের সাথে মিলে যায়, তাহলে উক্ত মুরগী নাপাক সাব্যস্ত হবে, এবং তার গোস্ত খাওয়া জায়েজ হবে না।

আমাদের দেশের দোকানগুলোতে সাধারণত যে পদ্ধতিতে মুরগী মেশিন এ ড্রেসিং করা হয় তাতে ঐ মুরগীর গোশত খাওয়া নাজায়েয বা মাকরূহ হয়ে যায় না।

কারণ, এক্ষেত্রে মুরগী যেই পানিতে চুবিয়ে রাখা হয়,সেটা সেও পরিমানের উত্তপ্ত গরমও নয়,এবং গরম পানিতে যতটুকু সময় চুবিয়ে রাখা হয় এতে মুরগীর ভেতরের নাপাকীর প্রভাব গোশতে পৌঁছে না। বরং এর দ্বারা শুধু লোমকূপগুলো ঢিলা ও নরম হয়ে যায়। অবশ্য যদি এত বেশি সময় তপ্ত গরম পানিতে মুরগী চুবিয়ে রাখা হয়, যার ফলে নাপাকীর প্রভাব ও গন্ধ গোশতের ভেতর চলে যায় তাহলে সেক্ষেত্রে ঐ মুরগীর গোশত খাওয়া নাজায়েয হয়ে যাবে। আর যেসব মুরগী সাধারণ নিয়মে ড্রেসিং করা হয় (অর্থাৎ অধিক সময় ফুটন্ত পানিতে চুবিয়ে রাখা হয় না) সেগুলোও রান্না করার পূর্বে ভালোভাবে ধুয়ে পাক করে নেওয়া জরুরি।

★সতর্কতামূলক প্রচলিত পদ্ধতিতে মেশিন এ ড্রেসিং না করাই উত্তম। হ্যাঁ, একান্ত যদি করতেই হয়, তাহলে পূর্বের ব্যবহৃত পানি ফেলে দিয়ে নতুন পানি গরম করে এত অল্প সময় চুবিয়ে রাখবে, যাতে ভিতরের নাপাকি গরম পানির প্রভাবে গোস্তের মাঝে ছড়িয়ে না পড়ে। জবেহ করার পর গলার কর্তিত অংশে লেগে থাকা রক্ত ও পেটের নাড়িভুঁড়ি দূর করে নতুন পানিতে ড্রেসিং করতে হবে, এটাই ড্রেসিংয়ের সর্বোত্তম পদ্ধতি। (ফাতাওয়া দারুল উলূম হাটহাজারী ফতওয়া নং ০৫)

আর যদি পানি তেমন উত্তপ্ত না হয়,যেটি আমাদের দেশের প্রায় দোকানেরই অবস্থা, যে সেখানে সামান্য গরম পানি ব্যবহার করা হয়,তেমন উত্তপ্ত হয়না,সেই পানিতে দোকানের কর্মকর্তা নিজ হাতও দিতে পারে,তাই অবস্থা এমন হলে প্রচলিত পদ্ধতিও তেমন কোনো সমস্যাকর নয়।

والله أعلم بالصواب


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.