অজু করার সময় জুতার তলানিতে এবং হাতে বা পায়ে যদি নাপাক পানি লাগে? তাহলে কি অজু ও নামায হবে?

Taharah Purity · Hanafi

Question No: 636
Questioner: Allah Ta'alar Banda
Question Asked: 23 May 2026, 10:40 PM
Reviewed & Published: 23 May 2026, 10:47 PM
Views: 112
Tokens: 3,440
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আমাদের বাড়ির দরজায় একজন ৮-৯ বছরের বাচ্চা দুষ্টামি করে প্রস্রাব করে যায়। (এটা আমরা পরে জানতে পারি) সেই যায়গার উপর দিয়ে যাওয়া আসা করি জুতা পায়ে, ধরে নিয়ে যে অন্য কোন পানি হবে হয়তো। অজু করার সময় সেই জুতা আমি এমনিতেই ধুই, এবং ধোয়ার সময় হয়তো তলানির পানি ও আমার হাতে বা পায়ে লাগে কিছু টা। এরপর নামাজ সারি। রাতে ভিডিও দেখে সিউর হই বাচ্চার প্রস্রাব এটা। এখন করনীয় কি?

Answer

উত্তরঃ
আপনার বর্ণনা অনুযায়ী, ঘটনাটি নিম্নরূপ:

  • একটি ৮-৯ বছর বয়সী শিশু আপনার বাড়ির দরজায় প্রস্রাব করে।
  • আপনি সেটিকে পানি মনে করে জুতা পায়ে ওই জায়গা দিয়ে যাতায়াত করেন।
  • অজু করার সময় সেই জুতা ধোয়ার কারণে তলানির পানি (যাতে প্রস্রাব মিশে ছিল) আপনার হাত বা পায়ে লাগে।
  • এরপর আপনি নামাজ আদায় করেন।
  • পরে ভিডিও দেখে নিশ্চিত হন যে ওই জায়গায় শিশুর প্রস্রাব ছিল।

এখন করণীয় কী?

১. নাপাকির বিধান

  • মানব শিশুর (ছেলে বা মেয়ে) প্রস্রাব নাপাক (অপবিত্র) (ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ১/৪১; রদ্দুল মুহতার, ১/৩৩০)।
  • জুতায় লেগে থাকা প্রস্রাবের কারণে জুতার তলা নাপাক হয়েছে।
  • জুতা ধোয়ার সময় যে পানি ব্যবহার করেন, সেটি নাপাক পানি হয়ে যায়। সেই পানি হাত বা পায়ে লাগলে হাত-পাও নাপাক হয়।

২. অজুর অবস্থা

  • অজু করার সময় যদি নাপাক পানি হাত বা পায়ে লাগে, তাহলে অজুর মাধ্যমে সেই অঙ্গ ধৌত করার পরও নাপাকি দূর হয় না, কারণ অজুর পানি নিজেই পবিত্র নয়। তবে যদি আপনি অজুর সময় হাত-পা ধোয়ার পর নাপাক পানি লেগে থাকে, তাহলে পুনরায় পবিত্র পানি দিয়ে ওই অঙ্গ ধৌত না করলে অজু শুদ্ধ হয় না।
  • আপনার অবস্থায় সম্ভবত অজুর সময়ই নাপাক পানি লেগেছে। তাই অজু সম্পন্ন হওয়ার আগে যদি সেই নাপাকি দূর না করেন, তাহলে অজু বাতিল হয়েছে।

৩. নামাজের বিধান

  • নামাজ পড়ার সময় আপনার শরীর বা কাপড়ে নাপাকি লেগে থাকলে (যা এক দিরহাম পরিমাণ বা তার বেশি) এবং তা সম্পর্কে আপনি অজ্ঞ ছিলেন, কিন্তু পরে জানতে পেরেছেন, তাহলে হানাফী মতে সেই নামাজ পুনরায় পড়তে হবে (ফাতাওয়া উসমানী, ২/২৩৭; ইমদাদুল ফাতাওয়া, ১/১৯২)।
  • এখানে নাপাকির পরিমাণ সম্ভবত এক দিরহামের বেশি (প্রায় ৩.৫ সেমি ব্যাস) হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই আপনি যেসব নামাজ সেদিন পড়েছেন (বিশেষ করে ওই অজু সহকারে পড়া নামাজ) সেগুলো পুনরায় পড়ে নিন
  • তবে যদি নাপাকি এক দিরহামের কম হয় এবং তা অজ্ঞাত ছিল, তাহলে নামাজ শুদ্ধ হবে (রদ্দুল মুহতার, ১/৩৩৪)। কিন্তু এখানে অনিশ্চয়তার কারণে সতর্কতা হিসেবে পুনরায় পড়াই উত্তম।

৪. দরজার জায়গা ও জুতা পবিত্র করা

  • যে জায়গায় প্রস্রাব হয়েছিল, সেটি পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে (বিশেষ করে যদি জায়গাটি পাকা বা টালি হয়)। মাটি হলে তিনবার পানি ঢেলে দিলেই পবিত্র হবে।
  • জুতার তলা ভালোভাবে পানি দিয়ে ধুয়ে নিন। জুতার ওপরের অংশে প্রস্রাব না লাগলে শুধু তলা ধৌত করাই যথেষ্ট।

৫. ভবিষ্যৎ সতর্কতা

  • অজু করার সময় নাপাক জিনিস হাতে না নেওয়াই উত্তম। প্রয়োজনে আগে হাত-পা ভালোভাবে ধুয়ে তারপর অজু করুন।
  • বাচ্চাদের দুষ্টামির কারণে বাড়ির দরজা ও আশপাশ নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখুন।

সারসংক্ষেপ:
আপনার অজু ও নামাজ পুনরায় আদায় করা আবশ্যক, কারণ নাপাক পানি অজু ও নামাজকে অশুদ্ধ করে দিয়েছে। দরজার জায়গা এবং জুতাও পবিত্র করে নিন। আল্লাহ অধিক জানেন।

রেফারেন্স:

  • ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ১/৪১, ১/২৬
  • রদ্দুল মুহতার, ১/৩৩০, ১/৩৩৪
  • ফাতাওয়া উসমানী, ২/২৩৭
  • ইমদাদুল ফাতাওয়া, ১/১৯২
  • বাহিশতি জেওর (হানাফী)

This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.