ইস্তিহাযা সমস্যার চিকিৎসা আছে কি?
Taharah Purity · Hanafi
Question
Answer
ইস্তিহাযা (অনিয়মিত রক্তস্রাব) সমস্যার চিকিৎসা
ভূমিকা
ইস্তিহাযা হলো মহিলাদের এমন রক্তস্রাব, যা হায়েয ও নিফাসের নির্ধারিত সময়ের বাইরে অনিয়মিতভাবে চলতে থাকে। ইসলামী শরীয়তে এর বিধান ও সমাধান বিস্তারিতভাবে বর্ণিত হয়েছে। প্রশ্নটি দু'দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ—(১) শরয়ী বিধান কী, এবং (২) চিকিৎসা বা চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া যাবে কি না।
১. ইস্তিহাযার শরয়ী পরিচয় ও হুকুম
হায়েযের সর্বনিম্ন সময় তিন দিন তিন রাত, সর্বোচ্চ দশ দিন দশ রাত। নিফাসের সর্বোচ্চ সময় চল্লিশ দিন। এই সীমার বাইরে যে রক্ত আসে, তা ইস্তিহাযা হিসেবে গণ্য হয়।
রাসূলুল্লাহ ﷺ ফাতিমা বিনতে আবু হুবাইশ (রাযি.)-কে বলেছিলেন: "হায়েযের রক্ত কালো রঙের, তা চেনা যায়; যখন তা আসে তখন নামায ছেড়ে দাও। আর যখন অন্য রক্ত আসে, তখন অযু করে নামায পড়ো।" — সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ২৮৬; সুনানে নাসাঈ, হাদীস ২১৫ (ইমাম আবু হানিফার উসূল অনুযায়ী আমলযোগ্য)
ইস্তিহাযার রক্ত নাপাক নয় (হায়েযের হুকুমে নয়)। ইস্তিহাযাগ্রস্ত মহিলা:
- প্রত্যেক নামাযের ওয়াক্তে অযু করবে,
- নামায পড়বে, রোযা রাখবে,
- কুরআন তিলাওয়াত ও সিজদা করতে পারবে,
- স্বামীর জন্য হালাল থাকবে।
রাদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদীন), খণ্ড ১, পৃ. ২৯৮ — "ইস্তিহাযার রক্ত হায়েযের রক্ত নয়; বরং তা একটি রোগ বা অসুস্থতা।"
২. চিকিৎসার বিধান
(ক) চিকিৎসা করা জায়েয
ইস্তিহাযা মূলত একটি শারীরিক অসুস্থতা। শরীয়ত অসুস্থতার চিকিৎসার অনুমতি দিয়েছে।
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: "আল্লাহ যে রোগ দিয়েছেন, তার চিকিৎসাও দিয়েছেন; কেবল মৃত্যু ও বার্ধক্যের কোনো চিকিৎসা নেই।" — সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ৩৮৫৫; তিরমিযী, হাদীস ২০৩৮
ফাতাওয়া আলমগীরী, খণ্ড ৫, পৃ. ৩৫৪ — "অসুস্থতার চিকিৎসা করা এবং ঔষধ সেবন করা জায়েয, শর্ত হলো ঔষধ হারাম বস্তু দ্বারা তৈরি না হওয়া।"
(খ) চিকিৎসার পদ্ধতি
১. বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া — স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ (Gynecologist) এর শরণাপন্ন হওয়া উত্তম। কারণ ইস্তিহাযার পিছনে অনেক সময় হরমোনের ভারসাম্যহীনতা, জরায়ুর সমস্যা, ফাইব্রয়েড, পলিপ ইত্যাদি কারণ থাকে।
২. ঔষধি চিকিৎসা — চিকিৎসক যেসব ঔষধ দেবেন, তা হারাম উপাদানমুক্ত হলে সেবন করা জায়েয।
৩. দুআ ও রুকইয়াহ — চিকিৎসার সাথে সাথে দুআ করা সুন্নত। রাসূলুল্লাহ ﷺ অসুস্থতার জন্য দুআ শিখিয়েছেন।
(গ) সতর্কতা
- চিকিৎসার নামে হারাম ঔষধ (যেমন মদ, শূকরের উপাদান) ব্যবহার করা যাবে না, যদি না জীবননাশের আশঙ্কা থাকে এবং হালাল বিকল্প না থাকে।
- জাদু-টোনা বা কুফরী আমল দ্বারা চিকিৎসা করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
- চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার সময় পর্দার বিধান রক্ষা করা আবশ্যক; সম্ভব হলে মহিলা চিকিৎসকের কাছে যাওয়া উত্তম।
দীর্ঘস্থায়ী ইস্তিহাযা হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন; এটি শুধু ইবাদতের বিষয় নয়, স্বাস্থ্যেরও বিষয়।
দুআ করুন* — নিম্নোক্ত দুআ পড়তে পারেন:
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْعَافِيَةَ "হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে সুস্থতা প্রার্থনা করি।"
উপসংহার
হ্যাঁ, ইস্তিহাযার চিকিৎসা আছে। এটি একটি শারীরিক রোগ, এবং শরীয়ত চিকিৎসার অনুমতি দিয়েছে। তবে চিকিৎসা হতে হবে হালাল ও শরয়ী সীমার ভেতরে। পাশাপাশি ইবাদতের বিধান যথাযথভাবে পালন করতে হবে।