সহবাস চলাকালীন হায়েজ শুরু হলে করণীয় কী?

Taharah Purity · Hanafi

Question No: 6720
Questioner: zahidul hasan Sharif
Question Asked: 10 Oct 2026, 11:06 PM
Reviewed & Published: 10 Oct 2026, 11:17 PM
Views: 13
Tokens: 3,037
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম, স্ত্রী মেলামেশা শেষ হওয়ার পর যদি বুঝা যায় যে স্ত্রীর হায়েজ শুরু হয়েছে যদিও শুরুর দিকে কোন আলামতই ছিল না।এমতাবস্থায় করণীয় কি?

Answer

সহবাস চলাকালীন হায়েজ শুরু হলে করণীয়

উত্তর (ফতোয়া):

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

প্রশ্নের সারমর্ম

স্ত্রীর সাথে সহবাস (মেলামেশা) চলাকালীন বা সহবাস শেষ হওয়ার পরপরই যদি জানা যায় যে তার হায়েজ শুরু হয়ে গেছে — অথচ সহবাসের শুরুতে হায়েজের কোনো লক্ষণই ছিল না — তাহলে এমতাবস্থায় শরীয়তের বিধান কী?

ফিকহি বিশ্লেষণ

১. মূলনীতি: সন্দেহের ভিত্তিতে নয়, নিশ্চিত জ্ঞানের ভিত্তিতে বিধান

হায়েজের বিধানাবলি সন্দেহ (শাক) বা ধারণার (গুমান) উপর প্রতিষ্ঠিত হয় না; বরং নিশ্চিত জ্ঞান (ইয়াকীন) বা প্রবল ধারণার (গালিব গুমান) উপর প্রতিষ্ঠিত হয়। সহবাসের শুরুতে হায়েজের কোনো আলামত না থাকলে এবং সহবাস চলাকালীনও যদি হায়েজ শুরু হয় — তবে সহবাসের সেই কাজটি হায়েজের সময়ে সংঘটিত হয়নি বলে গণ্য হবে, যতক্ষণ না নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হয় যে রক্ত সহবাসের সময়েই বের হয়েছে।

২. যদি সহবাস চলাকালীন রক্ত দেখা দেয়

যদি সহবাস চলাকালীনই রক্ত বের হওয়া নিশ্চিত হয়, তাহলে সাথে সাথে সহবাস বন্ধ করা ওয়াজিব। কেননা আল্লাহ তা'আলা বলেন:

وَلَا تَقْرَبُوهُنَّ حَتَّىٰ يَطْهُرْنَ "আর তোমরা তাদের (স্ত্রীদের) নিকটবর্তী হয়ো না, যতক্ষণ না তারা পবিত্র হয়।" — (সূরা আল-বাকারা: ২২২)

আর হাদীসে রাসূলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেন:

اصْنَعُوا كُلَّ شَيْءٍ إِلَّا النِّكَاحَ "তোমরা (হায়েজের সময় স্ত্রীর সাথে) সবকিছু করতে পারো, তবে সহবাস ছাড়া।" — (সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৩০২; সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং ২৫৮)

৩. যদি সহবাস শেষ হওয়ার পর জানা যায়

যদি সহবাস সম্পূর্ণ শেষ হওয়ার পর জানা যায় যে হায়েজ শুরু হয়েছে — এবং সহবাসের সময় রক্ত ছিল না — তাহলে সহবাসটি হায়েজের সময়ে সংঘটিত হয়নি; বরং পবিত্র অবস্থায় সংঘটিত হয়েছে। সুতরাং এতে কোনো গুনাহ নেই, কাফফারা নেই। তবে হায়েজ শুরু হওয়ার পর থেকে হায়েজের সমস্ত বিধান (নামাজ-রোজা বন্ধ, কুরআন স্পর্শ না করা ইত্যাদি) কার্যকর হবে।

৪. সতর্কতামূলক দিক

যদিও উক্ত অবস্থায় সহবাসটি হায়েজের সময়ে হয়নি বলে গণ্য হবে, তবুও সতর্কতামূলক (এহতিয়াত) দিক হলো — যদি প্রবল ধারণা হয় যে সহবাসের শেষ পর্যায়ে বা সহবাস চলাকালীনই রক্ত বের হয়েছে, তাহলে ইস্তেগফার করা এবং ভবিষ্যতে আরও সতর্ক থাকা কর্তব্য। কেননা হায়েজের সময় সহবাস হারাম ও কবীরা গুনাহ।

সারসংক্ষেপ ও করণীয়

| অবস্থা | বিধান | |---|---| | সহবাসের শুরুতে হায়েজের আলামত ছিল না, শেষে জানা গেল | সহবাস পবিত্র অবস্থায় হয়েছে — গুনাহ নেই, কাফফারা নেই | | সহবাস চলাকালীন রক্ত বের হওয়া নিশ্চিত | সাথে সাথে বন্ধ করা ওয়াজিব; ইস্তেগফার | | সহবাসের সময় রক্ত ছিল কি না — সন্দেহ | সন্দেহের কারণে কিছু আবশ্যক নয়; তবে ইস্তেগফার উত্তম | | হায়েজ শুরু হওয়ার পর | নামাজ-রোজা বন্ধ, হায়েজের সমস্ত বিধান কার্যকর |

উপরোক্ত অবস্থায় করণীয়:

  1. হায়েজ শুরু হওয়ার পর থেকে নামাজ-রোজা বন্ধ রাখা।
  2. হায়েজ শেষ হওয়ার পর গোসল করে পবিত্র হওয়া।
  3. কাজা নামাজ আদায় করা (রোজা কাজা নয়)।
  4. সন্দেহ থাকলে ইস্তেগফার করা এবং ভবিষ্যতে সতর্ক থাকা।
  5. হায়েজের সময় সহবাস সম্পূর্ণরূপে পরিহার করা।

দলিল ও কিতাবি রেফারেন্স

  • আল-কুরআন: সূরা আল-বাকারা, আয়াত ২২২
  • সহীহ মুসলিম: হাদীস নং ৩০২
  • সুনানে আবু দাউদ: হাদীস নং ২৫৮
  • রাদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদীন শামী): কিতাবুত তাহারাত, বাবুল হায়েজ — "الحائض إذا انقطع دمها..." অধ্যায়
  • আল-হিদায়া (মারগীনানী): কিতাবুত তাহারাত, হায়েজ অধ্যায়
  • ফাতাওয়া আলমগীরি: কিতাবুত তাহারাত, হায়েজের বিধান
  • ইমদাদুল ফাতাওয়া (আশরাফ আলী থানভী): হায়েজ সংক্রান্ত মাসায়েল
  • ফাতাওয়া উসমানি (মুফতি তাকি উসমানি): তাহারাত অধ্যায়
  • বেহেশতী জেওর (আশরাফ আলী থানভী): হায়েজ-নেফাসের মাসায়েল

والله أعلم بالصواب


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.