ঢাকায় ২ সপ্তাহ থাকলে কসর হবে কি? শ্বশুরবাড়ি ও রাঙামাটি সফরে কসরের হুকুম কী?
Salah-Prayer · Hanafi
Question
Answer
মুসাফিরের সালাত: কসর সংক্রান্ত বিধান
ভূমিকা
আপনার প্রশ্ন দুটি অংশে বিভক্ত। প্রথমত, আপনার নিজের সফর (ঢাকা ↔ শ্বশুরবাড়ি) এবং দ্বিতীয়ত, আপনার বাবার সাথে রাঙামাটি গমনের ক্ষেত্রে কসর হবে কি না। নিচে হানাফি ফিকহের আলোকে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।
প্রথম প্রশ্ন: ঢাকায় ২ সপ্তাহ থাকার ক্ষেত্রে কসর হবে কি?
মূলনীতি (হানাফি মাযহাব)
হানাফি মাযহাব অনুযায়ী, কসরের শর্ত হলো:
- সফরের দূরত্ব: কমপক্ষে ৪৮ মাইল (প্রায় ৭৭-৭৮ কিমি) বা তিন দিনের পথ।
- সফরের নিয়ত: এমন স্থানে যাওয়া যেখানে পৌঁছানোর পর ১৫ দিন বা তার বেশি থাকার নিয়ত নেই।
- মুকীম হওয়ার নিয়ত: যদি কোনো ব্যক্তি কোনো স্থানে ১৫ দিন বা তার বেশি থাকার নিয়ত করে, তবে সে মুকীম হয়ে যায় এবং কসর করবে না।
হাদিস: রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, "মুহাজির ব্যক্তি হজ্জের ইহরাম বাঁধার পর মক্কায় তিন দিন থাকতে পারে।" (সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম) — ইমাম আবু হানিফা (রহ.) এই হাদিস থেকে ১৫ দিনের নিয়তকে মুকীম হওয়ার মানদণ্ড হিসেবে গ্রহণ করেছেন।
আপনার ক্ষেত্রে বিশ্লেষণ
আপনি বলেছেন:
- আপনি শ্বশুরবাড়িতে বেশ কয়েক বছর একাধারে থাকার নিয়ত রেখেছেন।
- ভবিষ্যতে সন্তান বড় হলে ঢাকায় স্থায়ীভাবে থাকার নিয়ত আছে।
- বর্তমানে ঢাকায় ২ সপ্তাহের জন্য এসেছেন, তারপর আবার শ্বশুরবাড়ি চলে যাবেন।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আপনার স্বামী ঢাকাতে থাকেন, আপনি মাঝে মাঝে ঢাকাতে যান, পাশাপাশি ঢাকাতে আপনার স্থায়ীভাবে থাকারও নিয়ত রয়েছে, সুতরাং আপনি ঢাকাতে গিয়ে পূর্ণ নামাজ আদায় করবেন।
শ্বশুর বাড়িতে এসে ১৫ দিনের কম থাকার নিয়ত করলে সেখানে কছর নামাজ আদায় করবেন। ১৫ দিন বা তার চেয়ে বেশি থাকার নিয়ত করলে পূর্ণ নামাজ আদায় করবেন।
রাঙ্গামাটিতে গিয়ে সেখানে ১৫ দিনের কম থাকার নিয়ত করলে সেখানে কছর নামাজ আদায় করবেন। ১৫ দিন বা তার চেয়ে বেশি থাকার নিয়ত করলে পূর্ণ নামাজ আদায় করবেন।
ফাতাওয়া আলমগিরি (১/১৩৯): "যদি কোনো ব্যক্তি নিজের ওয়াতান আসলিতে পৌঁছে, তবে সে কসর করবে না, এমনকি সেখানে ১৫ দিনের কম থাকলেও।"
ইমদাদুল ফাতাওয়া (১/৩৮৫): "ওয়াতান আসলিতে পৌঁছানোর পর মুসাফির মুকীম হয়ে যায় এবং কসর করা বন্ধ করে দেয়।"
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে সঠিকভাবে দ্বীন পালনের তাওফিক দান করুন। আমিন।