Halal haram

Halal and Haram · Hanafi

Question No: 5840
Questioner: Masuma 2231
Question Asked: 23 Sep 2026, 12:41 AM
Reviewed & Published: 23 Sep 2026, 03:04 AM
Views: 12
Tokens: 4,020
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আমি একজন ডাক্তার। আমি নিয়মিত চেম্বার প্রাকটিস করি। আমি যদি কোনো ঔষধ কোম্পানিতে ১ লাখ টাকা বিনিয়োগ করি এবং রোগীর প্রয়োজনীয় ঔষধ লিখি ঐ কোম্পানির। সেখান থেকে কোম্পানির লোক আমার লেখা ঔষধ অনুসারে যদি লভ্যাংশ দেয়, তাহলে সেটা আমার জন্য হালাল হবে কিনা?

Answer

প্রশ্ন: ঔষধ কোম্পানিতে বিনিয়োগ ও প্রেসক্রিপশনে সেই কোম্পানির ঔষধ লেখার বিনিময়ে লভ্যাংশ গ্রহণ করা কি হালাল?

উত্তর:

সংক্ষেপে বলতে গেলে — এই পদ্ধতিতে লভ্যাংশ গ্রহণ করা হালাল নয়। কারণ এতে একদিকে ঘুষ (রিশওয়াত)-এর সাদৃশ্য রয়েছে, অন্যদিকে আমানত ও পেশাগত দায়িত্বের খেয়ানত এবং রোগীর সাথে প্রতারণা-র উপাদান বিদ্যমান। নিচে বিস্তারিত দলিলসহ আলোচনা করা হলো।


১. মূল সমস্যাটি কী?

আপনি ডাক্তার হিসেবে রোগীর চিকিৎসার দায়িত্বে আছেন। রোগীর স্বার্থে সবচেয়ে উপযুক্ত, প্রয়োজনীয় ও সাশ্রয়ী ঔষধ লেখা আপনার পেশাগত ও নৈতিক দায়িত্ব। কিন্তু যখন আপনি কোনো নির্দিষ্ট কোম্পানিতে বিনিয়োগ করেন এবং সেই কোম্পানির ঔষধ লেখার বিনিময়ে লভ্যাংশ/কমিশন পান, তখন আপনার প্রেসক্রিপশনের সিদ্ধান্ত রোগীর স্বার্থ দ্বারা নয়, বরং নিজের আর্থিক লাভ দ্বারা প্রভাবিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। এটিই শরীয়তের দৃষ্টিতে নিষিদ্ধ হওয়ার মূল কারণ।


২. ঘুষ (রিশওয়াত) হিসেবে গণ্য হওয়ার দিক

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

«لَعَنَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ الرَّاشِي وَالْمُرْتَشِي»

"রাসূলুল্লাহ ﷺ ঘুষদাতা ও ঘুষগ্রহীতার উপর লানত করেছেন।" — সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৩৫৮০; সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ১৩৩৭; সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ২৩১৩

ইমাম ইবনে আবিদিন (রহ.) রাদ্দুল মুহতার-এ উল্লেখ করেন:

"ঘুষ হলো সেই সম্পদ, যা কোনো কাজ সম্পাদনের বিনিময়ে বা কোনো অধিকার হাসিলের জন্য দেওয়া হয়, যেখানে উক্ত কাজটি করা বা অধিকারটি দেওয়া মূলত দায়িত্ব বা বাধ্যতামূলক।" — রাদ্দুল মুহতার, খণ্ড ৫, পৃ. ৩৬২ (কিতাবুল কাদা)

এখানে আপনার প্রেসক্রিপশন লেখা একটি পেশাগত দায়িত্ব। এই দায়িত্ব পালনের বিনিময়ে কোম্পানি থেকে লভ্যাংশ নেওয়া ঘুষের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে।


৩. আমানত ও খেয়ানতের দিক

আল্লাহ তা'আলা বলেন:

إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُكُمْ أَن تُؤَدُّوا الْأَمَانَاتِ إِلَىٰ أَهْلِهَا

"নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদেরকে আদেশ দিচ্ছেন যে, আমানতসমূহ তার হকদারদের কাছে প্রত্যর্পণ করো।" — সূরা আন-নিসা: ৫৮

রোগীর শরীর, স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা আপনার কাছে আমানত। এই আমানতের খেয়ানত করা হারাম। রাসূল ﷺ বলেছেন:

«مَنْ غَشَّنَا فَلَيْسَ مِنَّا»

"যে ব্যক্তি আমাদের সাথে প্রতারণা করে, সে আমাদের দলভুক্ত নয়।" — সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১০১

যদি আপনি রোগীর প্রয়োজন না থাকা সত্ত্বেও বা কম উপযুক্ত ঔষধ থাকা সত্ত্বেও শুধু লভ্যাংশের লোভে নির্দিষ্ট কোম্পানির ঔষধ লেখেন, তবে তা রোগীর সাথে প্রতারণা ও আমানতের খেয়ানত।


৪. ফকীহদের অভিমত

ফাতাওয়া আলমগিরি-তে উল্লেখ আছে:

"যে ব্যক্তি কোনো কাজের বিনিময়ে এমন কিছু গ্রহণ করে, যা তার প্রাপ্য নয়, তা ঘুষ। আর ঘুষ হারাম।" — ফাতাওয়া আলমগিরি, খণ্ড ৩, পৃ. ৩২৭

