নামাজে সূরা ফাতিহা, দুআ কুনুত বা তাশাহহুদে ভুল হলে কতবার পুনরাবৃত্তি করা যাবে?
Salah-Prayer · Hanafi
Question No:
5633
Questioner:
Md Riad Hossain
Question Asked:
18 Sep 2026, 12:47 AM
Reviewed & Published:
18 Sep 2026, 02:37 AM
Views:
20
Tokens:
5,198
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by
.
Question
নামাজের মধ্যে সূরা ফাতিহা, অন্য কোনো সূরা, বিতরের দোয়া কুনুত, অথবা তাশাহহুদের (আত-তাহিয়্যাত) কোনো অংশ পড়ার সময় যদি আমি কোনো আয়াত, শব্দ বা বাক্যে আটকে যাই বা ভুল হয়ে যায়, তাহলে তা সংশোধন করার জন্য একই আয়াত/শব্দ কতবার পুনরায় পড়া বা রিপিট করা যাবে? নামাজের সহিহ হওয়ার ক্ষেত্রে এর কোনো নির্দিষ্ট সীমা আছে কি?
Answer
নামাজে ভুল হলে সংশোধনের বিধান
প্রশ্নের সারসংক্ষেপ
নামাজের মধ্যে সূরা ফাতিহা, অন্য সূরা, দুআ কুনুত বা তাশাহহুদের কোনো অংশ পড়ার সময় আটকে যাওয়া বা ভুল হলে—সংশোধনের জন্য একই শব্দ/আয়াত কতবার পুনরাবৃত্তি করা যাবে? এর কোনো নির্দিষ্ট সীমা আছে কি?
১. একই আয়াত, শব্দ বা বাক্য পুনরায় পড়া (রিপিট করা)-র শরয়ী হুকুম:
- ভুল সংশোধন বা আটকে যাওয়ার কারণে পুনরাবৃত্তি: নামাজের মধ্যে সূরা ফাতিহা, অন্য কোনো সূরা, তাশাহহুদ (আত-তাহিয়্যাত) কিংবা দোয়া কুনুত পড়ার সময় যদি কোনো শব্দ বা আয়াতে আটকে যান কিংবা ভুল উচ্চারিত হয়ে যায়, তবে তা সংশোধন করার উদ্দেশ্যে ওই শব্দ বা আয়াত পুনরায় পড়া সম্পূর্ণ জায়েয এবং এতে শরীয়তে কোনো বাধা নেই।
- ইচ্ছাকৃত পুনরাবৃত্তি (ওজর ছাড়া): কোনো কারণ বা ওজর ছাড়া সাধারণ অবস্থায় ফরয নামাজে ইচ্ছে করে একই আয়াত বারবার পড়া অপছন্দনীয় (মাকরুহ); তবে ভুল শুধরানো, ভুলে যাওয়া বা আটকে যাওয়ার কারণে রিপিট করা মাকরুহ নয়—বরং এটি 'ফলা বা'সা' (কোনো অসুবিধা নেই) এর অন্তর্ভুক্ত।
নামাজে সূরা ফাতেহা ও অন্য সূরা মেলানো: বিধান ও সাহু সিজদা 📌 মৌলিক ওয়াজিবসমূহ
- সূরা ফাতেহা পাঠ: ফরয নামাযের প্রথম দুই রাকাতে এবং নফল ও সুন্নত নামাযের প্রতি রাকাতে পূর্ণ সূরা ফাতেহা একবার তিলাওয়াত করা ওয়াজিব।
- সূরা মেলানো: ফাতেহার সাথে ছোট ৩টি আয়াত বা বড় ১টি আয়াত পরিমাণ অন্য সূরা মেলানো ওয়াজিব। ⚠️ সাহু সিজদা ওয়াজিব হবে (সূরা মেলানোর পূর্বে ভুল হলে) নিচের যেকোনো একটি ঘটলে সাহু সিজদা ওয়াজিব হবে—
- পূর্ণ সূরা ফাতেহা দুইবার তিলাওয়াত করা হলে।
- একবার পড়ার পর ফাতেহার ৩টি আয়াত বা যেকোনো ১টি আয়াত তিনবার তিলাওয়াত করা হলে। ✅ সাহু সিজদা ওয়াজিব হবে না (সূরা মেলানোর পরে ভুল হলে)
- সূরা মেলানোর পরে যদি পুনরায় সূরা ফাতেহা পড়া হয়, তবে সাহু সিজদা ওয়াজিব হবে না।
💡 সংক্ষেপে মনে রাখার নিয়ম:
- আগে ফাতেহা পুনরাবৃত্তি = ⚠️ সাহু সিজদা ওয়াজিব।
- পরে (সূরা মেলানোর পর) ফাতেহা পড়া = ✅ সাহু সিজদা ওয়াজিব নয়।
২. রিপিট করার কি কোনো নির্দিষ্ট সীমা আছে এবং এতে নামাজ সহীহ হবে কি?
