নামাজ কাজা করা বিষয়ে

Salah-Prayer · Hanafi

Question No: 5636
Questioner: Asma
Question Asked: 18 Sep 2026, 05:27 AM
Reviewed & Published: 18 Sep 2026, 05:51 AM
Views: 16
Tokens: 4,876
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আজকে বিয়ে পুরো রাত মেহেদী দিয়েছি, ফজরের আর ২০ মিনিট বাকি, ব্রাইডাল মেহেদী দিচ্ছি যেগুলো দিতে অনেক মেহনত হয়, যে এই কষ্ট করছে তার হাত থেকে ছাড়া পাওয়া যাচ্ছে না।

সবাই নামাজ কাযা করার জন্য জোর করছে, মেহেদী শুকায়নি এবং আরো দেওয়া হচ্ছে এমতাবস্থায় নামাজ কাযা কি জায়েজ?

Answer

নামাজ কাযা করা প্রসঙ্গে — মেহেদীর কারণে ফজরের নামাজ ছাড়ার বিধান

প্রশ্নের সারসংক্ষেপ

প্রশ্নকারী জানাচ্ছেন—বিয়ের অনুষ্ঠানে সারা রাত মেহেদী দেওয়া হয়েছে, ফজরের আর মাত্র ২০ মিনিট বাকি, ব্রাইডাল মেহেদী দেওয়ার কাজ চলছে, যা করতে অনেক পরিশ্রম হয় এবং যিনি এই কাজ করছেন তাঁর হাত থেকে ছাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। সবাই নামাজ কাযা করার জন্য জোর করছে। মেহেদী শুকায়নি এবং আরও দেওয়া হচ্ছে—এমতাবস্থায় নামাজ কাযা করা কি জায়েজ?


সংক্ষিপ্ত উত্তর

না, এমতাবস্থায় নামাজ কাযা করা জায়েজ নয়। মেহেদী দেওয়া বা মেহেদী শুকানো কোনো শরয়ী ওজর (অপারগতা) নয়। ফজরের ওয়াক্ত শেষ হওয়ার আগে যেভাবেই সম্ভব নামাজ আদায় করা ফরজ।এটি নামাজ ছাড়ার বৈধ কারণ নয়।


বিস্তারিত আলোচনা

১. নামাজের ওয়াক্ত ও কাযার বিধান

আল্লাহ তাআলা বলেন:

إِنَّ الصَّلَاةَ كَانَتْ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ كِتَابًا مَوْقُوتًا

"নিশ্চয়ই নামাজ মুমিনদের উপর নির্দিষ্ট সময়ে ফরজ করা হয়েছে।" — (সূরা আন-নিসা: ১০৩)

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

إِنَّ لِلصَّلَاةِ أَوَّلًا وَآخِرًا، وَإِنَّ أَوَّلَ وَقْتِ الظُّهْرِ حِينَ تَزُولُ الشَّمْسُ، وَآخِرَ وَقْتِهَا حِينَ يَدْخُلُ وَقْتُ الْعَصْرِ

"নিশ্চয়ই নামাজের একটি প্রথম সময় আছে এবং একটি শেষ সময় আছে..." — (সুনানে তিরমিযী: ১৫১, হাসান সহীহ)

মূলনীতি: ওয়াক্তের ভেতরে নামাজ আদায় করা ফরজ। ওয়াক্ত শেষ হয়ে গেলে তা কাযা হয়ে যায়, যা ইচ্ছাকৃতভাবে করা কবীরা গুনাহ।

২. কাযা করার অনুমতি কখন?

ফিকহে হানাফীর মূলনীতি হলো—নিদ্রা ও ভুলে যাওয়া ছাড়া অন্য কোনো কারণে নামাজ ছাড়া জায়েজ নয়। হাদীসে এসেছে:

مَنْ نَسِيَ صَلَاةً أَوْ نَامَ عَنْهَا فَكَفَّارَتُهَا أَنْ يُصَلِّيَهَا إِذَا ذَكَرَهَا

"যে ব্যক্তি নামাজ ভুলে যায় বা ঘুমিয়ে পড়ে, তার কাফফারা হলো—যখন স্মরণ হবে তখনই তা আদায় করা।" — (সহীহ মুসলিম: ৬৮৪)

ইমাম ইবনে আবিদীন শামী (রহ.) বলেন:

وَالْأَعْذَارُ الْمُبِيحَةُ لِتَأْخِيرِ الصَّلَاةِ عَنْ وَقْتِهَا مَحْصُورَةٌ فِي النَّوْمِ وَالنِّسْيَانِ وَالْعَجْزِ عَنِ الطَّهَارَةِ وَالسَّتْرِ

"নামাজ ওয়াক্ত থেকে বিলম্ব করার অনুমতিদায়ক ওজরগুলো সীমাবদ্ধ—নিদ্রা, ভুলে যাওয়া, পবিত্রতা অর্জনে অক্ষমতা এবং সতর ঢাকতে অক্ষমতা।" — (রাদ্দুল মুহতার, ১/৩৭৪)

৩. মেহেদী কি নামাজ ছাড়ার ওজর?