ফাতাওয়া উসমানি-তে মুফতি তাকি উসমানি (দা.বা.) বলেন:

"ডাক্তার কর্তৃক ঔষধ কোম্পানি থেকে কমিশন বা লভ্যাংশ গ্রহণ করা — যদি তা নির্দিষ্ট কোম্পানির ঔষধ লেখার শর্তে হয় — তবে তা ঘুষ ও হারাম। হ্যাঁ, যদি কোম্পানিতে বিনিয়োগ হয় শুধু ব্যবসায়িক অংশীদারিত্ব হিসেবে এবং প্রেসক্রিপশন লেখার সাথে তার কোনো সম্পর্ক না থাকে, তবে তা জায়েজ হতে পারে।" — ফাতাওয়া উসমানি, খণ্ড ৩, পৃ. ৪২১-৪২২ (ইসলামি ব্যাংক ও বীমা অধ্যায়)

ইমদাদুল ফাতাওয়া-তে হাকিমুল উম্মত আশরাফ আলী থানভি (রহ.) বলেন:

"উপহার বা কমিশন, যা কোনো নির্দিষ্ট কাজের শর্তে দেওয়া হয় এবং যা গ্রহণকারীর জন্য কর্তব্য কাজের ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলে, তা ঘুষের অন্তর্ভুক্ত।" — ইমদাদুল ফাতাওয়া, খণ্ড ৪, পৃ. ৩২৪


৫. হালাল হওয়ার শর্ত

যদি নিম্নলিখিত শর্তগুলো পূর্ণ হয়, তবে ভিন্ন কথা:

  1. বিনিয়োগ শুধু ব্যবসায়িক অংশীদারিত্ব হিসেবে — অর্থাৎ আপনি কোম্পানির শেয়ারহোল্ডার বা অংশীদার, এবং লভ্যাংশ আপনার বিনিয়োগের অনুপাতে কোম্পানির সার্বিক মুনাফা থেকে আসে।
  2. প্রেসক্রিপশন লেখার সাথে লভ্যাংশের কোনো শর্ত বা সংযোগ না থাকে — অর্থাৎ আপনি কোম্পানির ঔষধ লেখেন কিনা, তা লভ্যাংশের পরিমাণকে প্রভাবিত না করে।
  3. রোগীর স্বার্থ সর্বোচ্চ প্রাধান্য পায় — আপনি সবসময় রোগীর জন্য সর্বোত্তম, প্রয়োজনীয় ও সাশ্রয়ী ঔষধ লেখেন, কোম্পানির লাভের কথা চিন্তা না করে।
  4. কোম্পানির ব্যবসা হালাল হয় — ঔষধ উৎপাদন ও বিক্রয় হালাল ব্যবসা, তবে কোম্পানির আয়ের উৎস হারাম (যেমন সুদ, মদ, জুয়া) না হওয়া জরুরি।

কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, ঔষধ কোম্পানিগুলো ডাক্তারদের কমিশন/লভ্যাংশ দেয় প্রেসক্রিপশনে তাদের ঔষধ লেখার শর্তে। তাই সাধারণত এই লেনদেন হালাল হয় না।


৬. বিকল্প পন্থা

  • আপনি চাইলে কোম্পানিতে শুধু বিনিয়োগ করতে পারেন, তবে প্রেসক্রিপশনে সেই কোম্পানির ঔষধ লেখার কোনো শর্ত ছাড়া। লভ্যাংশ আসবে কোম্পানির সার্বিক মুনাফা থেকে, আপনার বিনিয়োগের অনুপাতে।
  • অথবা কোম্পানির সাথে শুধু ব্যবসায়িক অংশীদারিত্ব (মুশারাকা/মুদারাবা) চুক্তি করতে পারেন, যেখানে আপনার ডাক্তারি পেশা সম্পূর্ণ আলাদা থাকবে।
  • রোগীর স্বার্থে সর্বদা নিরপেক্ষ ও সর্বোত্তম চিকিৎসা নিশ্চিত করুন।

সারসংক্ষেপ

| বিষয় | বিধান | |------|------| | প্রেসক্রিপশনে নির্দিষ্ট কোম্পানির ঔষধ লেখার শর্তে লভ্যাংশ গ্রহণ | হারাম (ঘুষ ও খেয়ানত) | | শুধু ব্যবসায়িক বিনিয়োগ, প্রেসক্রিপশনের সাথে সম্পর্কহীন | জায়েজ (শর্তসাপেক্ষে) | | রোগীর স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে লভ্যাংশের লোভে ঔষধ লেখা | হারাম ও গুনাহ |

পরামর্শ: আপনি যদি কোম্পানিতে বিনিয়োগ করতে চান, তবে তা করুন শুধু ব্যবসায়িক অংশীদারিত্ব হিসেবে, এবং প্রেসক্রিপশন লেখার ক্ষেত্রে কোম্পানির সাথে কোনো শর্ত বা চুক্তি রাখবেন না। আর যদি কোম্পানি প্রেসক্রিপশনের শর্তে লভ্যাংশ দেয়, তবে সেই লভ্যাংশ গ্রহণ থেকে বিরত থাকুন এবং তা সদকা করে দিন।


والله أعلم بالصواب



This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.