- কোনো নির্দিষ্ট সীমা নেই: ভুল সংশোধন বা সঠিক উচ্চারণ বজায় রাখার জন্য একই শব্দ বা আয়াত কতবার রিপিট করা যাবে—এর জন্য শরীয়তে কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যাগত সীমা (যেমন: ৩ বার বা ৫ বার) নির্ধারিত নেই । প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক না হওয়া পর্যন্ত পুনরায় পড়ে নেওয়া যাবে।
- নামাজ সহীহ হওয়া: আটকে যাওয়ার দরুন একই আয়াত বা বাক্য সংশোধন করে একাধিকবার রিপিট করার কারণে নামাজ সম্পূর্ণ সহীহ থাকবে; নামাজের কোনো ক্ষতি হবে না বা নামাজ বাতিল হবে না।
৩. সেজদায়ে সাহু ওয়াজিব হবে কি না?
- সাধারণত সেজদায়ে সাহু লাগে না: কেবল আটকে যাওয়ার কারণে সঠিক শব্দ বা আয়াত পুনরায় উচ্চারণ বা রিপিট করার জন্য সেজদায়ে সাহু ওয়াজিব হয় না।
- কখন সেজদায়ে সাহু ওয়াজিব হতে পারে: যদি আটকে যাওয়ার পর পরবর্তীতে কী পড়বেন তা চিন্তা করতে গিয়ে বা সিদ্ধান্ত নিতে গিয়ে এক রুকন পরিমাণ সময় (অর্থাৎ অন্তত ৩ বার ‘সুবহানাল্লাহ’ বলা যায় এমন দীর্ঘ সময়) চুপ থেকে বিলম্ব ঘটান, তবে এই দীর্ঘ বিলম্বের (তা'খীর) কারণে সেজদায়ে সাহু দেওয়া ওয়াজিব হবে। কিন্তু সাথে সাথে বা সামান্যতম বিরতিতে সঠিক শব্দ মনে পড়ে গেলে এবং তা রিপিট করে পড়ে নিলে কোনো সেজদায়ে সাহু লাগবে না।
সংযুক্ত কিতাব, ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বর:
১. ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (৭ম খণ্ড):
- পৃষ্ঠা: ৯৫ ও ৯৮ (অধ্যায়: বাবুল কিরাত — নামাজে ওজর ও ভুলের কারণে এক আয়াত বা শব্দ বারবার রিপিট করার হুকুম এবং নামাজ সহীহ হওয়ার বিবরণ)।
২. ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (১ম খণ্ড):
- পৃষ্ঠা: ২১২–২১৩ (অধ্যায়: সালাত, কিরাত অনুচ্ছেদ — ভুল সংশোধন করে পুনরায় কিরাত পড়ার নিয়ম)।
- পৃষ্ঠা: ৩১৪ ও ৩২০ (অধ্যায়: সেজদায়ে সাহু ও সন্দেহের বিবরণ — ভুল সংশোধন ও চিন্তাভাবনায় বিলম্বের ফিকহী বিধান)।
৩. নূরুল ঈযাহ:
- পৃষ্ঠা: ৯১–৯২ (পরিচ্ছেদ: জাল্লাতুল ক্বারী/কেরাতের ভুল-ভ্রান্তি — শব্দ ও অর্থ সংশোধন সংক্রান্ত ফিকহী নীতিমালা)।
- পৃষ্ঠা: ১৩৭ (অনুচ্ছেদ: সাহু সিজদার বিবরণ — দীর্ঘ চিন্তা-ভাবনায় বিলম্ব হলে সাহু সিজদা ওয়াজিব হওয়ার নিয়ম)।
আল্লাহ সর্বজ্ঞ।