বমি লাগা কাপড় ধোয়ার পর পানি পাক কি না?

Miscellaneous Fiqh · Hanafi

Question No: 6753
Questioner: MAISHA JANNATI
Question Asked: 11 Oct 2026, 05:57 PM
Reviewed & Published: 11 Oct 2026, 06:24 PM
Views: 8
Tokens: 4,421
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

//আসসালামু আলাইকুম,
(১) গাড়িতে বমি হয়ে সব বোরকা হিজাবে সবকিছুই মেখেছিল। এখন বাসায় এসে পাক করে পরিষ্কার করে ধুয়ে চিপড়ে রাখার পরেও তো বোরকা হিজাবের কাপড় থেকে পানি টপটপ পরে সেই পানি তো নাপাক নয়, তাইনা?

(২)ঔ কাপড় নাড়ার পরে দেখলাম খিমারে একটু বমির আঠা (খাবারের অংশ) লেগে আছে। ভালো করেই তো ধুয়েছিলাম তবুও নাড়ার পরে দেখলাম লেগেছিল। তো পরে খিমার তো ধুয়ে ফেললাম কিন্তু তাহলে সব কাপড় মিলিয়ে যে নাড়া হল তাতে কি ফ্লোরে পড়া পানি + সব কাপড় নাপাকই থাকল?

(৩) আমার একটা কানের ছিদ্রে সব সময় ব্যাথা থাকে কিছু ঢুকাতে গেলে, ফরজ গোসলের সময়ে অন্য কানে কাঠি ঢুকিয়ে পানি পৌঁছাই কিন্তু ব্যাথাযুক্ত কানে কাঠি ঢুকাতে গেলেও অনেক কষ্ট হয় তাহলে কি এই কানের ছিদ্রে পানি পৌঁছানো জরুরী? //

Answer

উত্তর:

১) প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে বোরকা-হিজাব ৩ বার ধুয়ে প্রত্যেকবার নিংড়ানো হলে এরপর যে পানি টপটপ পড়ে, তা পাক (তাহির)। কারণ ৩ বার ধুয়ে প্রত্যেকবার নিংড়াবোর পর কাপড় পাক হয়ে যায়; চিপড়ানোর পর অবশিষ্ট পানি পাক কাপড়ের পানি, তাই পাক।

২) খিমার ধুয়ে ফেলার পর সব কাপড় একসাথে নাড়ার কারণে ফ্লোরে পড়া পানি বা কাপড় নাপাক হয়নি — শর্ত হলো: ধোয়ার সময় নাপাকি সম্পূর্ণ দূর হয়ে কাপড় পাক হয়ে যাওয়া। খিমারে বমির আঠা লেগে থাকলে শুধু সেই অংশ পুনরায় ধুয়ে ফেললেই যথেষ্ট; অন্য কাপড় নাপাক হয় না। তবে সন্দেহ থাকলে পুরো কাপড় একবার ধুয়ে নেওয়া ইহতিয়াত।

৩) কানের ছিদ্রে ব্যথা থাকলে এবং কাঠি ঢোকাতে কষ্ট হলে ফরজ গোসলে কানের ছিদ্রে পানি পৌঁছানো জরুরি নয় — যদি ছিদ্রটি স্বাভাবিকভাবে বন্ধ বা সংকীর্ণ থাকে এবং পানি পৌঁছানো কষ্টদায়ক হয়।

তবে ছিদ্র খোলা থাকলে ভেতরে পানি পৌঁছানো ফরজ; কষ্ট হলে হালকাভাবে পানি দেওয়া বা ভেজা আঙুল/কাঠি দ্বারা মাসেহ করা যথেষ্ট।

--

«إِذَا زَالَتِ النَّجَاسَةُ زَالَ حُكْمُهَا»
(নাপাকি দূর হলে তার হুকুমও দূর হয়ে যায়।)

রেফারেন্স:

  • রাদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদিন), খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৩১৬ — «الماء المستعمل في إزالة النجاسة طاهر عندنا»
  • ফাতাওয়া হিন্দিয়া, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ১৯
  • আল-হিদায়া, কিতাবুত তাহারাত

আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেনঃ-

«لَا يُكَلَّفُ الْمُكَلَّفُ بِمَا فِيهِ حَرَجٌ»
(যাতে কষ্ট আছে, তা দিয়ে মুকাল্লাফকে তাকলিফ দেওয়া হয় না।)


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.