খরচকৃত টাকার বিপরীতে অতিরিক্ত অর্থ প্রদান প্রসঙ্গে

Halal and Haram · Hanafi

Question No: 6695
Questioner: Nazmul Hasan Shajib
Question Asked: 10 Oct 2026, 07:54 PM
Reviewed & Published: 10 Oct 2026, 08:30 PM
Views: 25
Tokens: 3,828
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারকাতুহু
আমার অফিসে প্রতিমাসে কিছু সাবস্ক্রিপশন রিনিউ+কিনতে হয়। কেউ চাইলে নিজের ডেভেলপমেন্ট এর জন্য কোর্স ও কিনতে পারে। অফিস থেকে নোটিশ দেয়া হয়েছে যে, কেউ যদি নিজ অর্থ দিয়ে নিজের কার্ড এর মাধ্যমে পেমেন্ট করে এবং পরে অফিসে বিল জমা দেয়, তাহলে অফিস থেকে ১৫% অতিরিক্ত অর্থ দেয়া হবে। অর্থাৎ ১০০ টাকা খরচ করলে ১১৫ টাকা দেয়া হবে। এই অর্থ হালাল হবে কী?

Answer

উত্তর (ফতোয়া)

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

সংক্ষিপ্ত উত্তর: প্রশ্নে বর্ণিত পদ্ধতিতে অফিস থেকে প্রাপ্ত ১৫% অতিরিক্ত অর্থ হালাল হবে না; বরং তা সুদ (রিবা) হিসেবে গণ্য হবে। কারণ এটি এমন একটি শর্তযুক্ত অতিরিক্ত অর্থ, যা ঋণ বা বিল পরিশোধের বিনিময়ে নেওয়া হচ্ছে—যা সুদের অন্তর্ভুক্ত।


বিস্তারিত ব্যাখ্যা:

১) ঘটনার প্রকৃত বিশ্লেষণ: আপনি অফিসের জন্য প্রয়োজনীয় সাবস্ক্রিপশন/কোর্স নিজের টাকা ও নিজের কার্ড দিয়ে কিনছেন। অর্থাৎ আপনি অফিসকে ঋণ দিচ্ছেন (বা অগ্রিম খরচ করছেন)। পরে অফিস আপনাকে মূল খরচ ফেরত দেওয়ার সাথে সাথে শর্ত অনুযায়ী ১৫% অতিরিক্ত দিচ্ছে। এটিই সুদের মূল সংজ্ঞা।

২) সুদের সংজ্ঞা: ফিকহে সুদে ফাদল (রিবা আল-ফাদল) ও সুদে নাসিয়া (রিবা আন-নাসিয়া) উভয়ই নিষিদ্ধ। এখানে সুদে নাসিয়া প্রযোজ্য—অর্থাৎ ঋণ দেওয়ার শর্তে অতিরিক্ত গ্রহণ করা।

আল্লাহ তা'আলা বলেন:

وَأَحَلَّ اللَّهُ الْبَيْعَ وَحَرَّمَ الرِّبَا "আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল করেছেন এবং সুদকে হারাম করেছেন।" (সূরা আল-বাকারা: ২৭৫)

আরও ইরশাদ হয়েছে:

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَأْكُلُوا الرِّبَا أَضْعَافًا مُضَاعَفَةً "হে ঈমানদারগণ! তোমরা চক্রবৃদ্ধি হারে সুদ খেয়ো না।" (সূরা আলে ইমরান: ১৩০)

৩) হাদিসের দলিল: রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

كُلُّ قَرْضٍ جَرَّ نَفْعًا فَهُوَ رِبًا "প্রত্যেক এমন ঋণ, যা (ঋণদাতার জন্য) উপকার টেনে আনে, তা সুদ।" — (সুনানে বাইহাকি, কিতাবুল বুয়ূ', হাদিস: ১১০৫৪; কানযুল উম্মাল: ১৫৫৬২; ইমাম ইবনে হাজার আসকালানি 'বুলুগুল মারাম'-এ উল্লেখ করেছেন)

ইমাম সারাখসি (রহ.) বলেন:

وَكُلُّ قَرْضٍ شُرِطَ فِيهِ زِيَادَةٌ فَهُوَ رِبًا "প্রত্যেক ঋণ, যাতে অতিরিক্ত শর্ত করা হয়, তা সুদ।" — (আল-মাবসূত, কিতাবুল মুদায়ানাত)

৪) হানাফি ফিকহের স্পষ্ট বক্তব্য:

  • রাদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদীন শামি): "ঋণদাতা যদি ঋণ দেওয়ার সময় অতিরিক্ত কিছু শর্ত করে, তবে তা সুদ।" (রাদ্দুল মুহতার, কিতাবুর রিবা: ৫/১৬৬)
  • ফতোয়ায়ে আলমগিরি: "ঋণের বিনিময়ে অতিরিক্ত গ্রহণ করা সুদ।" (ফতোয়ায়ে আলমগিরি, কিতাবুর রিবা: ২/১৬১)
  • ফতোয়ায়ে উসমানি (মুফতি তাকি উসমানি): "কোনো প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানি যদি কর্মচারীকে ঋণ দেওয়ার শর্তে অতিরিক্ত অর্থ দেয় বা কর্মচারী যদি কোম্পানিকে ঋণ দিয়ে অতিরিক্ত নেয়—উভয়ই সুদ।" (ফতোয়ায়ে উসমানি: ২/৩০১, কিতাবুর রিবা)
  • ইমদাদুল ফতোয়া (আশরাফ আলী থানভি): "ঋণের শর্তে অতিরিক্ত গ্রহণ করা সুদ, তা যত কমই হোক।" (ইমদাদুল ফতোয়া: ৩/৩৪৫)

৫) সংশ্লিষ্ট আরেকটি দিক: যদি অফিসের নিয়ম এমন হয় যে, কর্মচারী নিজের টাকা দিয়ে কিনবে এবং পরে বিল জমা দিলে শুধু প্রকৃত খরচ ফেরত পাবে—তবে তা জায়েজ। কিন্তু শর্তযুক্ত ১৫% অতিরিক্ত সুদ হওয়ার কারণে হারাম।


সমাধান ও করণীয়:

  • যা করবেন না: নিজের টাকা দিয়ে কিনে ১৫% অতিরিক্ত নেওয়া থেকে বিরত থাকুন।
  • বিকল্প পদ্ধতি: ১. অফিসের কর্পোরেট কার্ড/অ্যাকাউন্ট দিয়ে সরাসরি পেমেন্ট করুন—তাহলে অতিরিক্তের প্রশ্নই আসে না। ২. অফিসকে আগে থেকে টাকা দিতে বলুন (অ্যাডভান্স), তারপর আপনি কিনে বিল সমন্বয় করুন—এতে অতিরিক্ত গ্রহণ হবে না। ৩. যদি অফিস বাধ্য করে, তবে অতিরিক্ত ১৫% অংশ সদকা করে দিন এবং মূল খরচটুকু নিন।
  • তাওবা: পূর্বে নিয়ে থাকলে তাওবা করুন এবং অতিরিক্ত অংশ ফেরত দিন বা সদকা করুন।

والله أعلم بالصواب


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.