নামাজের মাঝখানে ওযু ভেঙে গেলে নামাজ চালিয়ে যাওয়া কি জায়েয?

Salah-Prayer · Hanafi

Question No: 6724
Questioner: farida akther
Question Asked: 11 Oct 2026, 06:36 AM
Reviewed & Published: 11 Oct 2026, 07:19 AM
Views: 12
Tokens: 4,402
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

একজন নামাজের মাঝখানে ওযু ভেঙে গেলে নামাজ চালিয়ে যায়, কিন্তু সে জানে এতে রিয়া হতে পারে, তাই সে নামাজ জামাতে পড়ুক কিংবা বাসায় একা একা (কেননা একা পড়লে তো রিয়া হওয়ার সম্ভাবনা কম) সবসময় ওযু ভেঙে গেলে নামাজ চালিয়ে যায়, যেন তার নামাজে মানুষের দেখা বা না দেখা কিছুই নির্ভর না করে, সবসময় একইভাবে করে, অতএব এমতাবস্থায় কি রিয়া হবে?

Answer

রিয়া (লোকদেখানো) সম্পর্কিত প্রশ্নের উত্তর

প্রশ্নের সারসংক্ষেপ

প্রশ্নকারী জানতে চেয়েছেন—এক ব্যক্তির নামাজের মাঝখানে ওযু ভেঙে গেলে সে নামাজ চালিয়ে যায় (অর্থাৎ ওযু ভাঙার পরও নামাজ শেষ করে)। কিন্তু সে জানে এতে রিয়া হতে পারে। তাই সে জামাতে বা একা—সব অবস্থাতেই একই নীতি অনুসরণ করে, যাতে মানুষের দেখা-না দেখার উপর কিছু নির্ভর না করে। এমতাবস্থায় তার এই কাজ কি রিয়া হবে?

প্রথমে একটি গুরুত্বপূর্ণ ফিকহি বিষয় স্পষ্ট করা প্রয়োজন

নামাজের মাঝখানে ওযু ভেঙে গেলে নামাজ চালিয়ে যাওয়া ফিকহি দৃষ্টিতে জায়েয নয়। ওযু ভেঙে গেলে নামাজ ভেঙে যায় এবং পুনরায় ওযু করে নামাজ আদায় করতে হয়।

ফিকহি বিধান: নামাজের মধ্যে ওযু ভেঙে গেলে (যেমন—বায়ু নির্গত হওয়া, রক্ত প্রবাহিত হওয়া ইত্যাদি) নামাজ বাতিল হয়ে যায়। এমতাবস্থায় অবশ্যই নামাজ ভেঙে দিতে হবে, পুনরায় ওযু করে নামাজ আদায় করতে হবে।

রেফারেন্স:

  • রাদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদীন শামি) — "وَلَوْ أَحْدَثَ فِي الصَّلَاةِ بَطَلَتْ" (নামাজের মধ্যে ওযু ভঙ্গ হলে নামাজ বাতিল হয়ে যায়)।
  • আল-হিদায়া — ইমামুল হুমাম আল-মারগিনানী।
  • ফাতাওয়া আলমগিরি — "الحدث في الصلاة يبطلها"।
  • বাদায়েউস সানায়ে — ইমাম কাসানী।

সুতরাং প্রশ্নে বর্ণিত ব্যক্তির "নামাজ চালিয়ে যাওয়া" মূলত একটি ভুল ফিকহি আমল। এ বিষয়ে প্রথমেই তাকে সচেতন করা আবশ্যক।

রিয়ার সংজ্ঞা ও প্রকৃতি

রিয়া অর্থ—লোক দেখানোর উদ্দেশ্যে ইবাদত করা। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

হাদিস: "إِنَّ أَخْوَفَ مَا أَخَافُ عَلَيْكُمْ الشِّرْكُ الْأَصْغَرُ، قَالُوا: وَمَا الشِّرْكُ الْأَصْغَرُ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ: الرِّيَاءُ" — মুসনাদে আহমাদ, সহীহ তারগীব

হাদিস: "مَنْ صَلَّى يُرَائِي فَقَدْ أَشْرَكَ" — মুসনাদে আহমাদ

রিয়ার মূল কথা: ইবাদতের মধ্যে আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো সন্তুষ্টি বা প্রশংসা লাভের উদ্দেশ্য থাকা।

প্রশ্নের মূল বিশ্লেষণ

প্রশ্নকারীর বর্ণনা অনুযায়ী, ব্যক্তিটি ইচ্ছাকৃতভাবে এমন একটি কাজ করছে যা ফিকহি দৃষ্টিতে ভুল, এবং তার উদ্দেশ্য হলো—"মানুষের দেখা বা না দেখার উপর কিছু নির্ভর না করা।" অর্থাৎ সে চায় তার আমল সর্বাবস্থায় একই রকম হোক, যাতে কেউ বলতে না পারে যে সে লোক দেখানোর জন্য এমন করছে।

এটি রিয়া।

ইমাম গাজালী (রহ.) "ইহইয়াউ উলূমিদ্দীন"-এ বলেন:

"রিয়ার علاج হলো—ইবাদতকে সম্পূর্ণভাবে আল্লাহর জন্য খালিস করা এবং মানুষের প্রশংসা-নিন্দাকে ভয় না করা।"

পরামর্শ: প্রশ্নকারীকে বলুন—ওযু ভেঙে গেলে নামাজ ভেঙে দিয়ে পুনরায় ওযু করে নামাজ আদায় করুন। রিয়া থেকে বাঁচার জন্য নিয়ত পরিশুদ্ধ করুন, মানুষের প্রশংসা-নিন্দার পরওয়া করবেন না।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.