৪ ভরি স্বর্ণ আছে এবং ৩০,০০০ টাকা আছে, এখন কি আমার উপর কুরবানি ওয়াজিব হবে?

Qurbani-Slaughtering · Hanafi

Question No: 637
Questioner: Tahmina liza
Question Asked: 23 May 2026, 10:44 PM
Reviewed & Published: 23 May 2026, 10:51 PM
Views: 106
Tokens: 3,886
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লহি ওয়া বারকাতুহ্।

১. উস্তায আমার বিয়েতে পাওয়া প্রায় ৪ ভরি স্বর্ণ আছে আমার কাছে। আর গত ২/৩ মাসের টিউশন বাবদ ৩০,০০০ টাকা আছে। এই টাকাটা আমার জমা টাকা না। আমি মূলত নিজের প্রয়োজনেই খরচ করে ফেলার কথা। ঈদ এসে পড়েছে তাই প্রয়োজনীয় কাজ করতে পারি নি। ঈদের পর ডক্টর দেখাবো তখন লাগবে ইনশাআল্লাহ। এখন প্রশ্ন হলো, ১০,১১,১২ জিলহজ্জ এই টাকা আমার হাতেই থাকবে ইনশাআল্লাহ, সেই মতাবস্থায় কি কুরবানি দিতে হবে? আর না দিলে কি গুনাহ হবে?

২. আমার স্বামীর নামে ১ কানির মতো জমি আছে। কোনো জমা টাকা নেই। আমার শ্বশুর জীবিত আছেন, উনিই কুরবানি করবেন। আমার স্বামী শ্বশুর কে ২৫ হাজার টাকা দিয়েছে কুরবানি বাবদ। তবে কুরবানি আমার স্বামীর নামে হবে না। এমতাবস্থায় আমার স্বামীর উপর কি কুরবানি ওয়াজিব?

Answer

উত্তর:
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

প্রথম প্রশ্ন:
আপনার কাছে বিয়েতে পাওয়া আনুমানিক ৪ ভরি স্বর্ণ (প্রায় ৪৬.৬ গ্রাম) ও টিউশন বাবদ ৩০,০০০ টাকা আছে। টাকাটি আপনি চিকিৎসার প্রয়োজনে খরচ করার পরিকল্পনা করছেন। জিলহজ্জের ১০-১২ তারিখ পর্যন্ত টাকাটি হাতে থাকলেও এটি আপনার মৌলিক প্রয়োজনের (ডাক্তার দেখানো) জন্য সংরক্ষিত, তাই এটি ‘নেসাব’ গণনায় উদ্বৃত্ত সম্পদ হিসেবে গণ্য হবে না।

হানাফি ফিকহের মূলনীতি:
কুরবানি ওয়াজিব হওয়ার জন্য তিনটি শর্ত পূরণ জরুরি:

  1. মুসলিম, মুকিম (অপ্রবাসী), সুস্থমস্তিষ্ক ও প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া।
  2. কুরবানির দিনগুলোতে (১০-১২ জিলহজ্জ) নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হওয়া।
  3. সম্পদটি মৌলিক প্রয়োজন (বাসস্থান, পোশাক, গৃহস্থালি, ঋণ, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ইত্যাদি) ও দিনার-দিরহাম (নগদ অর্থ) ব্যতীত উদ্বৃত্ত হওয়া।

২. কোন সম্পদ কি পরিমাণ জমা থাকলে যাকাত এবং কুরবানী ও সদকায়ে ফিতির ওয়াজিব হবে?

মাল দুই প্রকার যথা, মালে নামী(বাড়ন্ত মাল) এবং মালে গায়রে নামী(অবান্তর মাল)

মালে নামী: যাকাত ফরয হওয়ার জন্য নিসাবের পরিমাণ সম্পদ হলো:

  • সোনা: ৮৭.৪৮ গ্রাম (সাড়ে সাত ভরি)
  • রূপা: ৬১২.৩৬ গ্রাম (সাড়ে বায়ান্ন ভরি)
  • নগদ টাকা বা ব্যবাসায়িক পণ্য: উপরোক্ত দুইয়ের সর্বনিম্নটি তথা রূপার নেসাব সমপরিমাণ বর্তমান বাজারমূল্যের নগদ টাকা বা ব্যবসায়িক পণ্য।
  • সম্মিলিত নেসাব যদি কারো কাছে স্বর্ণ এবং রূপা বা নগদ টাকা থাকে, তবে কোনোটিরই নেসাব পরিপূর্ণ না থাকে, তাহলে সবকিছু মিলিত করে রূপার নেসাব পরিমাণ টাকা হয়ে গেলেই যাকাত ফরয হবে। উক্ত সবগুলো সম্পদকে মালে নামী হিসেবে বিবেচনা করা হবে এগুলো কারো কাছে থাকলে যাকাত ফরয হবে। এবং সাথে সাথে কুরবানিসদকায়ে ফিতির ও ওয়াজিব হবে।

মালে গায়রে নামী: প্রয়োজন অতিরিক্ত ঘরের আসবাবপত্র, এক বৎসরের খোরাকির অতিরিক্ত জমি, প্রয়োজন অতিরিক্ত গাড়ী, বাড়ী ইত্যাদি, যদি রূপার নেসাব তথা ৫২.৫ ভড়ি রূপার মূল্যর সমপরিমাণ বা অতিরিক্ত হয়, তাহলে কুরবানি এবং সদকায়ে ফিতির ওয়াজিব হবে।

সারকথা:
(১) আপনার উপর কুরবানি ওয়াজিব। (২) আপনার স্বামীর উপর কুরবানি ওয়াজিব হবে না।

আল্লাহই সর্বজ্ঞ।



This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.