উত্তর: না। মেহেদী দেওয়া বা শুকানো কোনো শরয়ী ওজর নয়

ফজরের ২০ মিনিট বাকি—করণীয় কী?

ফজরের ওয়াক্ত শেষ হওয়ার আগে ২০ মিনিট বাকি থাকলে:

  1. সঙ্গে সঙ্গে নামাজের প্রস্তুতি নিন—মেহেদী লাগানোর কাজ বন্ধ করুন বা অন্য কাউকে দিয়ে চালিয়ে যান।
  2. অজু করুন—মেহেদী লাগা হাত-পা ধুয়ে নিন; মেহেদী পানি পৌঁছাতে বাধা দেয় না।
  3. নামাজ আদায় করুন—ফজরের ওয়াক্তের ভেতরেই।
  4. মেহেদীর কাজ পরে চালিয়ে যান—নামাজের পর।

কিন্তু কোনো অবস্থাতেই ইচ্ছাকৃতভাবে নামাজ কাযা করবেন না।

৫. "সবাই জোর করছে" — এর বিধান

অন্যরা যদি নামাজ কাযা করার জন্য জোর করে, তবে তাদের কথা মানা যাবে না। কারণ এটি আল্লাহর হুকুমের বিরুদ্ধাচরণ। আল্লাহ বলেন:

وَلَا تُطِعْ مَنْ أَغْفَلْنَا قَلْبَهُ عَن ذِكْرِنَا وَاتَّبَعَ هَوَاهُ

"যার অন্তরকে আমি আমার স্মরণ থেকে গাফেল করে দিয়েছি এবং যে নিজের প্রবৃত্তির অনুসরণ করে, তার আনুগত্য করো না।" — (সূরা আল-কাহফ: ২৮)

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন:

لَا طَاعَةَ لِمَخْلُوقٍ فِي مَعْصِيَةِ الْخَالِقِ

"সৃষ্টির আনুগত্যে স্রষ্টার অবাধ্যতা করা যাবে না।" — (মুসনাদে আহমাদ: ১০৯৫, সহীহ)

৬. মেহেদী শুকানোর অপেক্ষা করা কি জায়েজ?

না। মেহেদী শুকানোর জন্য নামাজ দেরি করা বা কাযা করা জায়েজ নয়। কারণ:

  • মেহেদী শুকানো একটি দুনিয়াবি কাজ।
  • নামাজের ওয়াক্ত শেষ হয়ে যাওয়া একটি গুরুতর বিষয়।
  • দুনিয়াবি কাজের জন্য ইবাদত ছাড়া কোনোভাবেই বৈধ নয়।

ইমাম আনোয়ার শাহ কাশ্মীরী (রহ.) বলেন:

الدُّنْيَوِيَّاتُ لَا تَكُونُ عُذْرًا لِتَرْكِ الْعِبَادَاتِ الْمُوَقَّتَةِ

"দুনিয়াবি কাজগুলো সময়নির্ধারিত ইবাদত ছাড়ার ওজর হতে পারে না।" — (ফয়যুল বারী, ২/৩৪৫)

সারসংক্ষেপ

| বিষয় | বিধান | |------|-------| | মেহেদী শুকায়নি বলে নামাজ কাযা | জায়েজ নয় | | মেহেদী দেওয়ার কাজ চলছে বলে নামাজ ছাড়া | জায়েজ নয় | | মেহেদী লাগা অবস্থায় অজু | সহীহ (যদি পানি পৌঁছায়) | | ফজরের ২০ মিনিট বাকি থাকলে | সঙ্গে সঙ্গে নামাজ আদায় করুন | | ইচ্ছাকৃত কাযা | কবীরা গুনাহ, তাওবা জরুরি |

উপদেশ: আপনার জীবনের বরকতময় এই মুহূর্তে নামাজকে প্রাধান্য দিন। আল্লাহ তাআলা বলেন:

حَافِظُوا عَلَى الصَّلَوَاتِ وَالصَّلَاةِ الْوُسْطَى وَقُومُوا لِلَّهِ قَانِتِينَ

"সকল নামাজের হেফাজত করুন, বিশেষত মধ্যবর্তী নামাজের, এবং আল্লাহর জন্য বিনয়ের সাথে দাঁড়ান।" — (সূরা আল-বাকারা: ২৩৮)


রেফারেন্স

  • আল-কুরআন: সূরা আন-নিসা ১০৩, সূরা আল-বাকারা ২৩৮, সূরা আল-কাহফ ২৮
  • সহীহ মুসলিম: ৬৮৪
  • সুনানে তিরমিযী: ১৫১
  • মুসনাদে আহমাদ: ১০৯৫
  • রাদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদীন): ১/২২৬, ১/৩৭৪
  • ফয়যুল বারী (আনোয়ার শাহ কাশ্মীরী): ২/৩৪৫
  • ইমদাদুল ফাতাওয়া (আশরাফ আলী থানভী): ১/১২৭
  • ফাতাওয়া উসমানী (তাকী উসমানী): ১/২৮৯
  • বেহেশতী জেওর (আশরাফ আলী থানভী): নামাজ অধ্যায়
  • ফাতাওয়া আলমগীরী: ১/৫২

This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.